ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের নাম পাঠানোর নির্দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার জালিয়াতি, সতর্কতা জারি সাহেদকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল আফগানিস্তান সীমান্তে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তালেবানের হুঁশিয়ারি সুদানের প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদক গৃহবন্দি বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়: তথ্যমন্ত্রী

শ্রীমঙ্গল উপজেলার উপ-নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে প্রতীক নির্ধারণ না পর্যন্ত প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ থাকলেও মনোনোয়ন পত্র দাখিলের পর দিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। বাকি তিন প্রার্থীও থেমে নেই। প্রকাশ্যে না এলেও বাকি তিন প্রার্থী বিভিন্নভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও এ ব্যাপারে নিরব নির্বাচন কমিশন।

 

এদিকে নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছেন- অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৪ প্রার্থী এই উপনির্বাচনে প্রার্থীতার মনোনয়ন পত্র জমা দেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভানু লাল রায়, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রব, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজল হক ও প্রেমসাগর হাজরা।

 

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভানু লাল রায় নানা কৌশলে নানা পন্থায় নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে নৌকার জন্য ভোট চাইতে দেখা গেছে। তার এই প্রচারনার জন্য বাদ পরেনি মন্দির , মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

 

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে সংবিধানের বাঁধা নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি চাকুরীজীবীরাও অংশ নিচ্ছেন রাজনৈতিক নির্বাচনীএ প্রচারনায়।

প্রার্থী ভানু লাল রায় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় নিজের ছবি সম্বলিত স্টিকার, নৌকা মার্কার আলোকসজ্জ্বা করছেন। শহরের মৌলভীবাজার সড়কের নাহার পেট্রোল পাম্প এর পাশে সেন মার্কেটে আলোকসজ্জ্বা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নৌকা। শহরের শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদিতে প্রার্থীর ছবি সম্বলিত স্টিকার লাগানো রয়েছে।

 

শুক্রবার ১০টার দিকে শহরের মৌলভীবাজার সড়কে মোটরসাইকেল শোডাউনও করতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীকে। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রীতিমত গান বাজনা করে প্যানডেল বেঁধে উৎসব করে চালিয়ে যাচ্ছে নৌকা প্রতীকের প্রচারনা ।

 

এছাড়া প্রায় প্রতিদিন ‘বিজয়ের মালা আনবো, ৭ তারিখ নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবো’ কথা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে উপজেলা রাধানগর, রূপসপুর, সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ উত্তরসুর, আমানতপুর, সবুজবাগ, ইছুবপুর, সুনগইড় ইত্যাদি এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে নৌকার জন্য ভোট চাইতে দেখা গেছে।

 

অন্যদিকে নির্বাচনের বাকি তিন প্রার্থী জাতীয় পার্টির মিজানুর রব, স্বতন্ত্র পার্টি আফজল হক ও প্রেমসাগর হাজরা বড় অনুষ্ঠান না করলেও বিচ্ছিন্নভাবে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ করে ভোট চাইছেন।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক জানান, আমরা এখনো প্রচারণা শুরু করিনি। সময় আসলে আমরা প্রচারণায় যাবো। তবে নৌকার প্রার্থী সভা সমাবেশ সব কিছুই করছেন। আমরা নির্বাচন অফিসকে বার বার অভিযোগ দিয়েছি। কোন কাজ হয়নি। আমরা এই বিষয়ে খুবই হতাশ, মর্মাহত। এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা করার ফলে শ্রীমঙ্গলের শান্তি বিনষ্ট হবে। আমরা চাই একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই একটি জনবান্ধব পূর্ণ নির্বাচন হোক। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেমসাগর হাজরা বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় সবাই খুশি হবে, ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট প্রয়োগ করতে ভোট কেন্দ্রে আসবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে যেন তাদের ভোট দিতে পারে সে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রশাসনকেই নিতে হবে।

 

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ভানু লাল রায়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে শনিবার সন্ধ্যায় দিকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি কল রিনিভ করেছেন অন্য ব্যক্তি। তবে অন্য আরেক সূত্র মতে জানা যায়, ‘ তিনি একটি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন, পরে কথা বলবেন।

 

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন ইকবাল বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না, আমি অসুস্থ। আচরনবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হবে। সেখানে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হবে, সেখান থেকে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করা হবে। আচরনবিধি ভেঙে আগাম প্রচারণার বিষয়টি আমার জানা নেই।

 

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা তপনজ্যোতি অসিম জানান, তফসিল ঘোষণা করার পরপরই এভাবে কোন প্রার্থী প্রচারণা শুরু করতে পারে না। এতে আচরনবিধি লঙ্ঘন হবে। আমাদের কাছে কোন প্রার্থী অভিযোগ দেয়নি। কোন প্রার্থী বা যে কেউ আমাদের অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

 

উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ছিলো মনোনোয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। আগামী ১৯ তারিখ এই উপজেলায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২০ তারিখ প্রতীক বরাদ্ধ। আগামী ৭ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর