Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ আবারও পেছালো যে কোনো মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীর ফের রিমান্ডে ৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ সাংহাইয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, অভিভাবকদের ক্ষোভ

গাজী আরিফুর রহমান, বরিশাল

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

 

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণ ও অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০২ নম্বর বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো পুরুষ শিক্ষক না থাকলেও ১৩ জন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। ৫-৬ জন আবার বাচ্চাদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। ক্লাসে পাঠদান কিংবা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি মনোযোগি না হয়ে তারা বেশিভাগ সময় নিজের বাচ্চাদের লালন-পালনে ব্যস্ত থাকেন। এতে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় দেখা যায়, ক্লাসে পাঠদান না করে অধিকাংশ শিক্ষক অফিস কক্ষে গল্প করে সময় কাটান। কোনো অভিভাবক ছোট বাচ্চাদের (শিক্ষার্থী) নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাদেরকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।

 

এছাড়াও সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজখবর নিতে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গেলে অনেক সময় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার হুমকিও দেয়া হয়। কোনো পুরুষ শিক্ষক না থাকায় নারী শিক্ষকগণ বিদ্যালয়টি খেয়ালখুশি মতো পরিচালনা করে থাকেন।

 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা শিক্ষিকাদের কাছে প্রাইভেট পড়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইশরাত জাহান তার বাসায় ও বিদ্যালয়ের কক্ষে নিয়মিত প্রাইভেট বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে। প্রতিটি ক্লাসের জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারিত থাকলেও মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই শিক্ষকরা ক্লাস শেষ করেন। বিদ্যালয় থেকে কোনো প্রত্যয়নপত্র আনতে গেলে ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
বিদ্যালয়ের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কোনো অভিভাবক প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক সারাহ পারভীন রিংকু ও সহকারি শিক্ষক নাসরিনসহ কতিপয় শিক্ষকরা বলেন, 'আমরা সরকারের চাকুরী করি। আমরা কোন অভিভাবকদের কাছে জবাবাদিহি করতে বাধ্য নই।' অভিযোগকারীরা বিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ ও ১৩ জন নারী শিক্ষকের স্থলে অন্তত ৬-৭ জন পুরুষ শিক্ষক দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়।

 

মো. মাহবুবুর রহমান কামরুল নামে একজন অভিযোগকারী অভিভাবক বলেন, এসব বিষয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মো. রুহুল আমিনকে অবহিত করলে তিনি রহস্যজনক কারণে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।

 

এ ব্যাপারে বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারাহ পারভীন রিংকু বলেন, তার ও অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    

এই বিভাগের আরো খবর