ঢাকা, শনিবার   ২৫ জুন ২০২২,   আষাঢ় ১১ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
পদ্মায় স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
১৮দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
০৬মিনিট
:
১০সেকেন্ড
সর্বশেষ:
সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে দেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে: শিক্ষামন্ত্রী মাথা নোয়াইনি, কখনো নোয়াবো না: প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে লাখো মানুষের ঢল দেশে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ পদ্মা সেতুতে টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করা হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, বললেন প্রধানমন্ত্রী

১৯ জেলায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে

প্রতিদিনের চিত্র বিডি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

চলতি বন্যায় ফসলি জমি, গবাদি পশু ও মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষক ও খামারির। কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৯ জেলায় এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। এর মধ্যে আউশের জমি ৭৪ হাজার ৬৪৮ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৯০৪ হেক্টর, বোনা আমন ২৪ হাজার ৪৯৮ হেক্টর, সবজি ১৩ হাজার ২৯৩ হেক্টর এবং অন্যান্য ফসলি জমি ৩০ হাজার ৪৩৭ হেক্টর।

 

বন্যায় প্লাবিত জেলাগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায় ৩১ হাজার ৯৩৭ হেক্টর ফসলি জমি। এরপর সিলেট জেলায় ২৮ হাজার ৯৪৪ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৮০৩ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ১২ হাজার ৯১৪ হেক্টর। উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমির ফসল।

 

সিলেট অফিস জানায়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় চলতি বন্যায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ফসল, গবাদি পশু ও মাছের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শুধু কৃষিতে। এ ছাড়া শুধু সিলেট জেলায় প্রায় ৭১ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট  দপ্তরগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

হবিগঞ্জ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, হবিগঞ্জে বন্যায় ১৫ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির আউশ, ১৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির বোনা আমন, এক হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি এবং ৫০ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

 

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুদ্দিন বলেন, জেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৭৮ হেক্টর জমির। আউশের পাশাপাশি শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এই ফসলের বেশির ভাগই পাট। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, সদর উপজেলায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫২১ হেক্টর জমির পাট, তিন হাজার ৫৮০ হেক্টর জমির আউশ ধান, এক হাজার ৬৬১ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কদমতলা, সিতাইঝাড়, গারুহারা, উত্তর নওয়াবশ গ্রামের সব পটোলক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ওই এলাকায় পটোল চাষের ওপর নির্ভর করে অনেক কৃষক পরিবার।    

 

বগুড়া

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় এ পর্যন্ত তিন হাজার ১০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই সব জমির ফসল আর উদ্ধার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম জানান, সারিয়াকান্দি পৌরসভার আংশিক এবং নদীতীরবর্তী এলাকার ৭৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই হাজার ৪৬৯ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে ছয় হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ছয় হাজার ৯২ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, ধঞ্চে, তিল, কাউন, বাদামসহ উঠতি ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

গাইবান্ধা

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত চার উপজেলার এক হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত গবাদি পশুর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে দুই লাখ টাকা মূল্যের ২৫ টন খড় ও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার ১০ টন কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়েছে। মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটার সাড়ে চার হেক্টর জমির ৩৫টি পুকুরের ১৭ টন মাছ ভেসে গেছে।

 

শেরপুর

শেরপুরে চলতি বন্যায় কৃষি ও মৎস্য সম্পদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বিকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শেরপুর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. হুমায়ুন কবীর জানান, জেলার পাঁচ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর জমির আউশ আবাদ, ১৯০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও ৭৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার মতো।

 

রাজবাড়ী

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজবাড়ী জেলার নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন ফসলি জমি। এতে নষ্ট হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের আবাদি ফসল ও গো-খাদ্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে অপরিপক্ব তিল, পাট, নতুন আবাদি রোপা আমন ধান, বাদামসহ অন্যান্য ফসল। গত কয়েক দিনের পানিতে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার একর ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।

 

ফেনী

ফেনীর পরশুরামে বন্যায় ৭০ থেকে ৭৫ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং প্রায় ২০ হেক্টর জমির শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১৫টি মাছের ঘের। ফুলগাজী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জমির ফসলসহ মৎস্য খাত। সেখানে প্রায় ৪৪ হেক্টর আয়তনের ২৪৫টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

 

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ১২টি উপজেলায় আট হাজার ৭৬৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়নি।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিগত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরো কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ভাঙন রোধে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। ’

 

কুমিল্লা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর চরে তলিয়ে গেছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সবজি। কয়েক দিন পরেই চরের এই সবজিগুলো বাজারজাত করার কথা ছিল; কিন্তু চোখের সামনে বিনিয়োগ করা পুঁজি পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলার কমপক্ষে তিন হাজার কৃষক গোমতীর চরে সবজি চাষ করে আসছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গত রবিবার থেকে গোমতীর পানি বাড়তে শুরু করে। এক দিনের ব্যবধানে সোমবার গোমতীর চর পুরোপুরি তলিয়ে যায়। এতে সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর