Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭

ব্রেকিং:
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র, সুনামির সতর্কতা বাহরাইনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত আর্জেন্টিনায় শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ালো ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা: ৪ স্কুল শিক্ষার্থী আটক রাখাইনে সু চির দলের ৩ প্রার্থীকে অপহরণ চীন আটকাতে নৌ-মহড়ায় ভারতের সাথে সংযুক্ত হবে অস্ট্রেলিয়া
সর্বশেষ:
প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৭২৯ আর্মেনীয় যোদ্ধা নিহত ঢাকার পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার টিকটকের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল পাকিস্তান

রামগড় স্থলবন্দরের নির্মাণ কাজ শেষের পথে

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পঠিত: ৬৫২
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা রামগড় উপজেলার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত মহামনি এলাকায় ফেনী নদীতে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণের ছোঁয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের লাখো মানুষের আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে এমনটাই আশায় অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ-ভারতের দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে পরির্দশন কালে সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অতুলনীয়ভাবে এগিয়েছে। ফেনী নদীর উপর নির্মাণাধীন এই ব্রীজ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ, ব্যবসা,সাংস্কৃতিক,উচ্চ শিক্ষা,পর্যটনসহ সু-সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) সজীব কান্তি রুদ্র এ প্রতিনিধিকে বলেন- রামগড় স্থলবন্দর পুরোদমে চালু হলে ব্যবসা-বানিজ্য, উচ্চ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুই বাংলার মানুষ উপকৃত হবে।
 

রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী ও পৌর সভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান এ প্রতিনিধিকে বলেন- বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় পার্বত্যবাসী আশার আলো ইতিমধ্যে দেখা শুরু করে দিয়েছে। স্থলবন্দর পুরোদমে চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখাসহ আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে বলে মনে করেন।

 

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্রগ্রাম সুমদ্র বন্দরকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর- পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলসহ এ সাতটি রাজ্যের(সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে ব্যবসা- বানিজ্য সম্প্রসারনের লক্ষে দুই বাংলার সরকার প্রধান এ উদ্যোগ গ্রহন করে। ইতিমধ্যে স্থলবন্দরকে ঘিরে বন্দর টার্মিনাল,সড়কপদ, গুডামঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো  নির্মাণে  ভূমি অধিগ্রহণ কাজ চুরান্ত করা হয়েছে। এদিকে রামগড়- হেঁয়াকো- বারৈয়ারহাট প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণসহ ৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি(একনেট)। এসব ৭ প্রকল্প একনেক এর চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুমোদন দেয়া হয়। সাতটি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে  ৩ হাজার ৪৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তার মধ্যে ২ হাজার ৬১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা সরকার দেবে , বাকী ৫৮১ কোটি  ২০ লাখ টাকা বিদেশি ঋণ এবং ২৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিশ্ব ব্যাংকের অনুদান।
 

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ৬ জুন ঢাকা সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আনুষ্ঠানিকতায় রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে রামগড় দারোগা পাড়া মহামনি এলাকায় ফেনী নদীর উপর বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু ১ এর ভিত্তি প্রস্তর প্রতিস্থাপন আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। যার ফলে দীর্ঘ দিনের আশা পুরন হতে যাচ্ছে রামগড়ে ফেনী নদীর উপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১।

 

মৈত্রী সেতু ১ নির্মাণে গত ১২ জানুয়ারী দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাষ্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) সংস্থাটি ১২৮ কোটি ৬৯ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২ বছর ৫ মাসের মধ্যে ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্তের মূল সেতুটির দৈঘ্য  ১শ৫০ মিটার মুলে কাজ শুরু করে। আর্ন্তজাতিক মানের সেতুটি যুক্ত হবে রামগড় বারইয়ার হাট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে অপরদিকে ভারত অংশে নবীনপাড়া ঠাকুরপল্লী হয়ে সাব্রুম আগরতলা জাতীয় সড়কসহ রেলপদ যুক্ত হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেতু র্নিমাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এদিকে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় রামগড় বাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দুইদেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের পার্বত্য খাগড়াছড়ি রামগড়-ভারতের দক্ষিন ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমা শহর এর দু’দেশের শুল্ক ষ্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান। আগে থেকে  শুল্ক ষ্টেশনটি চালু হলে প্রতি বছর বারণী স্নানোৎসব উপলক্ষে লাখো দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা থেকে রাজস্ব আয় পেতো রাষ্ট্র এবং রামগড়  স্থল বন্দর চালু হলে  এলাকার অনেক বেকার সমস্যা সমাধান সহ পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারনের অনেকটা পরিবর্তনে খুলে যাবে অর্থনীতিসহ উন্নয়নের দ্বার।

 

এই বিভাগের আরো খবর