Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩,   মাঘ ২২ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
সৌদি আরবে এক বছরে ১৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড আ.লীগ জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করে : প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ বাড়ল দেড় লাখ মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ল আমি বাংলাদেশে বাবার কাছে থাকতে চাই: লায়লা রিনা

কোটিপতি হতে চান? কর্মপ্রচেষ্টাই সফলতার দরজা

মামুন খান

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২২  

মামুন খান, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

মামুন খান, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

 

পনার জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাবা আর মা নামক এই দুজন মানুষ আপনার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ  সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে আসছে । আপনার বিশ বছরের জীবন পেরিয়ে যাবার পরেও এখন অব্দি আপনার হাত খরচ থেকে শুরু করে আপনার ভার্সিটিতে যাওয়া-আসা, বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে ঘুরাফেরাসহ সমস্ত খরচ তাদেরকেই বহন করতে হয়। আপনার জীবন ব্যবস্থার সবই তো পরের সম্পদে বাহাদুরি। তাহলে আপনার নিজের কি? এবার বলবেন যে, বাবা-মা সমস্ত সম্পত্তি আপনার নামে লিখে দিবে, তাই সেগুলো আপনার সম্পত্তি।

 

নাহ, একদমই না। আপনি আপনার নিজের যোগ্যতায় যে দু' টাকা ইনকাম করবেন সে দু টাকা শুধু আপনার। সেই দুই টাকার একান্ত ব্যাক্তিগত মালিক শুধুমাত্র আপনি। আপনার বাবা-মা পঁচিশ বছর যাবত আপনাকে শুধু দিয়ে আসছে, আপনি আপনার নিজের যোগ্যতায় বাবা মাকে ২৫ টাকা ইনকাম  করে দিয়েছেন কিনা সেটা একবার ভাবেন। আপনি আপনার বাবার পরিচয় দিয়ে সমাজে খুব গর্ব করে চলাফেরা করেন  যে, আপনি তাদের ছেলে। কিন্তু আপনি আপনার নিজের জন্য এমন কোনো পরিচয় দাঁড় করিয়েছেন কি? যেই পরিচয় দিয়ে আপনার বাবা গর্ব করে বলতে পারেন  আমি ওর বাবা? আপনার বাবা প্রতিদিন কষ্ট করে হেঁটে কিংবা রিকশায় করে অফিসে যান।

 

আপনার বাবার মৃত্যুর আগে আপনি আপনার নিজের যোগ্যতায় এবং  নিজের ইনকাম থেকে আপনার বাবাকে একটা গাড়ী কিনে দিতে পারবেন?  সে উপহার তাকে দিয়ে বলতে পারবেন, "বাবা সারাজীবন তো কষ্ট করে রিকশায় করে কিংবা হেটে অফিসে গিয়েছো এখন থেকে গাড়িতে করে অফিসে যাবে। এটা তোমার উপহার!" এই উপহারটা তাকে দিতে পারবেন?

 

নিজের একটা এমন যোগ্যতার জায়গা তৈরি করতে পারবেন? যেন আপনার বাবা আপনার পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করে বলতে পারে আমি ওর বাবা। আপনি অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটা সার্টিফিকেট, যা দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের কাছে চাকরি ভিক্ষা করে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি আপনার নিজের যোগ্যতায় নিজের জন্য এমনকি কোন পজিশন দাড় করিয়েছেন কি? যেখানে চাইলে আপনি অন্য আরো দশ জনকে চাকরি দিতে পারেন? সে জায়গাটা কি আপনার আছে?
আপনি চাইলেই সমাজে তুলনা করে দেখতে পারেন যে মাস্টার্স পাস করা একটা ছেলে মাত্র দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছে। অপরদিকে বাসের হেলপারি করা একটা ছেলে কিংবা রিকশাচালক মাসে ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ হাজার টাকা আয় করছে। তাহলে এই দুটোর মাঝে পার্থক্য কি? পার্থক্য হল আমরা এই মুহূর্তে শিক্ষা কে আমাদের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি।  কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না, শিক্ষা একজন মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত। শিক্ষা আমাদের মনুষ্যত্ব জাগরনের প্রধান মাধ্যম। জীবিকা উপার্জনের জন্য নয়।আর জীবিকা অর্জনের জন্য যে পথ গুলো রয়েছে সেই পথগুলোতে  চমৎকার আয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত সমাজের সমস্যা হলো, আমরা শিক্ষা অর্জন করেছি অতএব পরিশ্রমের সে সকল নীচু কাজকর্ম করে  জীবিকা অর্জন করলে মান ইজ্জত থাকবে না আমাদের। এটাই বিশ্বাস করি আমরা । আর এই কঠোর পরিশ্রমে উপার্জন করাতে আমরা বিশ্বাসী নই বলেই আমরা বাঙালিরা হেরে যাচ্ছি বারবার । আর হন্য হয়ে চাকরি খুঁজছি।  কাজকে ছোট না ভাবার কারনেই  এবং কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী বলেই আজ চাইনিজরা বিশ্ব দরবারে শীর্ষে অবস্থান করছে। তারা কোন কাজকেই ছোট করে দেখেনা।  শিক্ষিত বলেই কারো কাছে চাকরি চাইতে হবে কিংবা বড় বড় চেয়ারে আর এসির নীচে বসে চাকরি করতে হবে তারা এই মনোভাবে বিশ্বাসী নয়।  আপনি  আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের দিকে তাকান। দেখেন, এই মানুষটাই জীবনের একটা সময় জুতার কাজ করতেন। আমাদের ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতেন।  এমনকি আমাদের দেশেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আতিউর রহমান, তিনি গ্রামে ছাগল চরাতেন।  এই যে মানুষগুলো আজকে এত উঁচু  জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তারা প্রত্যেকেই কিন্তু শিক্ষিত এবং কোন সাধারণ শিক্ষিত নয় বরং উচ্চশিক্ষিত। আপনার আমার চেয়ে অনেকগুণ উঁচু লেভেলের শিক্ষা অর্জন করেছেন।  সেই মানুষগুলোও কোন কাজ কে ছোট করে দেখেন নি। বরং প্রতিটি কাজকে সম্মান দিয়েছেন।  আর যারা কাজ কে সম্মান দিতে জানে তারাই একসময় পৃথিবীতে শীর্ষে অবস্থান করে। ঠিক একইভাবে আপনিও যদি কাজকে ছোট করে না দেখেন। এবং  কাজের মাধ্যমে নিজেই নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে গড়ে তুলেন। অর্থাৎ নিজের পুঁজি নিজে তৈরি করতেন, তাহলে আপনাকে আর কারো কাছে চাকরি ভিক্ষা করতে যেতে হতো না। বাবা মায়ের কাছেও ব্যবসা করার জন্য পুঁজি চাওয়া প্রয়োজন হতো না ভিক্ষারীর মতো। বরং   আপনার নিজের আয় করা পুঁজির টাকা দিয়ে নিজেই  ব্যবসা দাঁড় করাতে পারতেন। নিজের পুঁজিতে ব্যবসা করে ব্যবসায় লোকসান হলেও আপনাকে কেউ বিন্দু পরিমাণ কথা শোনাতে পারত না। আর নিজের কঠোর পরিশ্রম করা আয়ের পুঁজি হারানোর জিদে, আপনি আবারও এই ময়দানে যুদ্ধে নামতেন আপনার পরবর্তী মিশনকে সফল করার জন্য। আর জীবন মানেই জয় পরাজয়। তীব্র জিদ, আকাঙ্ক্ষা আর লাভ-লোকসানের এই খেলায় এক সময় আপনি সফল হতেনই।  কিন্তু আপনি সফল হবেন কি করে? আপনি তো এই কার্যক্রমগুলোর একটাও করেননি। অথচ বোকার মত নিজেকে দোষ দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের পরিবেশকে দোষ দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের দেশকে দোষ দিয়ে যাচ্ছে।  আর দিনশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বলছেন আপনাকে দিয়ে হবে না। হবে কি করে? যা করার দরকার আপনি তো তার কিছুই করেননি। আপনি আপনার বাবার কষ্টের উপার্জিত টাকায় আপনার জীবনটাকে উপভোগ করছেন। তাই আপনি টাকার মূল্য বুঝতে পারছেন না। টাকা মানুষের জীবনে এমন একটা জিনিস যেখানে আপনার মৃত্যুর পর আপনার লাশটা পর্যন্ত দাফন হবে না টাকা ছাড়া। কারণ সেখানে কাফনের প্রয়োজন, দাফনের জন্য রেজিস্ট্রেশন, আতর, গোলাপ, সুরমা, চন্দন আরো অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে।  যার একটাও টাকা ছাড়া সম্ভব নয়। তবে হ্যা। টাকা ছাড়াও সম্ভব হবে। যেমন কারো দয়ার দান তথা আপনার ভিক্ষার টাকা দিয়ে। মানে বেঁচে থাকতে বাবা-মা থেকে ভিক্ষা নিয়ে জীবন পরিচালনা করলেন। আবার মৃত্যুর পরও ভিক্ষা করেই শেষ বিদায় নিলেন।  তাহলে আপনার জীবনের মূল্য কি? শ্রেষ্ঠত্ব  কি? জীবনে বাঁচতে হলে যেমন টাকার প্রয়োজন ঠিক মৃত্যুর সময়ও আপনার টাকার প্রয়োজন আছে। অর্থাৎ জীবন মানেই টাকা।

 

টাকা একজন মানুষকে কোন জায়গায় দাঁড় করায় সেটা আপনি আপনার সমাজে চারপাশে তাকালেই দেখতে পারবেন। যে মানুষটা একটু ধনী  অর্থাৎ অর্থ-বিত্তের মালিক,  খেয়াল করলে দেখবেন তার মৃত্যুর পরে জানাযায় শত হাজার মানুষের সমাগম হয়ে গিয়েছে। আর মহল্লার যারা সাধারন মানুষ। যাদের তেমন কোন টাকা পয়সা নেই। অনেকেই তাদের কে চিনে না। তাদের জানাজায় গুটিকয়েক মানুষ শুধু ঈমানী দায়িত্ব পালন করার জন্য জানাজায় গিয়েছে। কারণ টাকা ছিলো না বলে সমাজে তার আলাদা স্ট্যাটাস ছিলো না। এই মানুষটারও যদি কাড়িকাড়ি টাকা থাকতো, তাহলে দেখতেন যে তার জানাজায় তার আত্মীয়-স্বজনের কোন অভাব নেই। মনে রাখবেন আপনার পকেটে যখন টাকা আছে তখন আপনার আত্মীয়-স্বজন আর সমাদরের কোন অভাব পড়বে না। আপনার সন্তান সকলের কাছে অনেক দামী বা মূল্যবান কিছু হবে এবং আপনার অজান্তেই অনেক দামী দামী গিফট পাবে। কিন্তু আপনার পকেটে যখন দু টাকা থাকবে না তখন আপনার আপন ভাই বোন আপনাকে পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করবে। এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা। মানুষ হিসেবে আপনার চারপাশে থাকা মানুষগুলো সবসময় আপনার কাছে প্রত্যাশা করে যে,  আপনি তাদেরকে দিতে পারলেই তাদের কাছে ভালো আর না দিতে পারলেই তাদের মুখটা কালো।  আপনি তাদেরকে কি দিতে পারলেন আর কি দিতে পারলেন না তা আপনার দেখার দরকার নেই। বরং আপনি আপনার নিজেকে কি দিতে পেরেছেন? নিজের পরিবারকে কি দিতে পেরেছেন? নিজের বাবা মাকে কি দিতে পেরেছেন? সেটা একবার ভাবুন।  আমাদের শিক্ষিত সমাজ চাকরি খোঁজার পেছনে যতটা সময় ব্যয় করছে, তা যদি না করে যা কাজ পেতো তাই যদি সে করা শুরু করত তাহলে এতটা মূল্যবান সময় নষ্ট হতো না। বরং নিজের আয়  থেকে এতদিনে সে নিজেই অন্যকে চাকরি দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলত। ছোট কাজ করলে এক্ষেত্রে তার লাজ-লজ্জা যেত না। কারণ ছোট কাজ আর বড় কাজ দেখার চেয়ে মানুষ বেশি দেখে টাকার অংকের পরিমাণ।  আপনার কাছে যখন টাকা আছে তখন আপনার সালাম, শ্রদ্ধা, সুন্দরী বউ, অফিস-আদালত সবই আপনার পক্ষে। এই আপনি মানুষটাই, বিশ বছর আগে রিকশা চালিয়ে টাকা ইনকাম করেছেন নাকি কুলি কাজ করে টাকা ইনকাম করেছেন সেটা কেউ দেখবে না। বরং এই মুহূর্তে আপনার কাছে টাকা আছে মানে আপনার পেছনে অসংখ্য চাটুকার আপনাকে তেল মর্দন করতে  ও "স্যার স্যার" ডাকতে শুরু করে দিবে। আর এই দুনিয়াটা এমন একটা স্বার্থপর জায়গা যেখানে কেউ কাউকে আয়ের রাস্তা দেখিয়ে দেয় না। বরং প্রত্যেকেকে তার নিজের জায়গাটা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়। শেষ কথা হচ্ছে, বাংলার জমিনে যার দুটো হাত আছে তার কখনোই টাকার অভাব পড়বে না। বরং যারা বলে পারছি না, পারব না, এটা একান্তই তাদের হতাশার গল্প। তারা নিজেরা বোকা ও ব্যর্থ নিজেদের কারনেই।

 

আপনি আপনার নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, আপনি পারবেন, আপনাকে দ্বারাই সম্ভব এবং সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যান। দিনশেষে আপনিই সফল হবেন।



শিক্ষার্থী- ইতিহাস বিভাগ
ঢাকা কলেজ

এই বিভাগের আরো খবর