Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ আবারও পেছালো যে কোনো মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীর ফের রিমান্ডে ৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ সাংহাইয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ

মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাঁশ শিল্পের কারীগররা

ওমর আলী বাবু

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


প্লাস্টিকের ভীরে বাঁশের তৈরী তৈজসপত্রের চাহিদা দিন দিন কমে গেছে। পূর্ব পুরুষের এ পেশায় একসময় বেশ ভালোভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন জয়পুরহাটের মাহালী পরিবার গুলো। বর্তমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন কাটাচ্ছে তারা। একদিকে বাঁশের দাম বেশি অন্যদিকে চাহিদা ও পণ্যের দাম কম থাকায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে । প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা আশ্বাস সংশ্লিষ্ঠদের।

 

 

জয়পুরহাটের বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে হাজার হাজার মাহালী পরিবার একসময় বাঁশের  মাচা, মই, মাদুর, ঘর, ঝুড়ি, ফাঁদ, মাছ ধরার চাঁই, জুইতা, বাঁশের দোচালা, চারচালা ও আটচালা ঘর, বাঁশের বেড়া, ঝাপ, বেলকি, দরমা, বর্শা, ঢাল, লাঠি, তীর, ধনুক ও বল্লম ছাইদানি, ফুলদানি, প্রসাধনী বাক্স, ছবির ফ্রেম, আয়নার ফ্রেম,  কলম কাল্লোং, বারেং, পুল্লেং, ডুল, কুলা, ডুলা, লেই, তলই, সেরি, তেরা চেই, বিজন, খারাং, মারাল্লে, দোলনা, সাম্মো কুলা, ঝুড়ি ,টোপা, মাথল, চাটাই, শরপোস, চাঙ্গারী,  ডালি ,খলই, চালুন, সহ আরো অনেক কিছু তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করত।

 

 

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদশা মাহালি পাড়ায়, খঞ্জনপুর মাহালী পাড়া, পাচবিবি উপজেলার দমদমা ও আয়মা রসুলপুরের মাহালী সম্প্রদায় সহ জেলা বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের কয়েক হাজার  নারী ও পুরুষেরা এসব বাশের তৈরী জিনিস পত্র করতেন ও সেগুলো স্থানীয়রা ব্যাবহার করতেন, তাদের ব্যাবসা  ভালো চলত। কিন্তু ধীরে ধীরে কালের বিবর্তনে প্লাস্টিক ও অনন্য জিনিস পত্রের ব্যাবহার ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধিতে তাদের ব্যাবসা ধস একেবারেই মন্দা। পূর্ব পুরুষের এ পেশা ছেড়েও দিতে পারছেন না, আবার অন্য পেশায় যেতেও পারছেন না। আবার অনেকে চলে গেছে অন্য পেশায়। অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারের সহযোগীতা চান তারা।

 

 

জয়পুরহাটের খঞ্জনপুর ও ভাদশার মাহালী পাড়ার সুবাস চন্দ্র, ধীরেন, রতন, জগেস,নিরেন,সুশান্ত পাচবিবির  দমদমা ও আগাইড় গ্রামের সুরেন্দ, খগেন, পরিতস,বিমল চন্দ্র জানান, একটি বাশ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, সেই বাশ দিয়ে ২ দিনে তৈরী করি দুটি চাঙ্গারি, সে দুটি চাঙ্গারি বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। তাহলে আমাদের মজুরি কোথায় লাভ কোথায়। প্লাষ্টিক ও অনন্য জিনিস পত্র ব্যাবহার বেশি হওয়ায় আমাদের বাশের তৈরী জিনিস বিক্রি ঠিকমতো হয় না। আমরা অনেকে এখন ঠিক মতো খাইতেও পারিনা খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। বারে বারে সাংবাদিকেরা আসে কিন্তু কোনো লাভ ই হয় না। সরকার ত আমাদের সহযোগীতা করেনা।

 

 

ভাদশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বাধীন বলেন, আমাদের এলাকায় প্রচুর মানুষ বাশের তৈরী এ শিল্পে যুক্ত ছিলো কিন্তু বর্তমানে এসবের ব্যাবহার কমে যাওয়ায় তারা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। সরকারী ভাবে কোনো সাহায্য সহযোগিতা আসলে আমরা তা করে থাকি । তবে এ শিল্পেকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের আরো বেশি সাহায্য সহযোগীতা করা দরকার।

 

 

পাচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এ বাশের শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষন দিয়েছি এবং সরকারী সাহায্য পেলেই তাদের উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।

 

জয়পুরহাট বিসিক শিল্পনগরী উপ ব্যাবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষন ও তারা চাইলে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর