Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

ব্রেকিং:
আজ শুভ জন্মাষ্টমী হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিবর্ষণ, সংবাদ সম্মেলন ছাড়লেন ট্রাম্প প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অবস্থা সংকটজনক, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার বাতিল হচ্ছে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা
সর্বশেষ:
চাপের মুখে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রে বিস্ফোরণে উড়ে গেল বাড়ি, হতাহত অনেক বিশ্বে নতুন শনাক্ত ২ লাখ, মারা গেছে ৪ হাজারের বেশি মানুষ

শ্রমিকদের বঞ্চনার শেষ কোথায়?

মুকুল কান্তি ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২০  

পঠিত: ১৯৬১
মুকুল কান্তি ত্রিপুরা। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মুকুল কান্তি ত্রিপুরা। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


মনে পড়ে কি বিগত সাত বছর আগের একটি বহুতল ভবন ধ্বসের কথা, যেখানে এক নিমেষেই ভবনটি হয়ে গিয়েছিল ধ্বংসস্তুপ আর অসহায় সহস্রাধিক শ্রমিক ভাই-বোনদের নিথর দেহগুলো অশ্রু সিক্ত নয়নে কুড়াতে হয়েছিল আমাদের?  ভাগ্যগুনে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোর বুকের চাপা কান্নাগুলোও থামেনি এখনও । হ্যাঁ, বলছি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভার বাসস্ট্যান্ডের একটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা বহুতল ভবন রানা প্লাজার ধ্বসে পড়ার গল্প, যে গল্পে স্থান করে নিয়েছে হাজারও অসহায় শ্রমিকদের প্রাণহীন দেহগুলো, হারিয়ে যাওয়া অগণিত মানুষের জীবন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করা অনেকের নিরব কান্না।  আর এভাবেই নিরবে নিভৃত্তে অসহনীয় নিষ্ঠুরতা মেনে নিয়ে আমাদের শ্রমিক শ্রেণির অনেকের জীবন সংগ্রামে পরাজয় বরণ করে বিদায় নিতে হয় মায়া-মমতায় ঘেরা এই সুন্দর পৃথিবী থেকে।  

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যাঁরা যুগে যুগে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন তাঁরাই এই ‘শ্রমিক শ্রেণি’। আপাতদৃষ্টিতে তাঁরা ‘শ্রমিক’ নামে পরিচিত হলেও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তারাই মূলত আধুনিক পৃথিবীর মূল কারিগর। কেননা যাঁর হাতের স্পর্শ না পেলে আজকের বিশ্ব বিখ্যাত সবচেয়ে উঁচু দালানটি যেমন গড়ে উঠতো না, তেমনি উৎপাদন হতো না উন্নত জীবন যাপনের জন্য কোন বিন্দুমাত্র উপাদানও। কিন্তু কেন জানি প্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি বৈষম্যের শিকার এই শ্রেণিটি রয়ে গেছে শোষিত, বঞ্চিত এবং নিপিড়ীত শ্রেণি হিসেবে। তাইতো পৃথিবীতে সমতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে ফরাসী বিপ্লব ও রুশ বিপ্লবের মতো আরো অনেক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। আর এমন সংগ্রামগুলোর অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে কার্ল মার্ক্সের মতো অনেক বড় দার্শনিকও বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, 'The history of all hitherto existing society is the history of class struggles” অর্থাৎ সমগ্র মানব ইতিহাস হল শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। ঠিক আজকের দিনটি ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ বা ‘মে দিবস’ হয়ে উঠার পেছনেও রয়েছে এমনই এক শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের কালো অধ্যায়, যা বিশ্বের প্রতিটি শ্রমিককে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পারুক আর না পারুক অন্তত অতীতের বঞ্চনার কথাগুলো কিঞ্চিৎ পরিমাণ হলেও মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে কেমন বঞ্চনা বা বিরম্বনার মুখোমুখীতে বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণি এবং তাঁদের দুঃখভরা জীবনের ডায়েরীতে কবে লিপিবদ্ধ হবে সুখবোধের অনুভূতি? আজ এমন প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধান নিছক কোন কৌতুহলের বিষয় নয়, বরং দেশের একটি চরম বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে।

১৯৭২ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ যা অনেকের নিকট ‘মে দিবস’ হিসেবেও পরিচিত। জানা যায়, ১৯২৩ সালে প্রথম ভারতবর্ষের মাদ্রাজে পালন করা হয়। তবে অবিভক্ত বাংলায় শুরু হয় ১৯২৭ সালে এবং তৎকালীন বাংলার পূর্বভাগে প্রথম পালিত হয় ১৯৩৮ সালে নারায়নগঞ্জে। যদিও সেটি ছিল ব্রিটিশদের অধীন ভারত সরকারের আমলে। আবার পাকিস্তান শাসনের শুরুর দিকে তৎকালীন পূর্ব বাংলা অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে সীমিত আকারে মে দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণি প্রথম বারের মতো বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ দিবসটি পাল করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর। তারপর বিভিন্ন চড়াই উৎড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে দিবসটি খুব সীমিত আকারে পালিত হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নেন এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করে জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণও প্রদান করেছিলেন। আর তখন থেকে বাংলাদেশে দিবসটি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হয়ে আসছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। বাংলাদেশের জন্য এ দিনটির গুরুত্ব অনেক বেশি । কেননা দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে এই শ্রেণির মানুষ যে অবদান রেখেছেন তা সত্যিই ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার। আর অদ্যাবধি দেশের কল্যানে অল্প মজুরীতেও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা দিয়ে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ কায়িক শ্রম। কিন্তু এই দিনটিকে কেন বেছে নেওয়া হলো শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করার? কেনইবা বিশে^র মেহনতি মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ঐ শহীদ শ্রমিকদের। তহলে একটু পিছনে ফিরে যাওয়া যাক।

দিনটি ছিল ১৮৮৬ সালের ১ মে রোজ শনিবার, বিশ্ব ইতিহাসের শ্রমিক আন্দোলনের একটি স্মরণীয় দিন । কেননা সেদিন আমেরিকার শিকাগো শহরের আকাশে-বাতাসে গর্জে উঠেছিল বুলেটের গর্জন। শ্রমিকের বুকের তাজা রক্ত ঝড়েছিল হে মার্কেটের মাটিতে। সেদিন শ্রমের মর্যাদা, মূল্য ও ন্যায্য মজুরি শুধু নয়, যুক্তিসঙ্গত কর্ম সময় নির্ধারণের জন্য অপরিবর্তিত বেতনে দৈনিক আট ঘন্টা শ্রমের দাবীতেও কেঁপে উঠেছিল রাজপথ।  আসলে দেওয়ালের পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যা করে হয়তোবা তাই হয়েছিল সেদিন। দৈনিক ১৪-১৬ ঘন্টা করে আর কতদিন খাটা যায়? অথচ পাচ্ছে না ন্যায্য মজুরী, নেই কর্মপরিবেশ, নেই সামান্যতম মর্যাদাও। শ্রমিকদের এই মানবেতর জীবন-যাপন হার মানিয়েছিল দাসবৃত্তিকেও। তাই ১৮৮৪ সালে একদল শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ১৮৮৬ সালের ১ মে তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু কারখানার মালিকগণ তোয়াক্কাই করেননি শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবীকে বরং চেষ্টা করেছিল শ্রমিকদের রক্ত চুষে নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হবে। তাইতো শুরু হলো এই মেহনতি মানুষের সংগ্রাম। তবে আন্দোলন সবচেয়ে বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছিল ১, ৩ ও ৪ মে তারিখগুলোতে। তাঁরা আন্দোলনে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলেছিলেন “Eight hours for work, eight hours for rest, eight hours for what we will” এমন শ্লোগানে মুখর শ্রমিকরা যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল ঠিক তখনই হঠাৎ একটি বোমার আওয়াজ এবং এক পুলিশের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। তখন পুলিশের এলোপাথারি গুলিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় হে মার্কেট। প্রকম্পিত হয়ে উঠা শিকাগো শহর যেন পরিণত হল মৃত্যুপুরীতে। মিথ্যে অজুহাতে অভিযুক্ত করা হল শ্রমিক নেতা August Spies, Michel Schwab, Oscar Neebe, Adolph Fischer, Louis Lingg, George Engel, Samuel Fielden, and Albert R. Parsons কে। একটি প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর August Spies সহ ৬ জনকে ফাঁসির কাস্তে ঝুলানো হল। Louis Lingg কারা অভ্যন্তরে করল আত্মহত্যা। আরেকজনের ১৫ বছরের কারাদ্ব›দ্ব হল। এভাবেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের সংগ্রামকে দমানের চেষ্টা করেছিল তৎকালীন শিকাগোর প্রশাসন। তাইতো রাগে-দুঃখে তীব্র আর্তনাদে ফাঁসিতে ঝুলার আগ মুহূর্তে August Spies চিৎকার করে বলেছিলেন, “The day will come when our silence will be more powerful than the voices you are throttling today” আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Grover Cleveland এর সময়কালের এই ঘটনাটি পরবর্তীতে সক্ষম হয়েছিল বিশ^নেতৃবৃন্দের নজর কাড়ার। তবে কোন বারুদ, কোন বুলেট আর কোন বোমা কি সত্যিকারের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে পারে? না, পারে না। তাইতো ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলে সেখানে রেমন্ড লাভিনে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী অন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন। এভাবেইতো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল আজকের ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ বা ‘মে দিবস’।

 

তবে শ্রধুমাত্র এমন দিবস পালন করলে কি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে? না, অধিকারের কথাগুলোকে দিতে হবে স্বীকৃতি। করতে হবে কার্যকর। শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি ও তাদের সুযোগ-সুবিধার সমতা বিধান করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে আন্তরিকভাবে। তাই ঠিক এমন কাজের জন্য ১৯১৯ সালের প্রতিষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organisation) ১৯৪৬ সালে এই সংস্থাটি জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করল। শ্রমিক তথা কর্মচারীদের শ্রমঘন্টা ও মজুরীও নির্ধারণ করে দেওয়া হল। যেমন : C030 - Hours of Work (Commerce and Offices) Convention, 1930 (No. 30 ) এর Article 3 তে শ্রমঘন্টা নিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-  'The hours of work of persons to whom this Convention applies shall not exceed forty-eight hours in the week and eight hours in the day, except as hereinafter otherwise provided.' মুটামুটি কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আএলও অনুযায়ী আদর্শ শ্রমঘন্টা হল দৈনিক আট ঘন্টা কাজ এবং সপ্তাহে মোট আটচল্লিশ ঘন্টা কাজ করা। শুধু তাই নয় International Labour Standards নির্ধারণ করতে গিয়ে আইএলও বিভিন্ন কনভেনশন ও ডিক্লিয়ারেশনের মাধ্যমে শ্রমিক ও কর্মচারীর কল্যানে তৈরি করেছে আইন-কানুন বা নীতিমালা। এখন প্রশ্ন হল, আসলেই কি আইএলও পেরেছে বিশে^র শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে? অথবা যে দেশগুলো শ্রমিকদের কল্যানে প্রণয়ন করেছে শ্রম আইন তাঁরা কি ঐ আইন দ্বারা নিশ্চিত করতে পেরেছে শ্রমিকদের কাজ করার সুস্থ পরিবেশ, আদর্শ শ্রমঘন্টা, পর্যাপ্ত মজুরী ইত্যাদি অধিকারগুলো? নাকি নিছক একটি কাগজের লেখা ধারা হিসেবেই রয়ে গেছে দেশের ঐ আইনগুলো? আমাদের দেশেইবা কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে শ্রম আইন? কর্তৃপক্ষের নিকট এমন প্রশ্নগুলো থেকেই যায়।

 

বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন এবং জিডিপিতে পোশাক শিল্পের যে অবদান তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু যাঁরা দেশের অর্থনীতিতে এমন প্রশংসনীয় অবদান রেখে যাচ্ছেন অর্থাৎ কারখানাগুলোতে অল্প মজুরীতে কাজ করে যাওয়া এই মানুষগুলো কেমন আছেন? তাঁরা কি পেরেছে তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে? আমার কাছে মনে হয়না, কারণ জীবন ধারণের নূন্যতম চাহিদা মেটাতে যাঁদের এখনও দিন-রাত পরিশ্রম করে যেতে হয়, রানা প্লাজার মতো অপরিকল্পিত ভবন ধ্বসে পড়ে যেখানে এগারোশত এর অধিক পোশাক শ্রমিকের প্রাণ অকালে ঝড়ে গেল অথচ বিচারটুকুও পায়নি, কোভিড-১৯ এর মহামারীর সময়েও যাঁদের দশ মাস বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয় তারা কিভাবে ন্যায্য অধিকার পায়? এমন বিষয়গুলো সত্যিই ভাবনার খোরাক যোগায় আমাদের। তাই বলতে দ্বিধা নেই যে, তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকারতো পায় নি বরং দেশের কিছু মুনাফালোভী মালিক শ্রেণির নিকট হয়ে পড়েছে জিম্মি। যা বেশ মর্মান্তিকই বলা যায়। কেননা পৃথিবীর কারখানার শ্রমিকদের হতাহতের ঘটনা বিচার করলে সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার মতো এমন দেশ খুঁজলেও বোধহয় খুঁজে পাওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

 

হ্যাঁ, এদেশেও নিঃসন্দেহে শ্রমিক ও মালিকের কল্যানের জন্য অনেক আইন হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োগও হয়েছে। কিন্তু কেন জানি শুভঙ্করের ফাঁকিটা থেকেই গেল। বাংলাদেশে শ্রম নিয়ে যে আইনগুলো প্রণয়ন ও সংশোধন হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ হল- বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বিধিমালা ২০১০, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) আইন ২০১৩, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৩, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধিত) বিধিমালা ২০১৫, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮ ও বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯। এই আইনগুলোতে অনেক সুন্দর সুন্দর নীতিকথাও রয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের কল্যানে। যদি এই আইনগুলো যথাযথ প্রয়োগ হতো তাহলে বোধহয় এমন শ্রমিক অধিকার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলার সুযোগই পেতনা। বরং আইন প্রণয়নকারী ও প্রয়োগকারীরা প্রশংসায় পঞ্চমূখ হয়ে যেত। তাহলে দেখে নিই দেশের শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫খ্রি. তারিখে প্রকাশিত গ্যাজেটের নবম অধ্যায়ে দৈনিক কর্মঘন্টা বিষয়ে কি লেখা রয়েছে? এই আইনের ৯৯(১) নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে “অন্যত্র ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা হইবে আহার এবং বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ৮ (আট) ঘন্টা : তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে শ্রমিককে দিনে ১০ (দশ) ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করানো যাইবে : আরও শর্ত থাকে যে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিকের সম্মতি থাকিতে হইবে এবং অধিকাল কাজ আরম্ভ হইবার কমপক্ষে দুই ঘন্টা পূর্বে তাহাকে অবহিত করিতে হইবে : আরও শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মঘন্টা এবং অতিরিক্ত কাজ ও অধিকাল ভাতার বিষয়ে যদি শ্রমিকের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক কোন চুক্তি বা নিষ্পত্তি বা প্রথা বিদ্যমান থাকে তাহা হইলে উহা অব্যাহত থাকিবে।” অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক যে কোন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা হবে আহার ও বিশ্রাম ব্যাতীত ৮ ঘন্টা। আবার কিছু শর্ত জুরে দেওয়া হলো যে, ভাতা প্রদান সাপেক্ষে ১০ ঘন্টাও কাজ করানো যাবে। আর এই শর্তইবা কতটুকু মানছে বাংলাদেশের কারখানাগুলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর প্রয়োজন পড়ে না, কেননা ১০-১২ ঘন্টা অথবা ১২-১৪ ঘন্টা শ্রম দেওয়া যেন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছে এদেশের শ্রমিক শ্রেণি।  তবে এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানহীনতা। যেহেতু এদেশের গ্রামগুলোতে খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি সেজন্য গ্রাম থেকে শহরে এসে বিভিন্ন কল-কারখানায় অল্প মজুরীতে কাজ করতে হয় তাঁদের। আর এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না মালিক পক্ষের অনেকেই। অন্যদিকে দেশে দীর্ঘদিন শ্রমিক আন্দোলন চলছিল ন্যায্য মজুরীর দাবীতে। মালিক পক্ষ ছয় থেকে সাত হাজার টাকার উপরে কোনভাবেই দিতে চান না। যদিও ‘শ্রম আইন ২০০৬’ অনুযায়ী ‘নিম্মতম মজুরী বোডর্’ এর মজুরী নির্ধারণের যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল। এই আইনের ১৪১ নং ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে,  “কোন সুপারিশ প্রণয়ন করা কালে মজুরী বোর্ড জীবন যাপন ব্যয়, জীবন যাপনের মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরণ, ঝুঁকি ও মান, ব্যবসায়িক সামর্থ্য, দেশের এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করিয়া দেখিবে।” কাগজে কলমে এমন আইন থাকলেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। তাঁর হস্তক্ষেপে ন্যূনতম ৮০০০/- (আট হাজার টাকা) প্রদানের সুপারিশ করা হলে মালিকপক্ষ মেনে নিতে বাধ্য হন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন হস্তক্ষেপ এদেশের শ্রমিক শ্রেণিদের অবশ্যই আশার আলো সঞ্চারিত করেছে যদিও বর্তমান সময়ে এই মজুরীতে নূন্যতম জীবনমান চালিয়ে নেওয়াটা যথেষ্ট কষ্টদায়ক। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণে স্বয়ং দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হলো, যা মালিক শ্রেণির আন্তরিকতার ঘাটতিকে অনেক বেশি ফুটিয়ে তোলে। ফলে আদর্শ শ্রমঘন্টা ও ন্যায্য মজুরীতে কাজ করার সুযোগ বরারবরই অপ্রতুল এদেশের মেহনতি শ্রমিক শ্রেণির জন্য।

 

আবার বর্তমানে বিশ^ব্যাপী  চলছে মহামারী কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের দাপুটে আক্রমণ। এই ভাইরাস বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশের সব সেক্টরে কোভিড-১৯ এর প্রভাবও পড়েছে নিদারুনভাবে।  আর কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোডে কোথাও গণপরিবহন বন্ধ আবার কোথাওবা লকডাউন এবং হাত ধোয়া, ঘরে থাকা বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার উপরই বেশি জোড় দিয়েছে সরকার। এতে কারখানাগুলোতে চলছে লে-অফ এবং লে-অফ চলার সময় কি অবস্থায় আছে আমাদের শ্রমিকরা ? আদৌ কি নির্বিগ্নে ঘরে থাকতে পারছে কারখানার ঐ মেহনতি মানুষগুলো? আইন অনুযায়ীতো ভাল থাকারই কথা। কেননা  বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৫(১) ধারায় লে-অফ এর সময় শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- “যেক্ষেত্রে সাময়িক শ্রমিক নহেন এইরূপ কোনো শ্রমিককে, যাহার নাম কোনো প্রতিষ্ঠানের মাস্টার রোলে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং যিনি মালিকের অধীন অন্তত ১ (এক) বৎসর চাকরি সম্পূর্ণ করিয়াছেন, লে-অফ করা হয়, তাহা হইলে মালিক তাহাকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।” কিন্তু দেখছি উল্টো ঘটনা। ক্ষতিপূরণতো দিবেই না বরং ১০ মাস ধরে বকেয়া বেতনগুলো পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে রাজপথে। এমনকি সরকারের দ্বিতীয় ধাপে ছুটি বাড়ানোর পরও কিছু কিছু মুনাফালোভী কারখানার মালিকদের কড়াকড়ির কারণে সরকারের ঘোষণা উপেক্ষা করে গ্রাম থেকে ফিরতে হয়েছিল কর্মস্থলে। রাস্তা ভেঙে ভেঙে কেউবা পায়ে হেটে, কেউবা ভ্যানে চড়ে আবার কেউবা ভিন্ন উপায় খুঁজে পৌঁছাতে হলো গন্তব্যে। এতে হযবরল হয়ে যায় সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব। যেখানে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চাকুরী নিয়ে টানাটানি সেখানে খুব বেশি সচেতন নয় এমন মানুষের নিকট এই সামাজিক দূরত্বের গুরুত্বইবা কতটুকু প্রাধান্য পেতে পারে? হয়তোবা চাকুরী যাওয়ার ভয় থেকেই এমন পরিস্থিতির উৎপত্তি। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এত কষ্ট করে ঢাকায় এসে পরদিন কারখানায় যাওয়ার পরে জানা যায় কারখানা বন্ধ।  ঠিক আকাশ ভেঙ্গে মাথার উপর পড়ার সামিল।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। বলেছিলেন- “আমাদের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মোকাবিলায় আমরা কিছু আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।” এমন ঘোষণা দেশের আপামর জনসাধারণের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। কারণ রপ্তানীমূখী এই শিল্পগুলোকে যাঁরা বাঁচিয়ে রেখেছে তাঁরা হলেন এই শ্রমিক শ্রেণি। আর এই শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ বাবদ এমন প্রনোদনা ঘোষণা আশাব্যঞ্জক হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শ্রমিকদের প্রতি মালিক শ্রেণির সেই চিরাচরিত শোষণের প্রক্রিয়া কি থেমেছে? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।  

 

আরেকটি প্রশ্ন, কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা কি করতে পেরেছে এদেশের কারখানাগুলো? যদিও এমন প্রশ্ন করাটা অস্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। কারণ আমরা অনিয়মগুলো দেখতে দেখতে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, নিয়মের পক্ষে প্রশ্ন করাটা বা নিয়মের পক্ষে কথা বলাটাই যেন মহাপাপ। যাহোক, যখন পত্রিকায় বা অন্য কোন খবরে দেখি কারখানাগুলোর অব্যবস্থাপনার ফলে বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিক শ্রেণির মানুষগুলো তখন শিউরে উঠি। ভাবি, কতটুকু অনিরাপদ জীবন তাঁদের? অল্প মজুরীতে দিন-রাত কায়িক শ্রম দেওয়ার প্রত্যয়ে যে শ্রমিকটি ছুটে আসে কর্মস্থলে শুধুমাত্র নিজের বুনা কিছু স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, কিছু কিছু দুর্ঘটনা এমন শ্রমিকের স্বপ্নগুলোকে করে দেয় ধূলিসাৎ। যেমন- ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকান্ড, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজার ধ্বস, ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর নবাব কাটরার প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকান্ড, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের ফ্যান কারখানায় অগ্নিকান্ড এবং আরো অনেক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল শত-সহস্র নিরীহ মানুষের প্রাণ।  এসব ঘটনাগুলোর দায়ভার কি কেউ স্বেচ্ছায় নিয়েছে? নাকি কোন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কাউকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে? হয়তোবা বাস্তবে কোনটিই নয়। এভাবে অধরাই থেকে যায় অব্যবস্থাপনার কারখানা গড়ে তোলার একটি শ্রেণি। আর ভুক্তভোগী মানুষগুলোর কপালে হাত রেখে নিয়তির দোহায় দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

 

এভাবেই দিন কাটে আমাদের দেশের শ্রমিকদের। জীবন সংগ্রামের এগিয়ে যাওয়ার প্রতিটি ধাপে দিয়ে যায় শরীরের সমস্ত ক্যালরি। রাজনীতির বেড়াজাল তাঁরা বোঝে না। বুঝে শুধু দু’মুঠো আহারের সুর্যটা যেন কখনও অস্তমিত না হয়। তবে কখনও কখনও এমন দুর্বিসহ জীবনের অবসান ঘটাতে নেমে যায় রাজপথে, কিন্তু ফলাফল খুব বেশি আশাব্যঞ্জক হয় না। তাই আবার ফিরে যায় কারখানায়। তারা কোন ডাক্তার নয়, নয় প্রশাসনের কেউ অথবা স্বেচ্ছাসেবক, তবুও দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুড়াতে যেতে হয় কারখানায়। কারণ ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধের চেয়ে চাকুরীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা তাঁদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। মোটকথা, আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের ইতিহাস, একটি মহা বঞ্চনা ও মহা বৈষম্যের শিকার হওয়ার ইতিহাস। যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের মাথার ঘাম এবং বুকের তাজা রক্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যে শ্রেণির মানুষের জীবনগুলো ‘নূন আনতে পান্তা ফুরায়’, যে শ্রেণির মানুষের জীবনগুলো চলে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে, তাদেরও থাকে নিজস্ব স্বপ্ন, নিজস্ব বাসনা। আর এই মানুষগুলো আছে বলেই আমরা আজও বড়াই করে বলতে পারি ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ’, বলতে পারি ‘আমরা হাঁটছি উন্নয়নের মহাসড়কে’। কারণ তাঁরাই আমাদের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই শ্রমিক শ্রেণির বঞ্চনার শেষ কোথায়? এভাবেই কি লিখতে হবে আবারও আগামীতে?  না, আর না। এই শ্রেণির মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস আমাদের সমাপ্ত করতেই হবে। এগিয়ে আসতে হবে সরকার, শিল্পপতি অর্থাৎ মালিক শ্রেণি এবং আপামর জনসাধারণকে। আর আজকের এই দিনে পৃথিবীর শ্রমিক শ্রেণির সমস্ত শহীদদের প্রতি জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা। বেঁচে থাকুক যুগে যুগে পরম শ্রদ্ধার সাথে। পরিশেষে কবি নজরুলের কুলি মজুর কবিতার খন্ডাংশ দিয়ে শেষ করতে চাই।

“আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!”

লেখক: সাহিত্যিক, মুক্ত গবেষক ও প্রভাষক।

 

এই বিভাগের আরো খবর