Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষার ফল ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ কোনো দলকে সমর্থন নয়, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত আরও তিন বছরের সাজা পেলেন অং সান সু চি করতোয়ায় নৌকাডুবি: পঞ্চম দিনের উদ্ধার অভিযান চলছে

সীমাহীন যানজটের কবলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশ

উলফত কবির, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর মধ্যে রাজধানী থেকে বাণিজ্যিক বন্দর নগরী সড়কপথ ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়ক অন্যতম। এ সড়কে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির নিয়মিত চলাচল করে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কটির নারায়ণগঞ্জ অংশে তীব্র জানযট লক্ষ করা যাচ্ছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বরে বৃহস্পতিবার সারাদিন মেঘনা টোল প্লাজার পর থেকে কাঁচপুরের আগ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। বিশেষত মেঘনা টোল প্লাজা পার হওয়ার পর নাঙ্গলবন্ধ ব্রীজের আগ পর্যন্ত এবং মদনপুরের আগে গাড়ি জটলা বেঁধে জ্যামেপড়ে থাকা যেন নিত্যদিনকার চিত্র। এর ফলে ঢাকা পৌছাতে কিংবা ঢাকা বিভাগ ছেড়ে কুমিল্লা পৌছাতে প্রায় প্রতিদিনই ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে যা মাস হিসাবে এই সড়কে চলাচলকারীদের প্রায় তিন কর্মদিবসের সমান শ্রমঘন্টার অপচয় করছে।

 

সরজমিনে দেখা যায় যে, ঢাকাগামী বাস ট্রাক প্রাইভেট গাড়ি মেঘনা টোল প্লাজা পার হওয়ার পর নারায়নগঞ্জের পিরোজপুর ইউনিয়নের মারিখালি নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের সামনে কিছুক্ষণ জ্যামে আটকা থাকে, গাড়ির নিওমিত চাপের তুলনায় ব্রীজটা খাটিকটা সরু থাকায় এই অবস্থা হয়। তারপর সোনারগাঁ উপজেলার টিপরদি অংশের পর থেকে লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজ এর আগে পর্যন্ত তীব্র জানযট শুরু হয়, লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজটি পুরাতন হয়ে পড়ায় মাঝেমধ্যেই সংস্কার চলে, তখন জ্যামজট বেড়ে পিছনে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজটিও তুলনামূলক সরু থাকায় ব্রীজে উঠতে গাড়ির জটলা লাগে। লাঙ্গনবন্ধ ব্রীজ পার হয়ে বন্দর উপজেলার মদনপুর মোড়ের কাছে আবারো শুরু হয় যানজট, এবার কারন ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা যানবাহন। মদনপুর পার হলে ইদানিং কাঁচপুরের আগেও পরে গাড়ির জটলা, বিভিন্ন গাড়ি রাস্তায় দাড়িয়েই যাত্রী নামায় আবার যাত্রী উঠাতে দাড়িয়ে থাকে, তাই পিছনে গাড়ির জট লেগে যায় দীর্ঘ, একই অবস্থা সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার চিটাগংরোড আর সানাড়পার অংশেও। তাছাড়া চিটাগাংরোড মোড়ের রাস্তা ও ফুটপাতের অংশ প্রায় পুরোটাই অবৈধ দোকানপাঠের দখলে। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান করলেও সপ্তাহ না যেতেই সব দোকানপাঠ আবার গড়ে ওঠে। ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম গামী লেনেও একই অবস্থা, জ্যামজটে নাকাল সব গাড়ি এবং চলাচলকারী যাত্রীরা।

 

ঢাকায় একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা তাসনিম সুলতানা প্রতিদিনের চিত্রকে জানান, তিনি সকাল ৭টা বাজে তার ছোট ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে সোনারগাঁয়ের কেওডালা এলাকা থেকে ঢাকার কাঁকরাইলে গিয়ে সকাল ৯টায় অফিস ধরেন, মাঝেমধ্যে দশ-বিশ মিনিট দেরিও হয়ে যায়, অথচো হিসাবে কাঁকরাইল যেতে তার ১ ঘন্টার বেশি লাগার কথা না, জ্যামের জন্য উল্টো আরো ১ ঘন্টা আগে রওনা দিয়েও সময়মতো অফিসে পৌছাতে পারেন না, ৭টা বাজে রওনা দিয়ে চিটাগাংরোড পার হতেই তার ৮টা বেজে যায়, আবার গুলিস্তান মুখে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজার মুখেও গাড়ির বিশাল জটলা বাঁধে, তাই প্রায়ই ফ্লাইওভারের উপরেই বাস থেকে নেমে হেটে তাকে চলে আসতে হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত। বিরক্তির সূরে তিনি বলেন, এভাবে দিনে যেতে আসতে ২-৩ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় অপচয় হলে দেখা যাবে সামনে আরেকটি সন্তান নিলে আর চাকরি করার উপায় থাকবে না। ঢাকা থেকে কুমিল্লার চান্দিনাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের ড্রাইভার মোঃ গোলজার মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ি থেকে সকালে ট্রাক নিয়ে চান্দিনা পৌছে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, রাস্তাঘাটে এতো জ্যাম না থাকলে চান্দিনা থেকে দুপুরের ভিতরেই ঢাকায় পৌছানো যেত, তাহলে দিনে ট্রাকের ট্রিপও বাড়তো।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঁচপুরের স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে রাস্তায়, সে তুলনায় আগেকার আমলের কিছু ছোট ব্রীজ সরুই থেকে গেছে যার জন্য গাড়ির দীর্ঘ জট বেঁধে যায় লাঙ্গলবন্ধ সহো কিছু ব্রীজে উঠতে। স্থানীয় অনেকের রুট পার্মিট বিহীন লোকাল গাড়ি চলে পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে মাশোয়ারা করে, চিটাগংরোড, কাঁচপুর ও মোগড়াপাড়া এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় বহুকাল ধরে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে অবৈধ আর ভাসমান দোকানপাঠ চলছে যা পুলিশি অভিযানেও দূর করা যাচ্ছে না, এসব ভাসমান দোকানপাঠ থেকে মাসে কোটি টাকারও উপরে ভাগ যায় সেসব নেতাদের পকেটে, রাস্তায় তাই মানুষ চলাচল করে ফুটপাথের বদলে, গাড়িও দাড়িয়ে থাকে আর জ্যামও পড়ে। বিভিন্ন পয়েন্ট যেমন কাঁচপুর আর সাইনবোর্ড মোড়ের জ্যাম কমানো গেছে কিন্তু এই জ্যামটা আবার মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের মুখে আর গাড়ি নামার জায়গায় যেয়ে পড়ে সেখানকার সরু রাস্তা আর সিগন্যালের কারনে, সানাড়পারে সরকারের করা ৮ লেনের রাস্তার সুফল তাই পাওয়া যাচ্ছে না পুরোটা।

 


মূলত লাঙ্গলবন্ধ ব্রীজ এবং মদনপুরের মোড় কেন্দ্রীক যানজটটা বেশি ভোগাচ্ছে জনসাধারণকে। চলাচলকারীদের মতে মদনপুর মোড়ে যদি সাইনবোর্ডের মতো ট্রাফিক সিগন্যাল উঠিয়ে দিয়ে ইউ-লুপ সিস্টেমে গাড়ির রাস্তা পাড়াপাড়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং লাঙ্গলবন্ধে ব্রহ্মপুত্র নদের উপরে আরেকটা ব্রীজ করে ব্রীজের রাস্তা প্রশস্ত করে দেওয়া হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ অংশের এই তীব্র যানজট অনেকটই কমে যাবে, সাথে রাস্তার বিভিন্ন মোড় কেন্দ্রীক অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকনপাঠ চিরতরে উচ্ছেদ করে আর গাড়ি থামার জন্য নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করে দিলে যত্রতত্র গাড়ির হুটহাট জট থেকে রেহাই মিলবে। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের এই জ্যামজট নিরসনে এখনো উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি, স্থানীয়রা এবং যাত্রীসাধারণ তাই এখন অপেক্ষায় আছে তাদের মূল্যবান শ্রমঘন্টা বাঁচাতে এবং যানজটের ভোগান্তি দূর করতে সরকার ও প্রশাসনের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপের দিকে।

এই বিভাগের আরো খবর