ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮

ব্রেকিং:
ইসরায়েলে ৩ হাজার রকেট ছুড়ল হামাস pmশেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
সর্বশেষ:
ভারতে একদিনে আরও ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০ শিশুসহ নিহত ৪২

রায়গঞ্জে সরকারী গাছ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ আহত ৮

সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায় অবৈধভাবে সরকারী গাছ কাটা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে। আহতরা সিরাজগঞ্জ সদর ও রায়গঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে রায়গঞ্জ পৌর কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ ও গ্রামবাসীর সাথে আবারও সংঘর্ষ বাধার আশংকা করছেন অনেকেই।

 

গত শুক্রবার বিকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর ঐ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাওয়ার পর শনিবার বিকালে সুলতান কাউন্সিলরের বাড়ির বাহির আঙ্গিনার ছাপড়া ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয় বলে জানা যায়। আগুনে তার ঘরে থাকা কিছু আসবাব পত্র পুড়ে যায়।

 

গাছ কাটা নিয়ে সংঘর্ষের প্রথম মামলার ঘটনায় জানা যায়, রায়গঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ তার আবাসস্থলের সামনে থাকা একটি সরকারী বটগাছের বড় সাইজের একটি ডাল কাটার সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা বাধা দিলে কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ মারমুখি হয়ে তাদের উপর আক্রমন করে। পরে স্থানীয়রা এক হয়ে প্রতিহত করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্য সংঘর্ষ বেধে যায়।

 

পরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুস সাত্তার ( ৩৫), সুলতান মাহমুদ ( ৪৩), ওয়ালিুল্লাহ,(৩৬)সাংবাদিক মুক্তাদির(৩২) মুজাহিদুল ইসলাম(৩০) নয়ন(২০)শিখড়(২৮), বাবু শেখ আহত হয়। এর মধ্য আব্দুস সাত্তারের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যায়।

 

ঘটনার পরে গত শনিবার আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে সুলতান কাউন্সিলর সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা দায়ের করে রায়গঞ্জ থানায়।
যাহার নম্বর ১৬/৬৪

 

অন্যদিকে সুলতান কাউন্সিলরের বাড়িতে আগুন দেয়ার কারণে তিনিও ৭ জনকে আসামী করে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টা ও নারী শ্লীলতাহানীর মামলা দায়ের করেন গত রবিবার রাতে। যাহার নম্বর ১৭/৬৫।
সেই মামলার আসামীরা হলেন, মুক্তাদির,আব্দুস সাত্তার, মুজাহিদুল ইসলাম, মাসুদ আকন্দ, আব্দুল মোমিন,মোঃ সাব্বির হোসেন ও সাবেক মেয়র মোশারফ হোসেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে সুলতান মাহমুদ সকলের সাথেই খারাপ আচরণ করে আসছে। জোড় করেই সব কাজ করা তার চিরাচরিত অভ্যাসে হয়ে দাড়িয়েছে। অবৈধভাবে সরকারী গাছ কর্তনে বাধা দেয়াতেই তিনি ক্ষিপ্ত হোন এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাধাপ্রদানকারীদের মেরে রক্তাক্ত ও জখম করে দেন। আইন সবার জন্যই সমান।

 

অন্যদিকে কাউন্সিলরের ঘরে আগুন দেয়ার ব্যাপারে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নিজেরাই এই কাজ করেছে বলে জানান মামলার আসামী সাংবাদিক মোক্তাদির আকন্দ।

 

এ ব্যপারে কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ বলেন, আমাকে উচ্ছেদ করার জন্যই এই হামলা করেছে জামায়াত শিবিরের লোকজন। আমি কোন সরকারী গাছ কাটতে যাইনি। তারাই আমার বাড়িতে আগুন দিয়ে আমার সম্পদ লুট করেছে।

 

রায়গঞ্জ থানা পুলিশের ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, উভয় মামলা তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

এই বিভাগের আরো খবর