Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

ব্রেকিং:
করোনায় পেরুতে ২০ সাংবাদিকের মৃত্যু সিলেটের মেয়র আরিফুলের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ১ লাখ ১৬ হাজার, মৃত্যু ৪৬৬৯
সর্বশেষ:
করোনায় মারা গেলেন এনবিআর কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বগুড়ায় পুলিশ-আইনজীবীসহ ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত সিলেটে ২ চিকিৎসকসহ আরও ৬৫ জনের করোনা পজিটিভ

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটানোর কৌশল

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০১৯   আপডেট: ২২ জুন ২০১৯

পঠিত: ২১৩

বাবা মায়েরাই শিশুর শরীরের যত্নের পাশাপাশি মস্তিষ্কের উন্নতির দিকেও নজর রাখেন। মস্তিষ্কের উন্নতি বা কর্মক্ষমতা বলতে ঠিক কী কী বোঝান বিশেষজ্ঞরা? তাদের মতে, শিশু তার পরিবেশ থেকে কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, হাসি, কান্না, কৌতুহল ইত্যাদি সময়মত সব ঠিকমত প্রকাশ করছে কি না, বাবা মায়ের কোনও ইঙ্গিতের উত্তরে সাড়া দিচ্ছে কি না, এই সবই মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের উন্নত করে।

ভালোবাসার মাধ্যমে, সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার মাধ্যমেই তা সম্ভব। তাই শিশুর খাওয়া দাওয়া ও স্বাস্থ্যের খেয়াল এবং তার ছোটখাটো সমস্ত আবেগের। তার আবেগের যথাযথ বিকাশই তার মস্তিষ্ককে পরিনত হতে সাহায্য করে।

শিশুর প্রতিটি চালচলনে নজর রাখুন এবং চার থেকে ছয়মাস বয়স হওয়ার পর থেকেই হাত পা ছোড়াছুড়ি, নানাপ্রকার অঙ্গভঙ্গি করে থাকে। এই সময় সন্তানের প্রতিটি ভঙ্গিতেই নজর রাখুন ও পজিটিভ ভাবে হাসিমুখে তার প্রত্যুত্তর দিন। এতে সে আপনার সঙ্গে আরও একাত্মবোধ করবে, একইসঙ্গে উৎসাহও পাবে তার নতুন নতুন কার্যকলাপে।

মজা করুন শিশুর খাওয়ানো, পরানো এবং নতুন জিনিসের দিকে। সবকিছুতেই মজার ভাগ রাখতে। মজা বা হাসির রস থাকলে যেকোনও কঠিন সমস্যার সহজে সমাধান করা সম্ভব। শিশুরা অনেকটাই ছোট, পৃথিবীটাই তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। তাই মজার মাধ্যমে তাদের নিয়মের মধ্যে সবকিছু চলতে থাকলে পৃথিবীটা তাদের কাছে কঠিন হয় না। এই থেকেই তাদের কৌতুহল ও মানসিক দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পায়। এই মানসিক দৃঢ়তা মস্তিষ্কগঠনে ও তার কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শেখানোর সময় পজিটিভ থাকুন নতুন কিছু শেখার সময় শিশুরা সবসময়ই কৌতূহল প্রকাশ করে। তার প্রথম অবাক হয়ে দেখা, আনন্দ হলে হাসা, খারাপ লাগলে ভয় পেয়ে সরে যাওয়া এসবই তার মস্তিষ্কের কোশগুলোকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। শুধু শেখানো জিনিসটি নয়, যে পদ্ধতিতে শেখানো হয় তাও তার মনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই কোনও কিছু শেখানোর সময় চেষ্টা করুন মুখে হাসি ধরে রাখতে। আপনার হাসি দেখেই আপনার জুনিয়র সাহস পাবে নতুন জিনিস শেখার। ভুল হলেও আপনার হাসি দেখেই সে চেষ্টা করবে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার।

শিশুকে এমন ধরনের খেলা শেখান যা খেলতে খেলতে সে শিখবে অনেক নতুন জিনিস। সে নিজে থেকে আবিষ্কার করতে শিখবে নতুন কিছু। যেমন সন্তানের এক বছর বয়স হলে তাকে অক্ষরের ছাঁদ কিনে দিয়ে শেখাতে পারেন ওয়ার্ড মেকিং। আবার সহজ পাজল কিনে দিয়ে সাজাতে দিতে পারেন তাকে। এইগুলো নিয়ে খেলার পাশাপাশি সে মাথাও খাটাবে, এতে মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন হবে।

বইয়ের প্রতি টান জাগান বই পড়া অত্যন্ত ভালো অভ্যাস। তাই বইয়ের প্রতি শিশুর ছোট্ট বয়স থেকেই টান থাকা ভালো। ছয় সাতমাস বয়স হলেই তার জন্য কিনে আনুন মস্ত ছবিসমেত গল্পের বই। আপনি নিজে শিশুকে সেসব গল্প মুখে নানা অঙ্গভঙ্গি করে পড়ে শোনান। ছবিগুলোর ইমপ্রেসন শিশুর মস্তিষ্কে নতুন নতুন কৌতুহল তৈরী করে ও আপনার বলা গল্পের ধরন শিশুর মনে বিস্ময় জাগায়। এই অনুভূতিগুলো মস্তিষ্ককে সংবেদনশীল করে তোলে।

গান শোনান যখন শিশু কাঁদছে বা কোনও কারণে বিরক্তবোধ করছে তখন তাকে শান্ত করার জন্য হালকা সুরের স্নিগ্ধ গান শোনান। একইভাবে ঘুমোনোর সময় নিজের জানা গানগুলো গেয়ে শোনাতে পারেন। হালকা সুরের গান মস্তিষ্কের কোশগুলোকে আরাম করতে সাহায্য করে। এর ফলে সারাদিন হুটোপাটি করা শিশুর মস্তিস্কও যথেষ্ট আরাম পায়।

এই বিভাগের আরো খবর