Berger Paint

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষার ফল ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ কোনো দলকে সমর্থন নয়, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত আরও তিন বছরের সাজা পেলেন অং সান সু চি করতোয়ায় নৌকাডুবি: পঞ্চম দিনের উদ্ধার অভিযান চলছে

রাঙামাটিতে ৩২ ঘণ্টার হরতাল চলছে

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক ঠেকাতে রাঙামাটি শহরে পাহাড়ের বাঙালিভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ডাকা ৩২ ঘণ্টার হরতাল চলছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল চলার কথা বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত।   

 

দেখা গেছে, হরতালের সমর্থনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সমাবেশ করেন।


হরতালের কারণে শহরে সব ধরনের যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ আছে।  

 

সকাল থেকে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। এসময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। হরতালের সমর্থনে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ একাধিক জায়গায় বাধা প্রদান করে।   

 

যারাই জরুরি কাজে বের হয়েছেন তাদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। হরতালের কারণে শহরের একমাত্র গণপরিবহণ সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের সাথে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ। একইসাথে জেলার সাথে উপজেলাগুলোর লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।  

 

হরতালে দায়িত্ব পালন করা রাঙামাটি কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন বলছেন, সকাল থেকে এই পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল চলছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। কোথায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান অভিযোগ করছেন, এই ভূমি কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভূমি অধিকার কেড়ে নিতে ষড়যন্ত্র করছে। কমিশনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই আমরা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।  

 

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে ভূমি কমিশন সংশোধন করা হয়। সেখানে সাত সদস্যরের মধ্যে পাঁচজনই পাহাড়ি। এতে পার্বত্য অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠি বাঙালির কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এই আইনে আপিল করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যার ফলে এই অঞ্চলে বসবাসকারি বাঙালিরা ভূমি হারাবে।

 

ভূমি কমিশনে সকল জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখা, বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরুর আগে ভূমি জরিপ করা, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ভূমি কমিশনের ২০১৬ সালের সংশোধনী বাতিল, দেশের প্রচলিত ভূমি আইনে বিরোধ নিষ্পত্তি, কমিশনের কারণে ভূমিচ্যুতদের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাস জমিতে পুনর্বাসন, ‘তথাকথিত’ রীতিনীতি প্রথার বদলে বিদ্যমান ভূমি আইনের প্রয়োগ ও ইতোপূর্বে বন্দোবস্তি বা কবুলিয়ত পাওয়া কাউকে ভূমির মালিকানা থেকে উচ্ছেদ না করার সাত দফা জানিয়েছে সংগঠনটি।  

 

প্রসঙ্গত, বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি শহরের পার্বত্য জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় ভূমি কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে পার্বত্য ভূমি নিষ্পত্তি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই সভা আহ্বান করেছিল পাহাড়ে ভূমি বিরোধ সমস্যা সমাধানের জন্য পার্বত্য চুক্তি অনুসারে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিশন। ২০০১ সালে পাস হওয়া পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী হয় ২০১৬ সালে। এরপর বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় দৃশ্যত থমকে ছিল কমিশনের কাজ। আইন সংশোধনের পর কমিশন কাজ শুরু করে এবং বিরোধপূর্ণ জমির মালিকদের কাছে দরখাস্ত আহ্বান করে। কিন্তু করোনা সংক্রমণসহ নানান কারণে গত ক’বছর সক্রিয় দেখা যায়নি কমিশনকে। সম্প্রতি আবারো কাজ শুরুর প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে কমিশনকে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে কমিশনের সভা আহ্বান করা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরো খবর