Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

ব্রেকিং:
করোনায় পেরুতে ২০ সাংবাদিকের মৃত্যু সিলেটের মেয়র আরিফুলের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১ লাখ ১৬ হাজার, মৃত্যু ৪৬৬৯
সর্বশেষ:
করোনায় মারা গেলেন এনবিআর কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বগুড়ায় পুলিশ-আইনজীবীসহ ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত সিলেটে ২ চিকিৎসকসহ আরও ৬৫ জনের করোনা পজিটিভ

কেমন কাটছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের করোনাকাল

ফাহাদ বিন সাঈদ, জাককানইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২০  

পঠিত: ৪
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় । কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু এই সংকটকালীন মুহূর্তে কিভাবে কাটাচ্ছে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? তারই উত্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে।


১/আতিকুর রহমান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, ৩য় বর্ষ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :

বর্তমান সময়ে এক নীরব ঘাতকের নাম করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। এতে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রচুর মানুষ, মারাও যাচ্ছেন অনেকে। এই ঘাতকের আক্রমণে থমকে গিয়েছে বিশ্ব, বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা৷ দেশে দেশে পড়েছে লকডাউন আর মুক্ত দিনে অপেক্ষা। লকডাউনের পর থেকেই প্রায় নিজ ঘরে বন্দীর মতই অবস্থান করছি। হোম কোয়ারেন্টাইনের এ দিনগুলোতে যেনো সময় কাটতেই চায় না। একেবারে গুনে গুনে সময় পার৷ করতে হচ্ছে। যেখানে প্রায় প্রতিদিনই এখানে ওখানে বেড়ানোর অভিপ্রায় ছিল আজ তা শুধু কল্পনায় বন্দী। কিন্তু সময়টা যে একেবারে খারাপ যাচ্ছে তা কিন্তু না৷ বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় নামা আমরা কখনো নিজেদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় পাই না। সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে খোজ করতে থাকি এক অদৃশ্যের। কিন্তু এখন একটু সময় পেয়েছি নিজেকে নিয়ে ভাবার, নতুন কিছু নিয়ে চিন্তা করার। নিজের ইচ্ছাগুলো আর নিজেকে নিয়ে সম্ভাবনাগুলোকে ও সমানভাবে সামনের দিকে কাঠামোগত অবস্থান গঠনের জন্য পেয়েছি ভাবনার সময়। নিজের পরিবারের সাথেও অনেকটা সময় পার করার সুযোগ হচ্ছে। সঠিক সময়ে ঘুমানো, পরিবারের সব সদস্যদের সাথে সময় কাটানো, ভাই-বোনের সাথে খুনসুটি, চা হাতে বারান্দায় বসে উপন্যাসে পাঠে পৃষ্ঠা পরিবর্তন, পুরনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ এইসব নিয়ে ভালোই কাটছে এই কোয়ারেন্টাইন। কিছুটা সময় পেয়ে পৃথিবীও নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু দেশ ও দশের উপকারের স্বার্থে সবাইকেই এই কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা উচিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সবাই আবার ফিরে যাবো এক সুস্থ শহরে যেখানে থাকবেনা করোনার থাবা, থাকবেনা সামাজিক দূরত্বের বাধন। এই অপেক্ষায় দিন গুনছি সবাই।

 

২/মো ফাহাদ বিন সাঈদ,তৃতীয় বর্ষ, ষষ্ঠ সেমিস্টার, ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় :

ছুটি বরাবরই আনন্দের হয়, কিন্তু এবারের ছুটিটা আকস্মিক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বন্ধু ছাড়া একঘেয়েমি সময় কাটছে।জৈষ্ঠ্যমাসে যখন চারিদিকে প্রচুর বৃষ্টি  বিরাজ করে। যেনো প্রকৃতি আবার তার নিজের সতেজ রুপ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তাই বলে এটা নয় যে এক পশলা বৃষ্টির পরিবর্তে সেই বৃষ্টিই কাল রূপ ধারন করে প্রকৃতিকে ভাসিয়ে দেবে এমনটা কাম্য না। তেমনি ছাত্রজীবনে পড়াশোনা, ক্যাম্পাস, টিউশনি আড্ডাবাজির মধ্যে ২/৪ দিনের ছুটে পাওয়া মানেই প্রিয়জনদের সাথে বাড়িতে ছুটে যাওয়া । আমি মূলত নিজের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আসলে প্রতিটি ছুটি আমার কাছে বিরক্তের হয়,কারন নিজের বাড়ি হতেই ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়।আর এখন প্রায় তিন মাস দেশে আঘাত হানলো করোনার ভয়াবহ থাবা। সবাইকে সুরক্ষা ও নিরাপদ রাখার জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ হলো অনিদিষ্ট দিনের জন্য। তারপর ভয়াল থাবায় করোনায় দেশের  অবস্থা দিনে দিনে আরো খারাপ হতেই আছে। প্রতিদিনেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাথে মৃত্যুর মিছিল। জানিনা এর শেষ কোথায়। কিন্তু এভাবে চিরচেনা সেই বিদ্যাপিঠ আর ভালোবাসায় রঙানো বন্ধু-বান্ধব, বড় ভাইবোন, ছোটভাইবোন, শিক্ষক-শিক্ষিকা চায়ের দোকানের আড্ডা সব কিছু আজ চরম ভাবে মিস করছি।যেখানে আমাদের বিচরণ ছিলো অবিরত। কিন্তু আজ ঘরে বসে এই সোনালী অতীত মনে করা ছাড়া আর কিছুই করার নাই আমাদের। আমাদের সমাজের মানুষের অসচেতনতার কারনে করোনা আরও ভয়াবহ রুপ ধারন করছে। প্রতিক্ষনেই একটা ভয় হৃদয়কে কুরে খায় আর তা হলো প্রিয়জনদের,সাথে আবার দেখা হবে কিনা! কিংবা প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আবার সবাইকে পাবো কিনা! আবার সেই রঙিন,উৎসব মুখর দিন ফিরে পাবো কিনা। বাড়িতে এইভাবে আর কতদিন থাকা যায় তবুও সুদিনের অপেক্ষায় দিন গুনছি। এই কামনায় করি সারাক্ষণ পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হোক। সবাই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।

 

৩/আবু রায়হান, উর্দু বিভাগ, প্রথম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় :

ভালোবাসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কবে বাড়ি এসেছিলাম ভুলে গিয়েছি। পড়াশোনা যা করেছিলাম তাও ভুলে গিয়েছি। হোম কোয়ারেন্টিনে মোটেও ভালো দিন যাচ্ছে না। গ্রামে থাকি, তেমন মানুষ নেই। এখনো আশে-পাশে কভিড-১৯ এ কেউ আক্রান্ত হয়নি। তাই ঘর থেকে বের হতে পারি। কিন্তু অনিশ্চিত উদ্দেশ্য নিয়ে পড়ালেখা করতেও ভালো লাগে না। বাংলা সাহিত্য পড়ে সময় কাটাই। হুমায়ুন আহমেদ,মুহম্মদ জাফর ইকবাল,সমরেশ মজুমদার এই লেখকদের বই পড়তেছি। স্পেশালি উপন্যাস পড়তেছি। আর ফেসবুকে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফোরাম নামের একটি সংগঠনে কাজ করে যাচ্ছি।যার মাধ্যমে ফেসবুক,,অনলাইনে মানুষদের সচেতন করছি। তাছাড়াও গ্রামের মানুষদের করোনাভাইরাস সমন্ধে সচেতন করি।  করোনাভাইরাস পৃথিবী থেকে কবে ধ্বংস করা যাবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তায় জানেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 

৪/তানজুম মোস্তফা অর্ণা, দর্শন বিভাগ, ২য় বর্ষ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় :

এই লকডাউনের সময়টা শিখিয়েছে আরো বেশি করে আল্লাহর প্রতি নিজের জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে, সেই সাথে পারিবারিক বন্ধনকে করেছে সুদৃঢ়।  বেশ কয়েক বছর পর পরিবারের খুব কাছাকাছি আসতে পেরে মন হচ্ছে আন্দোলিত সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙ্গিন দিনগুলোকে স্মরন করে মনটা আবার কেঁদেও উঠছে।এমন সময় মানসিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপও বলা যায়, যে কোন কাজে একগুঁয়েমি চলে আসছে, এই টিভি বা ফেসবুকই বা আর কতো। তবে মাঝে মাঝে আমার অবসর সময় কাটছে মিসির আলীর লজিকের সিঁড়িতে ভর করে আবার কখনো বা ব্যোমকেশ বক্সীর দূর্গরহস্য ভেদের মধ্য দিয়ে। ভালো মন্দ মিলিয়েই কাটছে লকডাউন পরিস্থিতি।  আশা করি খুব জলদি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং এ মৃত্যুর মিছিল শেষে আবার সবাই নির্ভয়ে রাস্তায় বের হতে পারবে।তবে এমত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার একটি অগ্রনী পদক্ষেপ হতে পরে অনলাইন ক্লাস যেটা আমাদের এই সময়টাকে কাজে লাগাতে এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল বাংলাদেশের একজন দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা এই, যে যেখানে আছি সবাই যেন আবার প্রানের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে পারি এবং অচিরেই যেন পৃথিবী এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারে।

 

৫/ফারিহা আলম লাবণ্য, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ, তৃতীয় বর্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ:

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাস যেন নতুন একটা পৃথিবীর জন্ম দিচ্ছে। পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা এই ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে লড়ে চলেছি প্রতিনিয়ত। চাইলেই এই কোয়ারান্টাইনের সময়টা বিভিন্ন ইফেকটিভ কাজের মাধ্যমে ব্যয় করতে পারি। এক্ষেত্রে সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হলো নিজে সচেতন হওয়া এবং আশেপাশের মানুষদের এই ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা। এ সময়ে পরিবারকে আমরা পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি, তাদের সাথে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে, যা সচরাচর হয়ে ওঠে না ব্যস্ততার জন্য। বাড়ির সকল কাজ ভাগাভাগি করে করতে পারি, এতে মায়েদের কাজের চাপটা একটু হলেও কমবে। এছাড়াও নতুন নতুন রান্না করে অভিজ্ঞতাও অর্জন হবে। আমরা নানান অজুহাতে ধর্মীয় কাজগুলো পালনে অনীহা প্রকাশ করে থাকি হরহামেশাই। ঘরবন্দী থাকার এই দিনগুলায় অজুহাতের বদঅভ্যেস থেকে বেড়িয়ে যার যার ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে প্রার্থনা করে পারি। পরিবারের শিশুদেরও এসব ধর্মীয় ব্যাপার পালনে উৎসাহিত করতে পারি ছোট থেকেই।  এছাড়াও জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি অতি সহজেই। যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক কাজে দিবে। বই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বিনোদন জগতেও ঘুরে আসা যায় মুভি-সিরিজ দেখে। সর্বোপরি আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবো যাতে করোনা ভাইরাসসহ সকল রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

 

৬/রাশেদুজ্জামান রনি, অর্থনীতি, ৪র্থ বর্ষ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়:

“বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই ঘরকুনো হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ দিন গৃহবন্দি অবস্থায় এক প্রকার অসহায়ত্বের মত দিনের প্রহর গুনতেছি।করোনার এই ধ্বংসাত্মক ছোবলে অনেকটা নিঃস্ব হওয়ার মত অবস্থা। তাছাড়া করোনার আতঙ্ক দিন দিন প্রায় গাণিতিক হারেই বাড়তেছে। এমতাবস্থায় আমার একটাই দুশ্চিন্তা কবে অবসান হবে এই লকডাউন আর কবে বিদায় নিবে বিশ্ব থেকে করোনা মহামারী।গৃহবন্দি এই মুহূর্ত গুলোতে না পারছি কোথাও যেতে,না পারছি কিছু করতে।অনেক পরিকল্পনা থাকলেও করোনার কারণে সব যেন ভেস্তে যাচ্ছে। লক ডাউনের এই সময়ে নিজের পরিকল্পনাগুলো যেন একটি বছরই পিছিয়ে গেলো।কিন্তু লকডাউনের এই সময়ে একটা কথাই বার বার মনে পড়ে “মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।” হয়ত একদিন লকডাউন থাকবে না,থাকবে না করোনা মহামারী।এ আশায় আশায় ঘরবন্দি জীবন অতিবাহিত করতেছি।”

এই বিভাগের আরো খবর