ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় `জাওয়াদ` শুরু হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ট্রায়াল বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রোনালদোর রেকর্ডের ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’

সঞ্জীব চৌধুরীর ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২১  

 

আজ ১৯ নভেম্বর শুক্রবার, বরেণ্য সাংবাদিক ও গায়ক সঞ্জীব চৌধুরীর ১৪তম প্রয়াণ দিবস। সঞ্জীব চৌধুরী ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর বাই লেটারেল সেরিব্রাইরাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজীবন এই মানুষটি তাঁর রচিত গানে, কবিতায়, সাংবাদিকতায়, প্রগতিশীলতা ও গণতন্ত্রের  কথা বলে গেছেন সাহসি উচ্চারণে। বলে গেছেন দুঃখী-দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের মর্মবেদনার কথামালা। ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ, আমাকে নিঃশ^ করে দিয়েছিলো চাঁদ’, ‘রিকশা কেন আস্তে চলে না’, ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’, ‘ওই কান্না ভেজা আকাশ আমার ভালো লাগে না’, ‘দুঃখ ব্যথায় মুখটা যে নীল’, ও ‘সমুদ্র সন্তান’সহ শতশত জননন্দিত গানের গায়ক ও ফিচার সাংবাদিকতার পথিকৃত সঞ্জীব চৌধুরী। 


২০০৭-এর ১৯ নভেম্বর। তখন রাত প্রায় ১২টা। সবার স্রোত অ্যাপলো হাসপাতালের দিকে। শোকের মাতম হাসপাতালের করিডোরে। বাতাস ভারী। এদিক সেদিক ছুটছে সবাই। মস্তিষ্কে রক্তক্ষণ তার। লাখো ভক্তের প্রার্থনা। মুখে হাত ঠেসে কান্না থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা। কিন্তু কিছুতেই কিছু নয় । চলে গেলেন সঞ্জীব চৌধুরী। মাত্র ৪৫ বছর। স্ত্রী নাসরীন শিল্পী আর ৫ বছরের কিংবদন্তীকে নিয়ে ছিল সংসার। ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন  এই ক্ষণজন্মা সৃষ্টিশীল মানুষটি। অল্প সময়ের মধ্যে জগৎ মঞ্চ, রাজপথ, বন্ধুত্ব, গান-গিটার আর আড্ডা ছেড়ে ওপারে পাড়ি দিয়েছেন সঞ্জীব চৌধুরী। হলেন দলছুট। 


সঞ্জিব চৌধুরী ১৯৯১-তে যোগ দেন দৈনিক আজকের কাগজে। সৃষ্টিশীলতার নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করলেন গণমাধ্যমে। কয়েক দশকের কাটখোট্টা ভাষার অবসান। নতুন ফ্লেভার, নতুন স্বাদ। হাতে পত্রিকা নিয়েই-‘সঞ্জীব চৌধুরী’। কে এ? দ্রæত নামডাক ছড়ায় চারদিকে। পাঠকদের সঙ্গে এতদ্রæত কমিউনিকেশন! ১৯৯২-এ দৈনিক ভোরের কাগজে। এবার সরাসরি পাঠকদের প্লাটফর্ম তৈরির চেষ্টা। সে বছর ‘মেলা’ শিরোনামে একটি নিয়মিত সাপ্তাহিক বিনোদন পাতা চালু করেন। সাড়া পড়ে ব্যাপক। এরপর ২০০৫-এ দৈনিক যায়যায়দিন এ চিফ ফিচার এডিটর হিসেবে নিযুক্ত করেন নিজেকে। রাজনীতি, কবিতা, গায়েন, সাংবাদিকতা আর কী প্রয়োজন একজন সৃষ্টিশীল মানুষের। নাম ডাকের সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত জুটল বহু। হলেন আড্ডার মধ্যমণি। সঞ্জীব, সঞ্জীবদা কয়েক সম্বোধনে চিনতেন সবাই। শুধু তাই নয়, গল্প, নতুন স্বপ্ন, বা সাপোর্ট থেকে সবকিছুতেই এ মানুষ হলেন বটবৃক্ষ।

১৯৯৬-এ বাপ্পা মজুমদার নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ডদল। নাম ‘দলছুট’। নিজের কবিতা, চিন্তা আর ভাবনার ভেলা ‘দলছুট’। ১৯৯৮-এ প্রথম অ্যালবাম ‘আহা’। ব্যান্ড জগতের দুঃসময়ে কে ধরল হাল? অনেক শ্রোতার এ  প্রশ? সাড়া ফেললেন চতুর্দিকে। বেহিসেবি, বোহেমিয়ান জীবনে নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়- অভিনয়। এ ঢেঁকিও গিললেন।  একজন সাংবাদিক, কবি, ছড়াকার, লেখক, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, অভিনেতার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। এই ভালো মানুষটির জীবন বর্ণাঢ্য ও রঙিন। তাঁর জীবনের নীতি-নৈতিকতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সুন্দর ও শন্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে হবে। তাহলেই প্রিয় সঞ্জীব দাদার আত্মা স্বর্গ সুধায় মহিমান্বিত হয়ে যাবে সহজেই। 


আমি তোমাকেই বলে দেবো, সাদা ময়লা, সমুদ্র সন্তান, জোছনা বিহার, তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ, স্বপ্নবাজি প্রভৃতি কালজয়ী গানের সাথে জড়িয়ে আছে সঞ্জীব চৌধুরীর নাম। গাড়ি চলে না, বায়োস্কোপ, কোন মিস্তরি নাও বানাইছে গানগুলো গেয়ে বাংলা লোকগানকে তিনি নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দলছুট’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। দলছুটের চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুর দিয়েছেন তিনি। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকাল কান্দি গ্রামে জন্ম নেন এই গুণী শিল্পী। 


২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর বাই লেটারেল সেরিব্রাইরাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিদিনের চিত্র বিডি ডট কম পরিবার তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে।

ও/এফ


 

এই বিভাগের আরো খবর