Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৫ ১৪২৭

ব্রেকিং:
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র, সুনামির সতর্কতা বাহরাইনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত আর্জেন্টিনায় শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ালো ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা: ৪ স্কুল শিক্ষার্থী আটক রাখাইনে সু চির দলের ৩ প্রার্থীকে অপহরণ চীন আটকাতে নৌ-মহড়ায় ভারতের সাথে সংযুক্ত হবে অস্ট্রেলিয়া
সর্বশেষ:
প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৭২৯ আর্মেনীয় যোদ্ধা নিহত ঢাকার পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার টিকটকের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল পাকিস্তান

সুস্থ ও সবল সন্তান প্রত্যাশায় করণীয়

ডা. শহিদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পঠিত: ১৩৫
ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত


একদিন আমার কাজের ফাঁকে আমার বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলাম। তিনি একজন ডাক্তার, চাকরী করেন ঢাকা শিশু হাসপাতালে। ভাইয়া ডিউটি করছে আর আমি পাশে বসে সব কিছু অবজার্ভ করছিরাম। প্রচুর শিশু রুগী আসছে। একসময় একটা শিশু রুগী ভর্তি করার পর ভাইয়া আমাকে ঐ শিশুটাকে দেখে আসতে বললেন। আমিও আগ্রহ সহকারে শিশুটির কাছে গেলাম। প্রথমে শিশুটির মাকে জিজ্ঞাস করলাম আপনার বাচ্চার কি সমস্যা? "তখন বাচ্চার মা বললেন আমার বাচ্চা জন্মের পর দেরিতে কান্না করেছে, আর ওর পিঠের নিচের দিকে মেরুদন্ডের উপর একটি টিউমার দেখা গেছে।" আমি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আবিস্কার করলাম বাচ্চাটি জন্মের পর দেরিতে কান্না করার কারণ। এই বাচ্ছাটি জন্মের সময় ব্রেইনে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় অক্সিজেন সাপ্লাই পায়নি, তাই বাচ্চাটির ব্রেইনের গঠন স্বাভাবিক হয়নি।

মেডিকেল এর ভাষায় এই সমস্যাকে Hypoxic Ischaemic Encephalopathy বলা হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবে এই বাচ্চার মেধা ও শক্তি একটি সাধারণ বাচ্চার চেয়ে অনেক কম হবে। আমার কথার ফাঁকে বাচ্চাটির মা বলছে স্যার আমার বাচ্চাটি বাঁচবে তো?  আমি  বললাম বাঁচবে ইনশাআল্লাহ তবে আমি বলতে পারিনি তার ভবিষ্যতে  কি কি সমস্যা হতে পারে কারণ তখন আমি দেখি বাচ্চাটির মায়ের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে।

এরপর আমি পিঠের টিউমারকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলাম যে, তার পিঠের টিউমারের মধ্যে ব্রেইনের নিচের অংশ (স্পাইনাল কর্ড) মেরুদণ্ডের হাড় ভাল ভাবে জোড়া না লাগার জন্যে এটি বেড়িয়ে এসেছে। যাকে মেডিকেল এর ভাষায় Meningomyelocele বলা হয়। যার  একমাত্র সমাধান নিউরো সার্জারি। বাচ্চার মা কান্না করে বলছে স্যার আমাদের সব টাকা-পয়সা শেষ,  এখন এত জটিল অপারেশন কিভাবে করবো বুঝতে পারছিলানা।  শুধু মনে মনে ভাবছিলাম প্রথমে অপারেশন করার। তারপরও বাচ্চাটি স্বাভাবিক বাচ্চার মত হবেনা।

অন্যদিকে, বাচ্চার পিতা-মাতা অর্থনৈতিক ভাবে অসহায়। আমি আর কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে সোজা হাপসপিতাল থেকে চলে  আসলাম। সেই কষ্ট থেকেই আজকের এই লেখাটি।

আমরা জেনে নিই একটি সুস্থ ও সবল বাচ্চা পেতে হলে আমাদের কি কি করনীয়, তা আবার আমার ডাক্তারি বিদ্যা অনুসারে নিম্নরুপ।

১.সন্তান প্রত্যাশিত মায়ের স্বাস্থ্য তার উচ্চতার সাথে ঠিক আছে কিনা দেখে নিতি হবে, সঠিক না থাকলে নিয়ম কানুন অনুসরণ করে ঠিক করতে হবে।

২.সন্তান প্রত্যাশিত মায়ের শরীরে রক্তের পরিমান অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা সঠিক রাখতে হবে (কমপক্ষে ১২)। গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন ৩ পর্যন্ত কমে যায় তাই আগে থেকে কম থাকলে পরে অনেক সমস্যা হবে।

৩.সন্তান প্রত্যাশিত মায়ের রক্তচাপ কম বা বেশি অথবা ওঠানামা করলে এর সঠিক সমাধান গ্রহণ করে তারপর সন্তান নিতে হবে।

৪. সন্তান প্রত্যাশিত মায়ের ডায়াবেটিস ও কোন যৌন রোগ আছে কিনা তা ব্লাড গ্লুকোজ, VDRL ও অন্যান্য Test করে দেখে নিতে হবে। এতে করে সমস্যা থাকলে তা সমাধান করে নেওয়া যাবে।

৫. Folic acid, Vitamin B12, Zinc, Vitamin C, Cord Liver Oil বাচ্চা নেওয়ার ৩ মাস আগে থেকে প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই খেতে হবে।

৬. সন্তান নিতে চাইলে ১ মাস আগ থেকে ধূমপান, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য পরিত্যাগ করতে হবে। যা খেলে শুক্রানু উৎপাদন কমে যাবে আর যা উৎপাদন হবে তা সুস্থ ও সবল হবেনা। আপনি ভাল ফসল চাইলে কখনো খারাপ বীজ দিয়ে আশা করতে পারবেন না।

৭. বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছে হলে নূন্যতম ৭-১০ দিন কোনরূপ বীর্জপাত করবেন না, তাতে আপনার শুক্রানু অনেক সবল ও সুস্থ হবে।

৮. বিবাহিত নারীদের মাসিক হওয়ার ১ম দিন থেকে গুণে গুণে ১৪তম দিন বাচ্চা নিওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রী মেলামেশা করবেন কারণ ওই নারীদের  ডিম্বানু সবচেয়ে বেশি সতেজ থাকে।

৯. টেনশন ও স্ট্রেস বিহীন সুন্দর জীবন যাপন করবেন।

১০. নিয়মিত নামাজ পড়ে পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে একটি ভালো বাচ্চা চাইবেন, যে বাচ্চা সমাজে আপনার মুখ উজ্জল করবে এবং আপনি পাবেন পিতৃত্বের আসল সাধ।

১১. একটি সন্তান যে আপনাকে সারাজীবন বাবা বলে ডাকবে যার উপর নির্ভর করবে আপনার সকল অর্জন সফল নাকি ব্যর্থ। অতএব দয়া করে কষ্ট হলেও নিয়োমগুলো মেনে চলবেন।

১২. নিজের স্ত্রীকে ভালবাসবেন, কারণ সেই আপনাকে একটি সুসন্তান উপহার দিবে।

একটি কথা মনে রাখবেন আপনার সন্তান আপনার ফটোকপি।

 

লেখক: ডাঃ শহিদুল ইসলাম, এমবিবিএস, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।
মেডিকেল অফিসার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ।