ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৮ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
খুব শিগগিরই ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে: সালমান এফ রহমান সরকারের শক্ত অবস্থানের জন্য ভারত প্রশংসা করেছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জানুয়ারি থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন আজ আবারো শুরু হচ্ছে এইচএসসি’র ফরম পূরণ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ‘কিলিং স্কোয়াড’-এর এক সদস্য গ্রেফতার

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে টন টন ইলিশ

এম,এ মামুন, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২০  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। প্রত্যেক বাঙালীর কাছেে ইলিশ খুুব লোভনীয় মাছ। কিন্তু এই মাছ নিয়ে সাতক্ষীরার এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়ী পাচারের কারসাজিতে মেতে উঠেছে। পর্যাপ্ত পরিমানে ইলিশ মজুদ আছে সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর বড় বাজারে। ইলিশ প্রিয় ক্রেতাদের চাহিদা পুরনের লক্ষ্যে মজুদ করা হয়েছে বিভিন্ন দামের পর্যাপ্ত ইলিশ। প্রতি বছর দেশীয় ইলিশ খেতে বাজারে চলে আসে দিন মজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পর্যায়ের ক্রেতারা। বিপুল পরিমানে ইলিশের মজুদ হওয়ায় দামেরও কিছুটা তারতম্য হয়েছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পর্যায়ের ক্রেতারা ইলিশের কোয়ালিটি অনুযায়ী প্রতি কেজি ৮শ টাকা থেকে ১১শ টাকা দামে ইলিশ ক্রয় করছে। আবার দিন মুজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা প্রতি কেজি ৩শ টাকা থেকে ৬শ টাকা দামে ইলিশ ক্রয় করছে। এবছর প্রায় ১ হাজার মে: টন ইলিশ জনচাহিদা পুরনের লক্ষ্যে মজুদ হয়েছে বলে ইলিশ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।

তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাজা ইলিশ বাজারজাত না করে চোরাচালানীদের কাছে বিক্রির জন্য আলাদাভাবে মজুদ রাখছে।সাতক্ষীরার ভোমরা ও লক্ষ্মীদাঁড়ী সীমান্তের শীর্ষ চোরাকারবারী শংকর-বরুণ বাহিনীর সিন্ডিকেটের সদস্যরা শহরের সুতলানপুর বড় বাজার থেকে ক্রয় করছে টন টন ইলিশের চালান। এখান থেকে গভীর রাতে ইঞ্জিন ভ্যান, ইজিবাইক, আবার কখনো প্রাইভেটকারের মাধ্যমে ইলিশের চালান নিয়ে আসে ভোমরা সীমান্তে। পুলিশ ও সীমান্ত প্রশাসনযন্ত্রকে ম্যানেজ করার পর বিরাট ইলিশের চালানটি সীমান্তের দাসপাড়া, ঘোষপাড়া ও ঠাঁকুরপাড়া সীমান্ত দিয়ে নির্বিঘ্নে ভারতে পাচার করে দিচ্ছে চোরাকারবারী শংকর-বরুণ দাস সিন্ডিকেট। অভিযোগে জানা যায়, রাত ১২ টার মধ্যে ইলিশের বিরাট চালানটি ভোমরা সীমান্তে এসে পৌছানোর পর তা ভারতে পাচার হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ রয়েছে একাধিক সূত্রে। দেশের জাতীয় মৎস্য সম্পদ ইলিশ পাচারের দায়িত্ব নিয়েছে শীর্ষ চোরাকারবারী শংকর দাস ও তার সহযোগীরা। দীর্ঘ এক মাস যাবৎ চলছে ইলিশ পাচারের ব্যবসা। প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানায়, চোরাকারবারী শংকর দাস ও তার সহযোগি বরুণ দাস তাদের নিজস্ব এলাকার এক চায়ের দোকানে সন্ধ্যার পর ইলিশ পাচারের জন্য লেবারদের ডেকে চা চক্রে মিলিত হয়। এখান থেকে কিভাবে ভারতে ইলিশের চালান পাচার করা যায় সে বিষয়ে শলা পরামর্শ করে তারা। এরপর ইলিশ ভর্তি ৪/৫ টি ইঞ্জিন ভ্যান ও ইজিবাইক প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী দাস পাড়া ও ঘোষ পাড়া এলাকায়। পরে শংকর-বরুণ সিন্ডিকেটের লেবাররা ইলিশের কার্টন পাচার করে নিয়ে যায় ভারতে ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশী ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকায় ভারতীয় চোরাকারবারীরা সীমান্তের শংকর-বরুণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন টন টন ইলিশ ভারতে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মজুদকৃত ইলিশ ভারতে পাচার হলে জেলায় ইলিশের আকাল দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করছে। এদিকে চোরাকারবারী শংকর-বরুণ সিন্ডিকেটের ভোমরা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ইলিশের চালান ভারতে পাচার হওয়া সম্পর্কে ভোমরা ক্যাম্পের বিজিবির গোয়েন্দা (এফএস) নাজমুল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে, তিনি চোরাচালানী শংকর ও বরুণ দাসকে চেনেন না এবং ইলিশ পাচারের বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান। এছাড়া চোরাচালানী শংকর ও বরুণ দাসের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরো খবর