Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ আবারও পেছালো যে কোনো মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীর ফের রিমান্ডে ৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ সাংহাইয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ

অন্যের সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে শিক্ষিকা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

প্রতিবেশীর সন্তান ধার নিয়ে সেই শিশুকে নিজের দাবি করে শিক্ষা কর্মকতার্কে দেখিয়ে নিয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি। এমন অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

 

জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা আলেয়া সালমা। তিনি চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন। গর্ভধারণ না করেও এ ছুটি নিতে তিনি ছল-চাতুরী করেছেন। প্রতিবেশীর সন্তানকে নিজের শিশু দেখিয়ে এ ছুটি আদায় করেন তিনি।

 

অভিযোগ রয়েছে অনৈতিক এ ছুটির পুরো বিষয়টিতে তিনজনের যোগসাজশ রয়েছে। তারা হলেন- বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা সুলতানা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক আজিজার রহমান (বড়বাবু), সহকারী শিক্ষা কর্মকতা আবু নোমান মো. নওশাদ আলী।

 

সূত্র জানায়, আলেয়া বদলি সূত্রে ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মুনিয়ারহাট বিদ্যালয়ে যোগ দেন। ২০১৯ সালে বিয়ে করেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলা কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক শফি আহমেদ স্বপনকে। বিয়ের পর থেকে বগুড়ায় চলে যান তিনি। এরপর করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও তিনি স্কুলে যাননি। এসময় তিনি চিকিৎসাসহ নানা অজুহাতে ছুটি নিয়েছেন।

 

সর্বশেষ মা না হয়েও মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করেন এ শিক্ষিকা। চলতি বছরের ১৪ মার্চ সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য দিন দেখিয়ে ১৩ মার্চ থেকে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন আলেয়া। কিন্তু গর্ভকালীন তার শারীরিক কোনো পরিবর্তন বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের নজরে পড়েনি। এ কারণে তিনি ১৩ মার্চ কোলে শিশু সন্তান নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে হাজির হন। জমা দেন ছুটির আবেদন। এ সময় শারমীন নামের এক নারী তার সঙ্গে ছিলেন । এদিকে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঝে মধ্যে শিক্ষিকা আলেয়া স্কুলে আসতেন। আমাদের সঙ্গে দেখা হতো, তাকে দেখে সন্তান সম্ভবা মনে হয়নি।

 

অভিভাবক ফরিদুল ইসলাম, আব্দুল মমিন ও ফরিদা বেগম জানান, অলেয়া ছালমা ভুয়া সন্তান দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। আর এসব কিছু করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা ও শিক্ষা অফিসাররা। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষককরা জানান, নাগেশ্বরী থাকা অবস্থায় তিনি (আলেয়া) স্কুলে আসতেন। তবে বগুড়া যাওয়ার পর তাকে আসতে দেখতাম না। সন্তান হওয়ার বিষয়টি তারা শুধু শুনেছেন, দেখেননি।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলেয়া সালমার ঘরে প্রথম স্বামীর দুই সন্তান, দ্বিতীয় স্বামীর এক সন্তান রয়েছে। তৃতীয় (বর্তমান) স্বামীর ঘরে কোনো সন্তান না থাকলেও তিনি নিজেকে চার সন্তানের জননী হিসেবে দাবি করেন। তবে শিক্ষা অফিসে শুধুমাত্র প্রথম স্বামীর দুই সন্তানের নাম অন্তর্ভূক্ত করা আছে। শেষ যে শিশুটিকে নিজের সন্তান দেখিয়ে আলেয়া ছুটি ভোগ করছেন। সে সন্তান তার নয়। ওই শিশুটি তার বর্তমান স্বামীর বাড়ির পাশের দম্পতি আনিছুর রহমান পাশা ও শারমীনের সন্তান। ওই শিশুর আসল মা শারমীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সালমা আমার আত্মীয়ের মতো। আমি সন্তানসহ তার সঙ্গে কুড়িগ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সন্তান তার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে, সেটা আমি কিভাবে বুঝবো।’

 

অভিযুক্ত শিক্ষিকা আলেয়া সালমার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘কী হয়েছে না হয়েছে সবাই জানেন। আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) সবাইকে ম্যানেজ করে আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষা অফিসের বড়বাবু এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

 

আলেয়া আরো বলেন, ‘আপনারা নিউজ করে আমার কিছুই করতে পারবেন না। যতদিন আমার ট্রান্সফার (বদলি) হবে না, ততদিন আমি ছুটি নিয়েই চলব। আমাদের সিস্টেম আছে। চাকুরিচ্যুত করার ক্ষমতা সরকারেরও নেই।’ প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা সুলতানা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষিকা আলেয়া সালমা নিয়ম মাফিক ছুটিতে আছেন।’

 

উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক (বড়বাবু) আজিজার রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আলেয়া সালমা আমার প্রতিবেশি বোন হয়।’

 

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু নোমান মো. নওশাদ আলী বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী শিক্ষিকার মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি অন্যের বাচ্চাকে নিজের বলে চালিয়ে দেয় তাহলে কিছু করার নেই। কেননা আমরা তো আর ডিএনএ (পিতৃত্ব অথবা মাতৃত্বের) প্রমাণ পরীক্ষা করি না, করার উপায়ও নেই।’

 

নাগেশ্বরী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘আলেয়া সালমার সন্তানের বিষয়টি যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর