Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ০৩ জুন ২০২৩,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪৩০

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
রাজধানীতে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা কানাডা প্রবাসী নারীর মরদেহ উদ্ধার পে-স্কেল না হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এরদোয়ানের ফোন বিএনপি নেতা খায়রুল কবিরের বাড়িতে আগুন নাইজেরিয়ার কাছে হেরে বিদায় স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিদ্যুতের ঘাটতি ৩০০০ মেগাওয়াট, সারা দেশে লোডশেডিং

মে দিবস : দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভের সনদ

মো: আসাদুজ্জামান

প্রকাশিত: ১ মে ২০২৩  

মো: আসাদুজ্জামান।

মো: আসাদুজ্জামান।


রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,  
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,  
বল ত এসব কাহাদের দান ! তোমার অট্টালিকা  
কার খুনে রাঙা ?-ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি হঁটে আছে লিখা-

বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুলের বিখ্যাত কবিতা কুলি-মজুর কবিতার ক'টা লাইন দিয়ে শুরু করছি আমার লেখাটি।

 

শ্রমিকদের রক্তে রাঙা বিশ্বব্যাপী পালিত মে মাসের প্রথম দিনটি ঐতিহাসিক ‘মে দিবস’ নামে পরিচিত। শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে  শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতি অবিচারের অবসান ঘটাবার সুতিকাগার বলা হয় মে দিবসকে।

 

তাদের (শ্রমিকদের) শ্রমের কোনো সময় নির্ধারণ করা ছিল না। কলকারখানার যন্ত্রের মতো অবিরাম চলার নামই যেন "শ্রমিক"। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে ১৬-১৮ ঘণ্টার শ্রম আদায় করে নিত, যা স্বভাবতই শ্রমিকরা  মেনে নিতে পারতো না। এক সময় শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে বাধভাঙ্গা প্রতিবাদ গড়ে তুললো।

 

তাদের (শ্রমিকদের) এই প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বিপ্লবে পরিণত হলো । ১৮৮০ সালে প্রথম আমেরিকার শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এরপর ১৮৮৬ সালে  তাদের দাবি কার্যকর না হওয়ায়, সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক তাদের কাজ ফেলে ঐদিন (১ মে) রাস্তায় নেমে আসে। শ্রমিক নেতা জোয়ান মোস্ট, আগস্ট স্পীজ, লুই লিং-এর নেতৃত্বে ১ মে শিকাগোতে তারা মহা-সমাবেশের মাধ্যমে ব্যাপক আন্দোলন, বিক্ষোভ গড়ে তোলে। এসময় পুলিশের গুলিতে বেশ কিছু শ্রমিক হতাহত হলে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক অধিকার। মে দিবস তাই যেন একটি প্রতিবাদের সনদ।

 

শ্রমিক নেতাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মে দিবসকে আর্ন্তজাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রথম বারের মতো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে রক্তঝরা মে দিবস। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৮৯০ সালের ১ মে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক মে দিবস পালন করা হয়। সেই থেকে আজ অবধি মে দিবস সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে মহান মে দিবস হিসেবে।

 

শ্রমিকদের রক্তঝরা আন্দোলনের প্রভাবে দৈনিক কাজের সময় ১৬ কিংবা ১৮ ঘণ্টা থেকে নেমে আসে ৮ ঘণ্টায়। বিশ্বের সব দেশের শ্রমিকরা এর মাধ্যমে তাদের শ্রমের উপযুক্ত মর্যাদা পেতে শুরু করে। যার সুফল আজও ভোগ করছে গোটা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষেরা।

 

মে দিবস হচ্ছে গোটা শ্রমজীবী সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচনা করার দিন। যখন শ্রেণিবৈষম্যের বেঁড়াজালে শ্রমিকদের  জীবন শিকল বন্দি ছিল তখন মে দিবস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খুলে যায় তাদের শিকল। যার ফলশ্রুতিতে   দূর হলো সমাজের শ্রেণিবৈষম্য। পুঁজিবাদীদের বিষ দংশন থেকে রেহাই পেল  শ্রমিক। বৈষম্য ও শোষণমুক্ত একটি সমাজ গোটা বিশ্বকে উপহার দিল এই মে দিবস।

 

তাই মে দিবসকে বলা যায় পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে শ্রমিকদের মুক্তি লাভের সনদ।

 

সে সময় পুজিবাদীরা শ্রমিকদেরকে নিজেদের দাস হিসেবে ব্যবহার করার হীন প্রবণতা প্রকাশ করতো। শ্রম বিপ্লবের পর মে দিবস যখন প্রতিষ্ঠা লাভ করলো তখন এই দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটলো কিছুটা। মহান মে দিবসের ফলে পরবর্তীতে কোনো পুঁজিবাদী যেনো শ্রমিকদের সাথে দাসত্বমূলক আচরণ করার প্রয়াস পায়না এই ছিল শ্রমিক আন্দোলনের মুলমন্ত্র।

 

১৮৮৬ সালের সেই শ্রম আন্দোলন শ্রেণি বৈষম্য দূর করেছে। তাই মে দিবসের তাৎপর্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সারা পৃথিবীজুড়ে শ্রমিক আন্দোলন ও মুক্তির সংগ্রামের মহান ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মে দিবস।

 

মে দিবস সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী অমানবিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করার মন্ত্র বিশ্ববাসীকে শিখিয়ে দিয়েছে। দাসত্বের বেড়াজাল ভেংগে মুক্তি দিয়েছে এই দিবস।রক্তঝরা সংগ্রামী সেই চেতনার আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরো মানবসমাজ। শ্রমিক শ্রেণির সামনে উন্মোচিত হয়েছে এক নতুন দিগন্ত।

 

১৮৮৯ সালের প্যারিস সম্মেলনে স্বীকৃতির পর থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মে দিবস উদযাপন শুরু হয়। শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে আজকের মে দিবস।

 

আজও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামে, আজও শ্রমিকরা বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করে। আজও মহাজনের চিকন বুদ্ধির কাছে পরাস্ত অসহায় কৃষক। রক্তচোষা মালিকের হিংস্র ধাবায় আজও আক্রান্ত শ্রমিকরা।

 

মহান মে দিবস সব শ্রেণীর মানুষের প্রতিবাদের সনদ। দূর হউক সব অন্যায়, রক্তচক্ষু হিংস্র থাবা থেকে বেরিয়ে আসুক সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ। একটি সুস্থ্য, সুন্দর,  নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ কাজের পরিবেশ হউক সবখানে। এই হউক মে দিবসের অঙ্গিকার।

 

লেখক: ব্যাংকার ও কলাম লেখক।

এই বিভাগের আরো খবর