ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮

ব্রেকিং:
ঢাকামুখী মানুষের স্রোত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা গুলিবিদ্ধ
সর্বশেষ:
মেজর সিনহা হত্যার এক বছর আজ টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে পানিবন্দি লাখো মানুষ, ভেসে গেছে ১৭ হাজার চিংড়ির খামার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বিস্ফোরণ, স্ত্রীর পর স্বামীর মৃত্যু

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর আহসানবাগ এলাকার একটি বাসায় বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রীর পর অটোরিকশাচালক স্বামী আ. মতিন (৪০) মারা গেছেন।
 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শনিবার (১০ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন।

 

তিনি বলেন, সকালে চিকিৎসাধীন আ. মতিনের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের ৯২ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তা ছাড়া শ্বাসনালিও পুড়ে গিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী ময়না ৯৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে মারা গেছেন। তাদের দুই মেয়ে আয়শার শরীরে ৪৬ শতাংশ ও মায়শা ৪২ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে এখনও ভর্তি আছে। তাদের অবস্থাও গুরুতর। ১৮ শতাংশ দগ্ধ রায়হানকে চিকিৎসা শেষে শুক্রবারই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে আহসানবাগ সিলেটি বাজার কাজি গলিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন, ইজিবাইক চালক আ. মতিন (৪০), তার স্ত্রী গৃহিণী ইসয়াসমিন আক্তার ময়না (৩৫), দুই মেয়ে আয়শা (৬) ও মায়শা (১০) এবং ময়নার ভাগনে আবুল খায়ের রায়হান (২৫)।

 

দগ্ধ রায়হান নিজেই জানান, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করেন। ওই বাসায় তার মা থাকলেও তিনি অন্য খানে থাকেন। শুক্রবার তিনি ওই বাসায় মায়ের কাছে গিয়েছিলেন। রাতে মতিনের পরিবারে একটি পাশের রুমে ছিলেন তিনি।

 

ভোরে যখন তারা সবাই ঘুমিয়েছিলেন তখন বিকট শব্দে একটা বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তেই ঘুম ভেঙে গেলে চারদিকে আগুন দেখতে পান তিনি। বিস্ফোরণে রুমের দরজাও ভেঙে গেছে। পরে তারা দৌড়ে বাসায় বাইরে চলে যান। তবে এর আগেই তাদের শরীর পুড়ে যায়।

 

তিনি বলেন, মতিন প্রতিদিন বাসাতেই অটোরিকশা চার্জ করত। অটোরিকশাটি বাসার বাইরে রেখে তার চার্জার রুমের ভেতরে বিদ্যুতের সঙ্গে সংযোগ করত। সেই চার্জার থেকেই ভোরে বিস্ফোরণে এই দগ্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে এর আগে কখনও ওই বাসায় এই রকম ঘটনা ঘটেনি।

 

তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মতিনের শ্যালক মো. মাসুম জানান, খবর পেয়ে ভোরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়হান ছাড়া বাকি ৪ জনের অবস্থাই গুরুতর। বড় মেয়েটি একটি মাদ্রাসায় পড়ত। আর ছোট মেয়ে কিছুই করত। তাদের বাড়ি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে।

এই বিভাগের আরো খবর