Berger Paint

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

ব্রেকিং:
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮২.৮৭ শতাংশ লিবিয়ায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মরদেহ মিজদাহ শহরে দাফন আজ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ
সর্বশেষ:
ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত আল-আকসা মসজিদের খতিবকে গ্রেফতার করলো ইসরাইল লকডাউন শিথিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে, অভিমত বিশেষজ্ঞদের চট্টগ্রামে আরও ২৭৯ জনের করোনা শনাক্ত দুই মাস পর খুলে দেওয়া হলো আল-আকসা মসজিদ

শাহজাদপুরে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভীড়, সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই

ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২০  

পঠিত: ৭৬৩
শাহজাদপুরে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভীড়। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

শাহজাদপুরে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভীড়। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর শহরের মনিরামপুর, দ্বারিয়াপুর ও নতুনমাটি এলাকায় রাস্তাঘাট ও মার্কেট গুলোতে শিথিল লকডাউনে সামাজিক দূরত্ব অমান্য করে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতার ভীড় উপচে পড়েছে। এতে এ উপজেলা সহ আশপাশের উপজেলা গুলোতেও করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকাল ৭/৮ থেকে বাজার ও মার্কেট গুলোতে ক্রেতার ঢল শুরু হয়।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। গাঁ ঘেষাঘেষি করে রাস্তায় লোক চলাচল করছে। এ ছাড়া মার্কেট ও দোকান গুলিতে গাদাগাদি করে বসে অথবা দাড়িয়ে শত শত নারী,পুরুষ ও শিশু ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে। একজনের গায়ের সাথে আরেকজনের ধাক্কা লাগছে। তা কেউই মালুম করছে না। রিক্সা-ভ্যান,অটো ও সিএনজিতে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়,নতুনমাটি ও মনিরামপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান ও মার্কেটে ক্রেতার উপচে পড়া ভীড়। বিশেষ করে কাপড়,জুতা,রেডিমেট পোষাক ও কসমেটিক্সের দোকানে ভীড় বেশি। তারা গাদাগাদি হয়ে ও গাঁ ঘেষাঘেষি করে তাদের পছন্দের জিনিস কিনতে বেশি ব্যস্ত রয়েছেন। যেনো করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেমালুম ভুলে গেছেন।

এ ব্যাপারে একাধিক ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান,করোনার ভয়তো আছেই। কিন্তু কি করব ঈদেরও তো কেনাকাটা করতে হবে। পছন্দ মত জিনিস কিনতে সবাই বাজারে এসেছে। এতে তো ভীড় একটু হবেই। চেষ্টা করছি দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে। অপরদিকে একাধিক দোকানদার বলেন,করোনায় দেড় মাস দোকান বন্ধ থাকায় তাদের চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে লকডাউন শিথিল হওয়ায় দোকান খুলেছি। ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রির চেষ্টা করছি। ভীড় বেশি থাকায় কেউই তা মানতে চাইছেন না। সব জায়গায়ই একই অবস্থা। দূরত্ব বজায় রাখতে বললে অনেক ক্রেতা মাইন্ড করে চলে যায়। তাই জোর দিয়ে কিছু বলাও সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন,শাহজাদপুর উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম সাকলায়েন বলেন,এর পরিনতি হবে ভয়াবহ। ঈদের পর এ এলাকায় করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন,মানুষ কেনো নিজেদের এ মহামারির দিকে ঠেলে দিচ্ছে তা আমার বুঝে আসছে না। তাদের সামান্য ভুলে সরকারের সব চেষ্টা বিফলে যেতে বসেছে। এর পরিণতি মোটেও সুখকর হবে না। তিনি সময় থাকতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহব্বান জানান।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শামসুজ্জোহা বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকার মার্কেটগুলো খুলে দিয়েছে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু শাহজাদপুরের ক্রেতারা তা কিছুতেই মানছেন না। ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার কারণে অনেক স্থানে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমিও ইতোমধ্যেই বিষয়টি জেলা প্রসাশক মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি নির্দেশ দিলে আবারও মার্কেট গুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর