ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় `জাওয়াদ` শুরু হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ট্রায়াল বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রোনালদোর রেকর্ডের ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

শীতের আগমনে নড়াইলে লেপ-তোশক তৈরির ধুম

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২১  

লেপ তৈরিতে ব্যস্ত এক কারিগর

লেপ তৈরিতে ব্যস্ত এক কারিগর

 

শীতের আগমনে নড়াইলের বিভিন্ন হাটবাজারে ধুম পড়েছে লেপ-তোশক তৈরির।  লেপ-তোশকের কারিগরেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে কিছুটা শীত পড়ে গেছে। কিছুদিন পরেই জেঁকে বসবে শীত।

 

এবার কার্তিকে শীতের আমেজ আগেই টের পাওয়ায় ক্রেতারা ভিড় জমাতে শুরু করেছে লেপ-তোশকের দোকানে। তুলা, লেপের কাপড় ফোম এবং মজুরি গত বছরের তুলনায় এবার বেশি বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বিক্রেতা।
লোহাগড়া বাজারের দোকানগুলোতে লেপ-তোশকের ভিড় লক্ষণীয়। এসব দোকানে দিন দিন বেড়েই চলছে ক্রেতাদের ভিড়। ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের।  এসব লেপ-তোশক তৈরির দোকানে এখন প্রতিদিন ১৫-২০টি লেপ-তোশক তৈরি হচ্ছে।

 

এই বাজারে শীতবস্ত্র বিক্রির দোকানেও ভিড় ও কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। বাজারের আজিবর বেডিং স্টোরের স্বত্বাধিকারী ও কারিগর বলেন, ‘৩০-৩৫ বছর লেপ-তোশক তৈরি ও বিক্রয় করে আসছি। লেপ-তোশক তৈরি করে আজ আমি স্বাবলম্বী। দুই ছেলে, চার মেয়ে তাদের পড়ালেখার খরচ মিটিয়ে সংসারের হাল ধরে আছি এ ব্যবসা থেকেই। মেয়েদের বিবাহ দিয়েছি আর ছেলেরা পড়ালেখা করছে। ইচ্ছে করলেও এ ব্যবসা ছেড়ে দিতে পারিনি। প্রায় শত বছরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাল ধরে রেখেছি। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে ৮ জন কারিগর রয়েছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি লেপ তৈরি হয়ে থাকে।

 

৪-৫ হাত মাপের তৈরি লেপ ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।’ গ্রামবাংলায় একটি প্রবাদ আছে, আশ্বিন মাস এলেই শীতের কারণে মানুষের গা শিরশির করে। কিন্তু কার্তিক মাসের শেষ ভাগ থেকে সকাল হলেই ঘনকুয়াশা আর শীতের আমেজ দেখা যায়। স‚র্য ওঠার ঘণ্টা দুই পরেই আবার বদলে যায় প্রকৃতির রূপ। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারা রাত মাঝারি শীতের কারণে বাসাবাড়িতে শীত নিবারণে এখন পাতলা কাঁথা ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষ শীত নিবারণে সাধারণত নির্ভর করেন লেপ-তোশকের ওপর।

 

লেপ-তোশক তৈরির কারিগর মো. মুজিবর চৌধুরী বলেন, ‘আমি ১৫ বছর যাবৎ লেপ-তোশকের কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছি। এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে মন চায় না। বাবার স‚ত্র ধরেই আমি ১৫ বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছি।’ কারিগর মো. অলিয়ার রহমান বলেন, ‘শীত আসার আগেই মানুষ লেপ-তোশক বানাতে শুরু করে দিয়েছে। আমরাও ব্যস্ত সময় পার করছি। শীত বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসা আরও বৃদ্ধি পাবে। মনে হয় এ বছর আয়-রোজগার ভালোই হবে।’ জিবাদ হোসেন বলেন, ‘রাত ১২টা পর্যন্তও আমরা কাজ করেছি।

 

একটা সময়ে হাঁড়কাঁপুনে শীতেও লেপ-তোশকের দোকানে ভিড় লক্ষণীয় ছিল। তবে আগের তুলনায় এখন অনেক কমে গেছে। তবে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথেই লেপ তৈরির ধুম পরে যায়।’

ও/এফ

 

 

এই বিভাগের আরো খবর