ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

ব্রেকিং:
৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক-কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতি
সর্বশেষ:
শেষ টেস্ট খেলতে কলকাতার পথে টাইগাররা, মূল চ্যালেঞ্জ বোলারদের মনে করেন পেসার আল-আমিন হোসেন পেঁয়াজের পর চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে : নাসিম পদ্মা সেতুতে বসেছে ১৬তম স্প্যান আজ কার্গো বিমানে পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে বিটিআরসির কলসেন্টারে ৭ হাজার ৯০৮ অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী আজ রাতে দেশে ফিরছেন তিনটি বিলে সম্মতি প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি

শিশু সুরক্ষায় সার্বজনীন ‘শিশু দিবস জাতীয় পর্যায়ে পালনের আহবান

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৮

পঠিত: ১৮

শিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০শে নভেম্বর সার্বজনীন ‘শিশু দিবস- ২০১৮’ সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে। উক্ত লক্ষ্য অর্জনে সচেতনাতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালন করা উচিত ছিলো বলে সুশীল সমাজের সদস্য ও শিশু প্রতিনিধিবৃন্দরা মনে করছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন যে, জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত উক্ত দিবসটি ১৯৫৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালের ২০শে নভেম্বর তারিখেই গৃহীত হয় জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ যেটি সদস্যভুক্ত ১৯২টি দেশ স্বাক্ষর করে।

‘শিশু পাচার প্রতিরোধে কম্যুনিটিকে শক্তিশালী ও নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি’ কনসোর্টিয়ামের সদস্য সংগঠন-- সিপিডি, নারী মৈত্রী, ইনসিডিন বাংলাদেশ ও সিপসহ উক্ত দিবসটি উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্বাক্ষরিত ১৯২টি দেশের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ প্রথম সারির একটি দেশ। এবারের সার্বজনীন শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো- “প্রতিটি শিশুর নিশ্চিত হোক শিক্ষা, থাকুক আঘাত মুক্ত, নিরাপদ এবং বিকশিত হোক তাদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা”।

উক্ত প্রতিপাদ্য বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার জন্য শিশু পাচার, বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রমের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে দেশকে মুক্ত রাখার আহবান জানান।

শিশু বিবাহ ও শিশুশ্রম নিয়ে আমাদের দেশে অনেক সচেতনাতা থাকলেও শিশু পাচার বিষয়টি এখনও অনেকে সামনে আনতে চান না, অথচ এই তিনটি বিষয় একটি অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা শিশু পাচারের ভয়াবহতা এবং এর দূরীকরণে পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার জোর দাবী জানান।

আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরী। কিন্তু আমাদের শিশুরা আজ নানাভাবে অপরাধ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তার মধ্যে পাচার শিশুদের জন্য ভয়াবহ একটি পরিণতি যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

০ থেকে ১৮ বছরের নীচে সকলে শিশু বলে বিবেচিত হবে এবং এই বয়সেই দেশের অসংখ্য শিশু দেশের মধ্যে ও পাশ্ববর্তী দেশে প্রতিনিয়ত পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভারতের কোলকাতা, হায়দ্রাবাদ ও মুম্বাইভিত্তিক একটি চক্র বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তাদের একটি শক্তিশালী পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যারা নারী, শিশু ও কিডনী পাচারে সক্রিয়।

পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের বিষয়ে তারা বলেন যে, আমদের দেশে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তানেরা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ভালো বেতনের কাজ, বিয়ে ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের সম্মতি নেওয়া হয় এবং তারপর তার বয়সকে বাড়িয়ে দিয়ে তাকে পাচার করা হয়। শিশু তার পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে বলে সে অনেক সময় এই নির্মম পরিণতি এবং অমানবিক জীবন মেনে নেয়।

পাচারকে শিশু অধিকারের সর্বোচ্চ লংঘন হিসাবে আখ্যায়িত করে তারা মত প্রকাশ করেন যে, পাচারের কারণে শিশুরা সব ধরণের অধিকার- মানূষ হিসাবে বেড়ে উঠা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা--থেকে বঞ্চিত হয়। পাচার নিয়ে পৃথিবীতে বিশাল একটি বাণিজ্য রয়েছে যার উদ্দেশ্য থাকে যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম, বাধ্যতামূলক শোষণমূলক শ্রম ও অঙ্গ পাচারের মতো কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা।

তারা শিশুবিবাহ ও  শিশুশ্রম এর পাশাপাশি শিশু পাচারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিন্মোক্ত দাবীগুলো তুলে ধরেন:

শিশুর সব ধরণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; শিশুর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা নিরসনে সরকারী-বেসরকারী কাজের সমন্বয় ও জোরদার; শিশু অধিকার সনদ ও শিশু আইনের আলোকে শিশু বিকাশের ও সুরক্ষার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ; শিশু বিষয়টিকে সংযুক্ত করে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০২২) বাস্তবায়ন।

“শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি তদারকি কার্যক্রম জোরদার;  শিশু পাচার মোকাবেলায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা ২০১৭ এ বর্ণিত মানব পাচার দমন সংস্থা, তহবিল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা”।

দাবীগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে: পাচারের শিকার ও পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালিত করা;  শিশু নির্য়াতন প্রতিরোধে শিশুশ্রম নীতি বাস্তবায়ন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও দমন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঝে পরিকল্পিত সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা।

 

 

 

 

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর