ঢাকা, সোমবার   ২৭ জুন ২০২২,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
পদ্মায় স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
১৮দিন
:
১৯ঘণ্টা
:
০৬মিনিট
:
১০সেকেন্ড
সর্বশেষ:
রাজধানীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নিহত ফের করোনায় আক্রান্ত ফখরুল মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ২০-২৫ টাকা পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে যানজট সৌদি পৌঁছেছেন ৩৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রী, ৬ জনের মৃত্যু পদ্মা সেতুতে প্রথম টোল দিয়ে পাড়ি দিল মোটরসাইকেল পদ্মা সেতু পারাপারে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে অভিযান

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।


নিবন্ধনহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. বিল্লাল হোসেন বলেন, যেসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স নেই, তিন দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্হা নেওয়া হবে। অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে রাজধানীতে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব মনিটরিং টিম থাকবে। ঢাকার বাইরে জেলা সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে বিষয়টি তদারক করা হবে।


রাজধানী অলিগলি থেকে শুরু করে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যন্ত হাজার হাজার ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে অনুমোদন ছাড়াই। দীর্ঘদিন মানহীন এসব ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিত্সার নামে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রমরমা বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ে পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এমনকি ভুল চিকিত্সা ও ভুল রিপোর্টে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেককে। অনেক রোগীর জীবনও চলে যাচ্ছে ভুল চিকিত্সায়। 

 

সারা দেশে বৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে প্রায় ১১ হাজার। অবৈধ আছে কত, তার সঠিক তথ্য নেই। অধিকাংশ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক চালু করে তারপর অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। এই আবেদন দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে পড়ে থাকে। 


কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আগে অনুমোদন নিতে হবে, তারপর অবকাঠামো তৈরি করবে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের টিম সরেজমিন গিয়ে দেখবে অনুমোদন দেওয়া যাবে কি না। এরপর অনুমোদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে চালু হওয়ার কথা। অনেকে অনুমোদন না নিয়ে ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করে চিকিত্সার নামে বাণিজ্য শুরু করেছে। একই সঙ্গে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এসব অবৈধ স্বাস্হ্য কেন্দ্রে সিজার করতে গিয়ে মা ও সন্তান মারা যান। 

 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুল সিজারের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব রোগী এই হাসপাতালে আসে, বেশির ভাগেরই সিজারে ত্রুটিপূর্ণ। কোনো কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, ৮০ থেকে ৮৫ ভাগেরই সিজারে ত্রুটি আছে। অনেক ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্পন্ন অপারেশন থিয়েটার নেই, অজ্ঞানকারী চিকিত্সক নেই। সেখানেও সিজারে হয়েছে বলে রোগীর অভিভাবকরা জানান।

 

এদিকে অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনার সঙ্গে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্হ্য), সিভিল সার্জন ও উপজেলা পর্যন্ত একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এইসব প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে নির্ধারিত হারে মাসোহারা পেয়ে থাকেন। নিয়মিত মাসোহারা পাওয়ার কারণে এতসব ত্রুটি থাকার পরও অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হচ্ছে না। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে বছরের পর বছর। 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর—এটা মহৎ উদ্যোগ। অভিযান শুরু হয়েছে। কতটুকু সফল হবে সেটা সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। এই ধরনের নির্দেশনা অতীতেও বহুবার অধিদপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে। কিছু দিন অভিযান চালিয়ে, পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। 

 

একাধিক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মালিক স্হানীয় প্রতিনিধিকে বলেন, অতীতেও এমন অভিযান হয়েছে কিন্তু ক্লিনিক বন্ধ হয় না, সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। আবার চালু হয়ে যায়। তবে বেড়ে যায় ঘুষের পরিমাণ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. বিল্লাল হোসেন বলেন, কেউ আবেদনপত্র জমা দিয়ে ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলতে পারবে না। আগে অনুমোদন নিতে হবে। স্হানীয় প্রশাসন যেখানে অনুমোদনহীন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পাবে সেটা বন্ধ করে দেবে। আমাদের অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা সিভিল সার্জনদের বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর