ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮

ব্রেকিং:
পরীমণির অভিযোগ গ্রহণ করেছে পুলিশ করোনায় রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১২ জনের মৃত্যু রাঙামাটিতে বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
সর্বশেষ:
নেইমারময় জয় দিয়েই কোপা শুরু ব্রাজিলের দিনাজপুরে ৭ দিনের লকডাউন টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ভারতকে টপকে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড

মারা গেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১  

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ছবি- সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ছবি- সংগৃহীত।

 

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনেক দিন ধরেই বুদ্ধদেব কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন, চলছিল ডায়ালাইসিস। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ছিল বার্ধক্যজনিত সমস্যা।

 

বৃহস্পতিবার নির্মাতার ডায়ালাইসিস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোরবেলা স্ত্রী সোহিনী দাশগুপ্ত দেখেন, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। পরে তারা নিশ্চিত হন, বুদ্ধদেব মারা গেছেন।  

 

এ নির্মাতার পরিচালনায় অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের রাইসুল ইসলাম আসাদ (উত্তরা) ও গুলশান আরা চম্পা (লাল দরজা)। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র জগতে।

 

পরিচালক গৌতম ঘোষের বলেন, “বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। ভাবতে পারছি না। ওর আর আমার একসঙ্গে শুরু। আমাকে জোর করে অভিনয় করিয়েছিল। অনেক স্মৃতি ওর সঙ্গে। সবটাই সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

 

পরিচালক অনীক দত্ত বলেন, “শেষ কথা হয়েছিল আমার শেষ ছবির সময়। দেখা হয়েছিল বহুদিন আগে। শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। উনিই একজন যিনি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ দেখে বলেছিলেন, আগের ছবির থেকে এটা ভালো হয়েছে। কলেজজীবনে যাদের কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করত, তাদের মধ্যে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত অন্যতম। অত্যন্ত বড় মাপের মানুষ।”

সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন তরুণ মজুমদার বলেন, “খুবই বড় ক্ষতি। আমি হতবাক।”

 

১৯৪৪ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার আনারা গ্রামে জন্ম বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের। বাবা ছিলেন রেলের চিকিৎসক। তাই ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

 

অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে বুদ্ধদেবের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। তবে উৎসাহ ছিল ফিল্ম সংক্রান্ত পড়াশোনাতেও। ১৯৬৮ সালে তথ্যচিত্র তৈরি করে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয়েছিল তার।

 

১৯৭৮-এ প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘দূরত্ব’ পরিচালনা করে জাতীয় পুরস্কারের শিরোপা পেয়েছিলেন তিনি। এরপর নিম অন্নপূর্ণা, গৃহযুদ্ধ, বাঘ বাহাদুর, তাহাদের কথা, চরাচর, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান-সহ একের পর এক উল্লেখযোগ্য ছবি।

 

বুদ্ধদেব পরিচালিত বাঘ বাহাদুর, চরাচর, লাল দরজা, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান, কালপুরুষ ভারতের জাতীয় পুরস্কার পায়। পরিচালক হিসেবেও দুইবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। দেশের বাইরে বিদেশেও একাধিক সম্মান পেয়েছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসা পেয়েছে তার ছবি।

এই বিভাগের আরো খবর