Berger Paint

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৭

ব্রেকিং:
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ম্যারাডোনার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু
সর্বশেষ:
এবার কারাবাখের কালবাজার নিয়ন্ত্রণ নিল আজারবাইজান করোনায় আক্রান্ত বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনী আরও দক্ষ হয়ে দেশ গড়বে

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

পঠিত: ২৬০
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২০ উপলক্ষে টিভিতে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি- সংগৃহীত।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২০ উপলক্ষে টিভিতে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি- সংগৃহীত।


দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত এবং দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে বিশেষায়িত ও অত্যাধুনিক সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করবার লক্ষে অগ্রসর হচ্ছে এ সরকার। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য সরকারের থেকে বেশি ভূমিকা রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার। নিষ্ঠা, সততা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় শক্তিশালী হয়ে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখাবেন- পরম করুণাময় আল্লাহ্তায়ালার কাছে এই প্রার্থনা করি।

 

শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় 'সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০' উপলক্ষে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত করছি- জাতির পিতা প্রবর্তিত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’-এই মূলমন্ত্র দ্বারা। প্রতিবেশী প্রতিটি রাষ্ট্রের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে, যেকোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদাপ্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

 

সেই লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। বিগত এক দশকে আমরা সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে মানসম্মত আধুনিক সমরাস্ত্র ও উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই- আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে, অতীতের কোন সরকার সেটা করেনি। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দেশের যেকোনো সমস্যা এবং ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সতর্স্ফুত অংশগ্রহণে ‘লক-ডাউন কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করেছে।

 

সেনাবাহিনী জনগণের মধ্যে 'কোভিড-১৯' মহামারি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে অগ্রণীভূমিকা পালন করছে। এবং বিভিন্ন দেশ আগত স্বদেশী ব্যক্তিবর্গদের জন্য মানসম্মত কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী আটকে পড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।

 

সরকার প্রধান বলেন, দুইটি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এএফএমসি, এমআইএসটি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সামরিক হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতাকে বাড়াতে সেনাবাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর্মি ইনফরমেশন টেকনোলজি সাপোর্ট অর্গানাইজেশন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে আজকের এই দিনটি এক বিশেষ গৌরবময় স্থান দখল করে আছে, এটি আমাদের গর্বের। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যগণ যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। সম্মিলিত আক্রমণের মুখে শত্রুবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম হয়েছিল, তা আজ মহীরূহ হয়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন প্রতিরক্ষা নীতি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসে যেখানে বিশ্বের বহু শক্তিশালী, উন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির রাষ্ট্র যখন ঋণাত্মকমূখী প্রবৃদ্ধির মূখে পড়েছে তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

'আমাদের প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে।'

এই বিভাগের আরো খবর