Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৮ ১৪২৭

ব্রেকিং:
বন্যা মধ্যাঞ্চলেও ছড়াল বন্যা, ১৫ জেলায় দুর্ভোগ লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করে সমালোচিত হওয়ার পর নিউ জিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫২ হাজার করোনায় আক্রান্ত
সর্বশেষ:
আজ দেশের অর্ধেক অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি, ১ নম্বর সতর্কতা হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের ঢামেক করোনা ইউনিটে দু’দিনে আরো ১৬ জনের মৃত্যু

‘‘স্কুল কেবিনেট নির্বাচন’’

রহিমা আক্তার মৌ

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ৫০০
ছবি-প্রতিদিনের চিত্র

ছবি-প্রতিদিনের চিত্র

২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২০ সালের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের লক্ষ্যে স্টুডেন্ট কেবিনেট ম্যানুয়াল, নির্বাচনি তফসিল ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পরিচালক, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। সারাদেশে নির্বাচনের সব প্রস্তুতিও শেষ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে গত ১২ জানুয়ারি বিভিন্ন দফতরপ্রধান, সব আঞ্চলিক পরিচালক, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’-- (তথ্যসূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ২৩ জানুয়ারি ২০২০)

২৫ জানুয়ারি শনিবার সকাল নয়টা থেকে দেশের সব স্কুলে স্কুল কেবিনেট নির্বাচন ২০২০ শুরু। জানি স্কুলে অভিভাবক হিসাবে আমার কোন কাজ নেই, কিন্তু লেখালেখি করি বলে সব জায়গায় আমার কাজ। সাভার থেকে এসে সরাসরি স্কুলে যাই। ভোট দেওয়া শেষ। এখন বিরতি দিয়েছে। দুপুরের খাওয়ার পর গণনা শুরু হবে। স্কুলের পুরো মাঠ জুড়ে নীল সাদা ড্রেস আর লাল সুয়েটার পরা ক্ষুদে ভোটাররা নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছে। ফারিহা আহসান অভ্র আমার ছোট সন্তান। অভ্র এবার দশম শ্রেনীতে পড়ে। এইস্কুলে পুরো কুড়ি বছর যাবত আমি অভিভাবক হয়ে আছি। অনেকেই চেয়েছেন স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি হই, কিন্তু এসবে আমার কখনই আগ্রহ ছিল না। আছি সাধারণ একজন হয়েই থাকতে ভালোবাসি।

রাজধানী ঢাকা সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ জানুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের স্কুল কেবিনেট নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। শিশুকাল থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন শেখাতে সহিষ্ণুতা শেখাতেই স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষকদের নানা কাজেও সহায়তা করবে। এ বছর স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৩১ হাজার ৭২টি এবং মাদ্রাসায় ৫২ হাজার ৩৩৬টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬। উল্লেখ্য ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভ্র'র বন্ধুদের অনুরোধে সেও প্রার্থী হয় এবার। ২০১৯ সালে ২২ হাজার ৯৬১টি প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৮টি পদের বিপরীতে তিন লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল। ২০১৯ সালে মোট ভোটার ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৮ জন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিতরা একজন প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী নির্বাচন করে মন্ত্রিসভা গঠন করে।

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের বিকাশ, গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সকল মাধ্যমিক ও দাখিল মাদরাসায় ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ২০১৫ সালে প্রথম স্টুডেন্টস কেবিনেট ম্যানুয়াল-২০১৫ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালেও দেশের সকল মাধ্যমিক ও দাখিল মাদরাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসা সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে ব্যানবেইসের পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।  শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্টুডেন্টস কাউন্সিল’ ধারণা সফল হওয়ায় ২০১৫ সালে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে হাইস্কুল, মাদরাসা ও টেকনিক্যাল স্কুলকে ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট’ নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। যেসব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল নেই সেখানে একাধিক হাই স্কুলকে মনোনীত করা হয়। সারা দেশের প্রায় এক হাজার ৪৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠিত হয়েছিল।

২০২০ সাল হতে দেশের সব স্কুল-কলেজে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের খসড়া কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত এবং স্কুল এন্ড কলেজ যেসব প্রতিষ্ঠানে দ্বাদশ শেণি পর্যন্ত আছে শুধুমাত্র সেসব প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হবে।

স্কুল কেবিনেট নির্বাচন সম্পর্কে ভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা যা বলেন-
কামরুল বাহার আরিফ, (কবি, রাজশাহী) স্কুল কেবিনের নির্বাচন নিয়ে বলেন, "স্কুল পর্যায়ে এভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে গণতান্ত্রিক মনোভাবকে দৃঢ় করা হচ্ছে। সাংগঠনিক চেতনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি এভাবেই নেতৃত্ব সৃষ্টি করার প্রয়াস আমি মনে করি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে সঠিক পথে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করারও প্রয়াস নিতে হবে। তাদেরকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করে একটি মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সে লক্ষ্যে শিক্ষকদেরকেও প্রশিক্ষিত করতে হবে।"

মোজাম্মেল হক নিয়োগী, (কথা সাহিত্যিক ও শিশু সাহিত্যিক) বলেন, "আমাদের দেশটা খুব আজব। শিক্ষা নিয়ে যত গবেষণা হয় পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কি না সন্দেহ রয়েছে। এসব নির্বাচনে শিশুদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও এগুলো নেতৃত্ব বিকাশের ধোঁয়া তুলে করা হচ্ছে, কিন্তু আমি মনে করি প্রতি ক্লাসে ক্যাপ্টেন নির্বাচন করে এই কাজ করা যায়। একজন শিশুসাহিত্যিক হিসেবে আমি মনে করি স্কুলে রাজনীতি চর্চার চেয়ে জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চা অতীব জরুরি বিষয়।"

মোঃ আমির খসরু (উন্নয়ন কর্মী) স্কুল কেবিনের নির্বাচন নিয়ে বলেন, " অভিভাবক হিসেবে আমি খুব খুশী এইজন্যই যে শিক্ষার্থীরা তাদের সামাজিক  দায়িত্ববোধ, স্কুল ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সচেতন হবে। আমার মেয়ে সাদিয়া আমির নীরা নোয়াখালী সরকারি গার্লস স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। সে স্কুল কেবিনেট নির্বাচন করেছে এবং জয়ী হয়েছে। যখন জানতে পারলাম সে নির্বাচন করছে, শুনে প্রথমে হাসলাম। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করলাম কেন নির্বাচন করছো সে তখন বললো 'আমাদের সুবিধা অসুবিধা গুলো আমরা বলতে পারব, তাই স্কুলকে সহযোগিতা করার জন্য আমি নির্বাচন করছি।' এইটুকু মেয়ে কি সুন্দর করে আমাকে উত্তরটা দিয়ে দিল।"

মেরী লিন্ডা গমেজ মাস্টার (সিনিয়ার শিক্ষক, বটমলী হোমস বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা) স্কুল কেবিনের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, "আজ পুরোদিন একটা আনন্দগন দিন পার কররো শিক্ষার্থীরা। ওরা খুবই দায়িত্বের সাথে দিনটা পার করেছে। নিজেরা ভোট দিয়েছে, ভোট দিতে অন্যদের উৎসাহী করেছে। নিজেরাই পলিং অফিসার পিজাইডিং অফিসার হয়েছে, ভোট গননা করেছে। ভবিষৎ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ওদের মতোই কেউ না কেউ করবে। স্কুল কেবিনের নির্বাচন এর মাধ্যমে ওরা দায়িত্ব সম্পর্কে শিখছে, প্রতিটি ব্যক্তির নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে তা ওরা বুঝছে। আমরাও ওদের সাথে ছিলাম, আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।"

ক্যাসেন্ড্রা প্রিসিলা গমেজ (প্রার্থী, দশম শ্রেনী, বটমলী হোমস বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা) ক্যাসেন্ড্রা একজন প্রার্থী। ভোট গ্রহনের পর কথা বলি ওর সাথে। জিতলে কি কি করবে আর হেরে গেলে কি করবে জানতে চাইলে ক্যাসেন্ড্রা বলে, "হারলে কোন কষ্ট পাব না, যে জিতবে তার সাথে সবাই মিলে কাজ করব স্কুলের জন্যে। আর জিতলে তো অনেক দায়িত্ব। জিতলে কি কি করবো এমন কিছু কথা বন্ধুদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সেগুলো পালন করবো। আমাদের সাধ্যের মাঝে যা যা করার তাই করবো।" ক্যাসেন্ড্রা প্রিসিলা গমেজ লেখা পড়ার পাশাপাশি ড্রায়িং করে, গান করে গিটার বাজায়। ক্যাসেন্ড্রা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।

সাদিয়া আমির নীরা নোয়াখালী সরকারি গার্লস স্কুলের একজন প্রার্থী। সাদিয়া এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। এবারই প্রথম স্কুল কেবিনেট নির্বাচনে অংশ নেয় সে। নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সে। নির্বাচন নিয়ে সাদিয়া বলে, ‘এখন আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো আমরা বলতে পারব। স্কুলের শিক্ষকদের সাথে আমরাও কাজ করতে পারব। স্কুলকে সহযোগিতা করার জন্য আমি নির্বাচন করেছি। আমি খুবই আনন্দিত ভোট দিতে পেরে।’ পড়াশোনার পাশাপাশি সাদিয়া গান শেখে।

ফারিহা আহসান অভ্র (প্রার্থী, দশম শ্রেনী, বটমলী হোমস বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা)  স্কুল কেবিনের নির্বাচন নিয়ে অভ্র বলে, যদিও প্রার্থী হিসাবে আছি বন্ধুদের ইচ্ছেই আমি দাঁড়াই। ভোট দিতে গিয়ে আমার চেয়ে যাকে ভালো মনে করেছি তাকে ভোট দিয়েছি। আমার মনে হল আমার চেয়ে ওরা ভালো কাজ করতে পারবে তাই ওদেরকে ভোট দিয়েছি। ওদের চেয়ে কম ভোট পেয়েছি বলে মন খারাপ নয়, আমরা সকলেই স্কুলকে ভালোবাসি একসাথেই স্কুলের জন্যে কাজ করবো। একজন প্রার্থী হয়ে নিজের ভোট প্রধান করতে পেরে আমি খুব খুশি।"লেখাপড়ার পাশাপাশি অভ্র আর্ট শিখছে, এবার সে আর্ট একাডেমির ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর্টের সাথে সে গল্প লিখে জাতীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে। অভ্র'র দুইটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে।

রাইসা নানজীবা (প্রার্থী, নবম শ্রেনী, বটমলী হোমস বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা) রাইসা  ২০২০ সালের স্কুল কেবিনের নির্বাচনের একজন প্রার্থী। ফলাফল প্রকাশের পর কথা হয় ওর সাথে। নির্বাচন নিয়ে রাইসা বলে, "সময় পেলেই আমি ক্লাসের দুর্বল বন্ধুদের পড়া বুঝাতে সহায়তা করি, এটা আমার বেশ ভালো লাগে। নির্বাচনে জয়ী হবার পর দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। স্কুলের জন্যে কাজ করবো, শিক্ষার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলবো। স্কুলের সুনাম হয় সে সব কাজ করবো। আশেপাশে অনেক স্কুল আছে, অন্য স্কুলের ভালো বিষয়গুলো আমরা অনুসরণ করব। যাতে আমাদের স্কুলের সুনাম হয়।" লেখাপড়ার রাইসা নানজীবা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে, দাবা খেলে। অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে কিশোর আলো সংগঠনের সাথে জড়িত।

স্কুল কেবিনেট নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আটটি কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেগুলো হলো- পরিবেশ সংরক্ষণ (বিদ্যালয়, আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কার এবং বর্জ ব্যবস্থাপনা); পুস্তক ও শিখন সামগ্রী, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং সহপাঠ কার্যক্রম; পানি সম্পদ; বৃক্ষ রোপণ ও বাগান তৈরি; দিবস ও অনুষ্ঠান উদযাপন এবং অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন; আইসিটি। এ কেবিনেট মাসে কমপক্ষে একবার করে সভা করে। ছয় মাস পর পর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে সাধারণ সভা করবে।

স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের’ মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চাসহ একে অপরকে সহযোগিতা করা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা, পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিগত বছরের মতো এবারো শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে আট সদস্যের স্টুডেন্টস কেবিনেট। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো ছাত্রছাত্রী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে। একজন ভোটার সর্বোচ্চ আটটি ভোট দেবে। প্রত্যেক শ্রেণিতে একটি করে এবং যেকোনো তিন শ্রেণীতে সর্বোচ্চ দুটি করে ভোট দিতে পারবে। প্রতি শ্রেণি থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। পাঁচ শ্রেণিতে পাঁচজন নির্বাচনের পর তাদের মধ্য হতে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজন নির্বাচিত হবে। বিধান অনুসারে এবারো নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোনো রকম ছাপানো পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার ও দেয়াল লিখন করা যাবে না। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে লেখা পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানের সীমানা বা চত্বরের বাইরে প্রচার করা যাবে না। নির্বাচন পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েই তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

স্কুল কেবিনেট নির্বাচন চলা সময়ে কয়েকটা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয় কেউ কেউ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকাশ করেছেন। কারো কারো মতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে আমরা পালন করছি, পজেটিভ বা নেগেটিভ কিছুই দেখিনা। কুড়িগ্রামের এক শিক্ষক বলেন,"নির্বাচন হওয়া দিয়েই কাজ শেষ, সারা বছর এই নির্বাচন এর কোন ফলাফল বা প্রভাব থাকে না।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেজগাঁও এলাকার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, "২০১৫ সাল থেকে কেবিনেট নির্বাচন শুরু হলেও শহরে অল্প স্বল্প প্রচার আছে, গ্রামে নেই কিছুই। আর শহরের স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভোটের দিন অনেক অনুপস্থিত থাকে। নির্বাচন সম্পর্কে ওদের সাথে শিক্ষকদের আলোচনা করা দরকার, ওদেরকে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো দরকার।" ব্যক্তিগত ভাবে স্কুল কেবিনেট নির্বাচনকে পজেটিভ ভাবে দেখিনা কিছুই। মনে হচ্ছে এই নির্বাচন অল্প বয়সি শিক্ষার্থীদের মাঝে রাজনীতির জন্ম দিচ্ছে। আজ থেকে ২৮/৩০ বছর আগে আমরা এমন নির্বাচন করিনি, তবে ক্লাসে ক্যাপ্টেন হিসাবে দুজন নির্বাচিত হতো। যা শ্রেনী শিক্ষক ঠিক করে দিতেন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব উঠে এসেছে অনেকবার। কিন্তু স্কুল কেবিনেট নির্বাচন রাজনীতির পথেই নিচ্ছে বলে মনে হয়। আবার এর অন্যদিনও দেখলাম। কয়েকজন ভোটার শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলি। জিজ্ঞেস করি যাকে ভোট দিয়েছে কি বিবেচনা করে দিয়েছে। কেউ বলে লেখাপড়ায় ভাল কিনা তা বিবেচনা করেনি। ব্যক্তি হিসাবে কেমন তা ভেবে ভোট দিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলে, যে কাজ করার শক্তি সামর্থ্য রাখে তাকে দিয়েছি। এসব শুনে মনে হল ওরাও বুঝতে শিখছে। নিজেরাই পোলিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসার হয়েছে, নিয়ম মেনে গণনা করেছে। উৎসাহ নিয়েই করেছে, কিছু শিখেছে, হয়তো এর গুরুত্ব আর প্রয়োজন রয়েছে।

লেখক- সাহিত্যিক কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক।

এই বিভাগের আরো খবর