ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬

ব্রেকিং:
‘জাতীয় কনফারেন্স-২০১৯ : জিরো ল্যাপরোসি ইনেসিয়েটিভ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সর্বশেষ:
কুষ্ঠরোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করুন- প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১২-১৫ ডিসেম্বর প্রবেশ নিষেধ জানুয়ারির মধ্যেই ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন বেনাপোলে গাঁজাসহ দুই নারী আটক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভিনিং কোর্স বন্ধের নির্দেশ

সিলেট লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনলেন মেয়র আরিফ

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৯  

পঠিত: ১২৩৫
ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থলের সুরমা পয়েন্টে একটি ট্রাক ঘিরে দীর্ঘ লাইন। পাশ দিয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। লাইনে দাঁড়ানো মানুষজনের কাছে কারণ জানতে চেয়ে কাউকে কিছু না বলে তিনিও লাইনে দাঁড়ালেন। একটানা প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষজনের মতো কিনলেন সরকার নির্ধারিত মূল্যে এক কেজি পেঁয়াজ।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আজ সোমবার পেঁয়াজ বিক্রি করছিল সিলেট নগরে। নগরপিতা সেখানেই পেঁয়াজ কিনলেন। পেঁয়াজ কেনার জন্য মেয়র লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় লোকজনের ভিড়ও জমে। একপর্যায়ে পুলিশও মোতায়েন করা হয়। কিন্তু মেয়র ঠাঁয় লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনে ফিরেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কেনার বিষয়টি মেয়র বলেন, ‘চাহিদা ছিল। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলে পেঁয়াজ কিনেছি।’ মেয়র জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কেনার কারণ হচ্ছে সরকারনির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে মানুষের বিড়ম্বনা আর চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের চিত্র দেখা।

পেঁয়াজ কেনার পর টিসিবির পক্ষ থেকে এভাবে সরকারনির্ধারিত মূল্যে বিক্রির উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান মেয়র। তবে কম সরবরাহের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেয়র আরিফুল।

পেঁয়াজ কেনার সময় মেয়রের সঙ্গে ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান। তিনি ক্রেতার লাইনে দাঁড়ানো মেয়রের ঠিক পেছনে ছিলেন। মখলিছুর রহমান বলেন, ‘মেয়র লাইনে দাঁড়িযেছেন দেখে সামনের মানুষজন তাকে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছিলেন। মেয়র তাদের বিনয়ের সঙ্গে নিবৃত্ত করে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর ১২টা থেকে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শেষে পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় ট্রাকের কাছে পৌঁছান। পকেট থেকে ৪৫ টাকা দিয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কেনেন।’

চলতি পথে মেয়র পেঁয়াজ কিনেছেন এবং কেনা পেঁয়াজ বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই সময় মেয়রের সঙ্গে থাকা সিটি করপেরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মেয়র ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে নেমে ভিড় দেখেন। এরপর পেঁয়াজ কেনার বিষয়টি জেনে হুট করে লাইনে দাঁড়ান। এ সময় আমরা লাইনে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে পেঁয়াজ কেনার বিষয়টি সহাস্যে তিনি জানান। মেয়রের লাইনে দাঁড়ানো দেখে সাধারণ মানুষজনও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনেছেন।’

মেয়রের সামনে দুই ব্যক্তির আগে লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন কিনব্রিজ এলাকার তোপখানার বাসিন্দা একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দুজনের পেছনে মেয়রকে দেখে চমকে ওঠেছি। এ অবস্থায় কুশলবিনিময় করে জানতে পারি পেঁয়াজ কেনার বিষয়টি। তাঁকে লাইনের সামনে আমার স্থানটি ছেড়ে দিতে চাইলে তিনি ধন্যবাদ বলে নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে সবার মতো পেঁয়াজ কেনেন।’

টিসিবি সিলেট অঞ্চলের প্রধান ইসমাইল মজুমদার জানান, রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের তিনটি স্থানে সরকারনির্ধারিত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। তবে তিনটি স্থানে যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি গত শুক্রবার চোরাচালানির কাছ থেকে জব্দ করা ৭ হাজার ১১৯ কেজি পেঁয়াজ। সবখানেই ক্রেতার ভিড় বেশি ছিল।

টিসিবি জানায়, শুক্রবার র‌্যাব-৯–এর অভিযানে চোরাচালানিদের ট্রাক আটক করে ৭ হাজার ১১৯ কেজি পেঁয়াজ জব্দ করা হয়। ওই পেঁয়াজ শনিবার মহানগরের শাহপরান থানা এলাকায় নিলাম ডাকের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলে মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জনস্বার্থে এক আদেশ দিয়ে পেঁয়াজ খোলা বাজারে সরকারনির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশ দেন। এ নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর সুরমা পয়েন্ট, রিকাবিবাজার ও দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোড এলাকায় বিতরণ করা হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর