Berger Paint

ঢাকা, বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬

ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
Mirzapur Tea
সর্বশেষ:
তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার উত্তাল দিল্লি, নিহত ১১ চাকরিচ্যুত হলেন ঢাবির ৫ শিক্ষক আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মদিন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, নাপোলির সঙ্গে বার্সার ড্র শেরপুরে চিরকুট লিখে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

সরাইলে একটি পরিবার গ্রামছাড়া, দিতে পারেননি স্ত্রীর কবর!

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ৭০৮
মাত্র আধা শতক জায়গাতে ছিলো জাফর আলীর পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই।

মাত্র আধা শতক জায়গাতে ছিলো জাফর আলীর পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই।

মাত্র আধা শতক জায়গাতে ছিলো জাফর আলীর পরিবারে মাথা গোজার ঠাঁই। এটিও জবরদখল, মারধর করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। একের পর এক মামলা দিয়েও হয়রানির ফলে পরিবারটি প্রায় একমাস ধরেই গ্রামছাড়া। তদুপরি টেলিফোনে দেয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুুুর এলাকার ভুলনেরপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ জাফর আলীর এসব অভিযোগ তারই আপন ভাই সুরুজ আলী এবং আরেক প্রবাসী ভাই হামিদ মিয়ার স্ত্রী মিলি আক্তারের বিরুদ্ধে।

নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪০ বছর ধরে আধা শতক পরিমাণ পৈত্রিক জায়গায় বসবাস করছিলেন জাফর আলী। গত বছরের জুন মাসে জরাজীর্ণ বসতঘরটি মেরামত শুরু করলে মিলি আক্তার বাঁধা দেন। জাফর আলীর পরিবার গত ২১ ডিসেম্বর পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় গেলে মিলি আক্তার ও তার ভাসুর সুরুজ আলী নির্মিত ঘরটি ভেঙ্গে জায়গাটিতে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাড়ি এলে মিলি ও সুরুজ আলীর ছেলেরা মিলে বৃদ্ধ জাফর আলী, তার ছেলে মনির মিয়া, মোশাররফ হোসেন, মনিরের স্ত্রী সীমা আক্তার, হেলেনা আক্তার ও ফারুক মিয়াকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে পরদিন থানায় গিয়ে উল্টো মিলি আক্তার বাদী হয়ে মামলা দেয় তাদের বিরুদ্ধে। পরে ২৪ ডিসেম্বর সুরুজ আলীকে প্রধান আসামী করে জাফর আলীর ছেলে মোবারক হোসেন হামলার অভিযোগে সাতজনকে আসামী করে মামলা দেন। মোবারক জানায় তাদের বিরুদ্ধে মিলি ও তার ছেলে নারী নির্যাতনের মামলাসহ চারটি মামলা দেয়। নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন(পিবিআই) কোনো সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়। আরেক ছেলে মনির হোসেন জানান, বাপ-চাচা ৮ জনের মালিকানায় পুরো বাড়িটি ৫৪ শতক। ভাগবন্টন না হলেও চাচা সুরুজ আলী আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন বাড়িতে। গত বছরের ৮ জুলাই মা আছিয়া খাতুন মারা গেলে সুরুজ আলীর বাঁধায় মাকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিতও করতে পারেননি।

সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে আরেক ভাই সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, সুরুজ আলী ও তার ছেলেদের অত্যাচারে ১৯৯৫ সাল থেকেই তিনি বাড়িছাড়া রয়েছেন। পৈত্রিক জমি বিক্রি করে হজ্বে যেতে চাইলে সুরুজ আলী বাঁধার সৃষ্টি করে। এছাড়া তাদের সাত ভাইয়ের মালিকানাধীন ৪৯ শতক জায়গাও সুরুজ আলী দখল করে রেখেছেন। কবরস্থান, বাড়ির জায়গা, ডোবা সবই তার দখলে। ২০ বছর ধরেই তাদের ওপর এই অত্যাচার চলছে বলে মজিবুর রহমান জানান মজিবুর। স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহের আলী জায়গা দখলে মিলি বেগমকে মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মেহের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,'ওই জায়গায় আমি একদিনই গিয়েছিলাম। ঘর ভেঙ্গে-দেয়াল দিয়ে মিলি অন্যায় করেছে।' তবে মিলি বেগম দাবী করেন, তার কাছে জায়গাটির দলিল রয়েছে। দখলকার সুরুজ আলীকে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি।

সরাইল থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, 'ঘটনা তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করছেন। তাদের কোনো সমস্যা থাকলেতো তারাই আমার সাথে যোগাযোগ করবে।

এই বিভাগের আরো খবর