Berger Paint

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭

ব্রেকিং:
বাংলাদেশিসহ ২৫৫০ তাবলিগ জামাত সদস্যের ১০ বছর ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করোনায় আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান বাচ্চুর মৃত্যু করোনায় মারা গেলেন ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এসএএম কিবরিয়া
সর্বশেষ:
আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়াল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের গান্ধীমূর্তি ভাংচুর খুলনায় একদিনে পুলিশসহ ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত বজ্রপাতে সাত জেলায় প্রাণ গেল ১৬ জনের বিক্ষোভে বাধা দেওয়ায় এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ আজ

ঢাকাই জামদানির জানা-অজানা

তুফান মাজহার খান

প্রকাশিত: ৫ জুন ২০২০  

পঠিত: ১০
তুফান মাজহার খান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

তুফান মাজহার খান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র



শাড়ি পরেন অথচ জামদানি চেনেন না এমন নারী হয়ত এ যুগে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কারণ শাড়ির সাথে যে নামটি আষ্টেপৃষ্টে জুড়ে আছে তা হলো জামদানি। আর যারা শৌখিন নারী আছেন তারা তো জামদানি ছাড়া চলতেই পারেন না। শাড়ি বলতেই তারা বুঝে থাকেন জামদানি। এ জামদানি সম্পর্কে অনেকের মনেই জাগে নানা প্রশ্ন, জাগে জামদানি সম্পর্কে জানার নানা কৌতূহল। তবে হয়ত প্রশ্ন বা কৌতূহলগুলোর সদুত্তর খুঁজে পান না অনেকেই। তাই আজ ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই জামদানি সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। আশা করি তাতে আপনাদের সেসব প্রশ্ন ও কৌতূহলের কিছুটা হলেও তেষ্টা মেটাতে সক্ষম হব।

 

প্রথমেই আসুন জেনে নিই ঢাকাই জামদানির উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে। ঢাকাকে বলা হয়ে থাকে জামদানি শাড়ির আদি জন্মস্থান। কেননা, জামদানির প্রাচীনতম উৎস হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায় আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টাব্দের কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র গ্রন্থে। ‘পেরিপ্লাস অব দ্য এরিথ্রিয়ান সি’ বইতে এবং বিভিন্ন আরব, চীন ও ইতালির পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্ণনাতে। জামদানি কয়েক সহস্র বছর ধরেই বংশ পরম্পরায় বুনন ও বিপনন হয়ে আসছে ডেমরার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে। যুগের পর যুগ ধরে এখান থেকেই এ শাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ঢাকাই জামদানি বুননের অতুলনীয় পদ্ধতি ২০১৩ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ নির্বস্তুক সংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক (Global Indicator) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয় জামদানি। একটি মতানুসারে ‘জামদানি’ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। ফার্সি জামা অর্থ কাপড় এবং দানা অর্থ বুটি। সে অর্থে জামদানি অর্থ বুটিদানার কাপড়। এ কারণে মনে করা হয় মুসলমানেরাই ভারতীয় উপমহাদেশে জামদানির প্রচলন ও বিস্তার করেন। আরেকটি মতে, ফারসিতে জাম অর্থ এক ধরনের উৎকৃষ্ট মদ এবং দানি অর্থ পেয়ালা। জাম পরিবেশনকারী ইরানী সাকীর পরনের মসলিন কাপড় থেকে জামদানি নামের উৎপত্তি ঘটেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিযুক্ত গোমস্তারা নিজেদের স্বার্থে তাঁতীদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। তাঁতীরা কম মূল্যে কাপড় বিক্রি করতে রাজি না হলে তাদের মারধরও করা হত। অবশ্য তাঁতীদের ওপর অত্যাচার ঠেকাতে কোম্পানি আইন প্রণয়ন করেছিল। এছাড়া দেশি সুতার চেয়ে তখন বিলেতি সুতার দাম কম ছিল। ফলে ধীরে ধীরে জামদানি শিল্প কালের গহŸরে হারিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জামদানি শাড়ির উপাদান অনুযায়ী এটি মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো হাফ সিল্ক জামদানি। যার আড়াআড়ি সুতাগুলো হয় রেশমের আর লম্বালম্বি সুতাগুলো হয় তুলার। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয়টি হলো ফুল কটন জামদানি। যা সম্পূর্ণ তুলার সুতায় তৈরি। আর তৃতীয়টি হলো মসলিন। যা অত্যন্ত দামি ও পাতলা সুতায় তৈরি করা হয়। অত্যন্ত উচ্চবিলাসী রমণীরাই এ জামদানি পরতে পারে। কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। জামদানি শাড়ির আগের সব বিখ্যাত ও অবিস্মরণীয় নকশা ও বুননের অনেকগুলোই বর্তমানে বিলুপ্ত। তবে বর্তমান বাজারে জামদানির কিছুটা চাহিদা থাকার কারণে বাংলাদেশের এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে ধারণা করা যায়।

 

 

এবার আসুন জেনে নিই জামদানির ঐতিহ্যবাহী শুক্রবারের হাট সম্পর্কে। প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার খুব সকাল থেকে জামদানির হাট শুরু হয়। ফজরের নামাজের পর থেকে এ হাট চলে সকাল ৮ টা পর্যন্ত। এ হাট আগে শুধু ডেমরা বাজারে হত। কিন্তু বেশকয়েক দশক ধরে রূপগঞ্জের নোয়াপাড়াতেও একই দিনে এবং একই সময়ে হাট বসে। এ হাটে নোয়াপাড়া, মৈকুলী, রূপসী, কাজীপাড়া, মোগরাকুল, সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আসেন তাঁতীরা। জামদানি হাট মূলত পাইকারদের জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারেরা আসেন এ হাটে শাড়ির মোকাম করতে। যারা এখান থেকে জামদানি কিনে নিয়ে যান তারা মোটামুটি সবাই পরিচিত মুখ। খুচরাও বিক্রি হয়। তবে তা তুলনামূলক কম।

 

যে সকল খুচরা ক্রেতারা শখের বশে জামদানি হাটে আসতে চান এখন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। জামদানি হাটে শাড়ি বিক্রেতারা একটি অথবা দুইটি শাড়ি নিয়ে দামাদামি করে শাড়ি বিক্রি করে থাকেন। যার ফলে আপনাকে তাদের হাত থেকেই জামদানি কিনতে হবে। কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে শাড়িটির বড়জোর ২ থেকে ৩ ভাঁজ খুলে দেখানো হবে। কারণ পুরোটা খুলে দেখানের মতো জায়গা, পরিস্থিতি এবং সময় তাদের হাতে থাকে না। ভিতরে ছেঁড়া-ফাটা দেখার সুযোগ হয়ত আপনি নাও পেতে পারেন। শাড়িতে ছেঁড়া-ফাটা পরে খুঁজে পেলেও আপনি তা পরিবর্তন করা বা ফেরত দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার অনেকেই পুরাতন জামদানি শাড়ি নতুন করে কাটা করে নিয়ে আসে বিক্রি করতে। যা দেখতে একদম নতুনের মতোই। যার ফলে আপনি পুরাতন শাড়িও ভুল করে কিনে নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও রয়েছে দালালের ভয়। কোনোক্রমে যদি দালালের পাল্লায় পড়ে যান তাহলে হয়ত অবস্থা কাহিল হয়ে যেতে পারে। তাই খুচরা ক্রেতাদের এ হাট থেকে শাড়ি না কেনাই উত্তম।

 

জামদানি শড়ির যেটি মূল বিষয় তা হল সুতা। যারা নতুন ক্রেতা তারা সুতি, নাইলন ও রেশম সুতায় তৈরি শাড়ির মধ্যে পার্থক্য বুঝতেই পারবে না। তাই যদি শাড়ি হাট থেকে কিনতেই হয় তাহলে পরিচিত কোনো দক্ষ লোকের সহযোগিতা নিয়ে কিনতে পারেন। লাল, নীল, বেগুনী, হলুদ সবুজ, গোলাপী, কমলা, সাদা, কালো, আসমানীসহ প্রায় সব রঙেরই জামদানি শাড়ি হয়ে থাকে। প্রচলিত জামদানি শাড়ির বেশকিছু পাড়ের নকশার মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পাড় হচ্ছে করলা পাড়। এ দছাড়া ময়ূরপ্যাঁচ, কলমিলতা, পুঁইলতা, কচুলতা, গোলাপচর, কাটিহার, কলকাপাড়, কাঠপাড়, আঙুরলতা ইত্যাদি নকশাও বেশ জনপ্রিয়। শাড়ির জমিনে গোলাপফুল, জুঁইফুল, পদ্মফুল, তেসরী, কলার ফানা, আদার ফানা, সাবুদানা, মালা ইত্যাদির নকশা বোনা হয়। এ নকশা তোলার পদ্ধতিটিও বেশ মজার। স্বচক্ষে দেখতে হলে আপনাকে জামদানি পল্লীতে আসতেই হবে। অনেকেই আছেন যারা এতদূর ভ্রমণ করে আসার সময় হয় না বা ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ হয় না। তবে জামদানির প্রতি যদি আপনার টান থাকে বা সরাসরি তাঁত থেকে হাতে পেতে চান তাদের জন্যও রয়েছে সুব্যবস্থা। কেননা, বর্তমানে জামদানি ব্যবসায়ীরাও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেশ এগিয়ে গেছে। তারা এখন শুধু অফলাইনে নয়, অনলাইনেও পদচারণা শুরু করেছে। অর্থাৎ আপনি চাইলে অনায়াসে ঘরে বসেই জামদানি তাঁত থেকে তোলা শাড়িটি পেয়ে যেতে পারেন। উপায়টি হলো, বিসিক জামদানি পল্লীর কিছু জনপ্রিয় তাঁতের রয়েছে অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ। নতুন শাড়ি তৈরি হওয়া মাত্রই তারা সেগুলোর ছবি তুলে তাদের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে। শুধু ছবিই নয়, সাথে শাড়িগুলোর দাম, কোয়ালিটি, সুতা এবং ধরণসহ পোস্ট দিয়ে থাকে। সেখান থেকে দেখে পছন্দ হলে আপনি শুধু কমেন্টে জানালেই হবে। ব্যস, ২/১ দিনের ব্যবধানেই পেয়ে যাবেন আপনার কাক্সিক্ষত জামদানি শাড়িটি। যারা এ ধরণের সেবা দিয়ে থাকে তেমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পেইজ হলো আদি জামদানি, জামদানি বাজার, জামদানি পল্লী, পূর্ণতা জামদানি, জামদানি গ্রাম ইত্যাদি। তারা দীর্ঘদিনযাবৎ সততার সাথে এ সেবা দিয়ে আসছে।

 

এখন আপনাদের মনে নানা প্রশ্ন জাগতে পারে। যেমন, তাদের কাছ থেকে শাড়ি কিনলে শাড়ি ভালো হবে তো? অরিজিনাল ঢাকাই জামদানি তো? এসব প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে, আপনারা অবশ্যই পেইজে তাদের ঠিকানা ভালো করে দেখে নিবেন। ডেমরা অথবা রূপগঞ্জের ঠিকানা না হলে তা অরিজিনাল ঢাকাই জামদানি নাও হতে পারে। এবং শাড়ির সাথে অবশ্যই ক্রয় রশিদ সংগ্রহ করবেন। কেননা, কখনো যাচাই-বাছাই বা সমস্যাগ্রস্ত হলে আইনি সহায়তার জন্য ক্রয় রশিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মনে রাখবেন, ১০০% অরিজিনাল ঢাকাই জামদানি যুগ যুগ ধরে শীতলক্ষ্যার দুই তীরেই (ঢাকার ডেমরা ও রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া) শুধু তৈরি হচ্ছে। এ এলাকাগুলোর হলে শাড়িতে কোনো ভেজাল পাবেন না। ঢাকাই জামদানির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো সম্পূর্ণ তাঁতীদের হাতের স্পর্শে একটি একটি করে সুতা গেঁথে তৈরি করা হয়। তুলনামূলকভাবে সিরাজগঞ্জ বা টাঙ্গাইলের জামদানি শাড়ি থেকে ঢাকাই জামদানির দাম অনেকটা বেশি। কেননা সিরাজগঞ্জ বা টাঙ্গাইলের জামদানি মেশিনে তৈরি করা হয়। একদিনে অনেকসংখ্যক শাড়ি তৈরি করা যায়। আর ঢাকাই জামদানি হাতে তৈরি করা হয় বলে ১ টি শাড়ি তৈরি করতে সর্বনিম্ন ১ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত লাগে (কাজের ভিত্তিতে)। আবার কোনো শাড়িতে ১ বছরও লাগতে পারে। সুতরাং দাম বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখন আপনাদের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে মেশিনে তৈরি এবং হাতে তৈরি শাড়ির মধ্যে তফাৎ কী? উত্তরে বলা যায়, শাড়ি ব্যবহার করলে আপনি নিজেই হয়ত বুঝে যাবেন যে তফাৎটা আসলে কোথায়। মেশিনের শাড়ির কোয়ালিটি ও কাজ ঢাকাই জামদানির সাথে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। ঢাকাই জামদানির সুতা রং করতে শীলক্ষ্যার পানি আজও ব্যবহার করা হয়। কারণ, তাঁতীদের মতে সাপ্লাইয়ের পানি বেশ ক্ষারীয়। তাই সুতার রং ভালো হয় না। অপরদিকে শীতলক্ষ্যার পানি অ¤øীয় হওয়ায় সুতার রং বেশ ঝকঝকে ও সুন্দর হয়। তাছাড়া ঢাকাই জামদানি তৈরিতে শীতলক্ষ্যার পানি ব্যবহার একটি সুপ্রাচীন প্রথা। এখানকার তাঁতীদের নিজস্ব কোনো শোরুম বা প্রদর্শনীকেন্দ্র নেই। তাই তারা বেশিরভাগই হাটে এবং অনলাইনে বিক্রয় করে থাকে। তবে কেউ কেউ নিজের বাড়ির একটি কক্ষে জামদানি শাড়ি রাখে ও প্রয়োজনে প্রদর্শন করে। আবার কেউ কেউ বিসিক জামদানি পল্লীতে স্থায়ী দোকানও সাজিয়েছেন। তবে তাঁতীদের পেইজ থেকে শাড়ি অর্ডার করলে মোটামুটি অনেক সুবিধাই পাবেন। যেমন, আপনাকে অগ্রিম কোনো টাকা প্রদান করতে হবে না। কারণ, তারা ঢাকায় ক্যাশ অন ডেলিভারি (পণ্য পেয়ে মূল্য পরিশোধ) দিয়ে থাকে। আবার ঢাকার বাইরের ক্রেতা হলে কুরিয়ারে কন্ডিশনের মাধ্যমে শাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আবার কোনো ক্রেতা যদি তাদের নিজস্ব ডিজাইন বা রঙের শাড়ি অর্ডার করে বানাতে চায় তাহলে সেটাও তারা বানিয়ে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ৫০% মূল্য অগ্রিম প্রদান করতে হবে। তবে নিঃসন্দেহে এটি বলতে পারি যে, তাঁতীদের কাছ থেকে যদি সরাসরি শাড়ি কেনেন তাহলে আপনি বড় বড় শোরুম থেকে অনেকটা কম মূল্যেই কিনতে পারবেন। কেননা, তারা সরাসরি তাঁত থেকে হাতে পৌঁছে দেয়। এখানে কোনো মধ্যসত্ত¡ভোগী নেই। সাধারণত জামদানি শাড়িতে কোনো সমস্যা অর্থাৎ ছেঁড়া-ফাটা থাকে না। কারণ এটি হাতে খুব যতেœর সাথে তৈরি করা হয় এবং সরবরাহের পূর্বে কয়েকবার চেক করে দেওয়া হয়। তারপরও যদি কোনো সমস্যা হয়েই যায় তবে তা আপনি অনায়াসেই ফেরত বা পরিবর্তন করতে পারবেন। এবার বলি তাদের ডেলিভারি সিস্টেমের কথা। রেডিমেড শাড়ি অর্ডারের পর তারা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডেলিভারি করে থাকে। বেশিরভাগ সময় তারা অর্ডারের পরদিনই শাড়ি ডেলিভারি করে থাকে এবং তাদের ডেলিভারি চার্জও বেশ নগন্য। দেশের যেকোনো প্রান্তে ডেলিভারির জন্য তারা মাত্র একশো টাকা নিয়ে থাকে। সবশেষে বলি জামদানির দাম সম্পর্কে। দাম সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের শাড়ি জামদানি পল্লীতে তৈরি হয়। তবে আপনি চাইলে আরও বেশি দামের শাড়িও তৈরি করাতে পারবেন।

 

একসময় জামদানি শাড়ির বেশ চাহিদা ছিল। কিন্তু সেলোয়ার কামিজের প্রচলন আসার পর জামদানি শাড়ির বাজারে বেশ ধ্বস নেমেছিল। তাঁতীরা তখন তাঁতশিল্প ছেড়ে গার্মেন্টস শিল্পে চলে গিয়েছিল। তবে আশার কথা এই যে, বাঙালি রমনীরা  আবার তাদের দেশীয় শাড়ির কদর বুঝতে শুরু করেছে। বর্তমানে শৌখিন নারীরা বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ও অফিসিয়াল প্রোগ্রাম ও কনফারেন্সে জামদানি শাড়ি পরে থাকেন। তাই জামদানি শিল্পে আবারও একটা অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জামদানি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও গ্রহণ করেছে নানা উদ্যোগ। তাই বলা যায়, অচিরেই জামদানি শিল্পে হয়ত নতুন গতির সঞ্চার হবে। জামদানি ফিরে পাবে তার প্রাণ, হারানো যৌবন।

লেখক: কবি, কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও শিশুঅধিকার কর্মী

 

এই বিভাগের আরো খবর