শেষারম্ভ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৩১ পিএম
" মিসেস শমসেরকে লেখা চিঠিটা পড়ি :
আমার অযাচিত পত্রটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনি নিশ্চয়ই সাধ্যমতো শমসের সাহেবের দেখাশোনা করছেন। আমারই ব্যর্থতা তাকে ধরে রাখতে পারিনি। ছোট্ট কয়েকটি বিষয় যদি অনুগ্রহ করে লক্ষ রাখেন, কৃতজ্ঞ থাকব :
* শমসের সাহেব পটাশিয়াম মনোগ্লুমেট মানে টেস্টিং সল্ট খেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাজেই চাইনিজ রেস্তোরাঁর খাবার কম খাওয়াবেন।
* ঘুমের মধ্যে তার শ্বাসনালীতে তরল কিছু জমা হয়ে দমবন্ধ হয়ে আসে, এটা খুব ড্যাঞ্জারাস। এ অবস্থা হলে মাথাটা ওপরের দিকে তুলে রাখবেন।
* চিংড়ি কিংবা ইলিশ খেলে তার শরীর বেশ ফুলে যায়। এটা এলার্জি। দুটো মাছই তার খুব পছন্দের। আপনি একটু নিয়ন্ত্রণ করবেন।
* বিশেষ ওই শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারটা ঘটলে তিনি সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়েন। দয়া করে তাকে একটা লম্বা ঘুমের সুযোগ দেবেন।
* তিনি কন্যাসন্তান খুব পছন্দ করেন। এ বিষয়ে আপনি ভালো বুঝবেন।
আবারো অযাচিত উপদেশের জন্য ক্ষমা চাইছি।
আপনার ভগ্নিপ্রতিম
ঝুমুর হাসনাত।
মিসেস শমসেরকে লিখা ঝুমুরের চিঠিটি আমাকে আবার উতলা করে তুলল। শিগগির অন্য কাউকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দিলাম।
চিঠির শেষে নাম লিখেছে—ঝুমুর হাসনাত। ঝুমুর শমসের হবার আগেও তো তা-ই ছিল। বিদেশি অধ্যাপক কিংবা অন্য পেশার কাউকে বিয়ে করলে নাম লিখত ঝুমুর ফার্নন্দেজ কিংবা ঝুমুর উইলিয়ামস কিংবা ঝুমুর পাল্কিওয়ালা। তার মানে বিয়ে করেনি!
মনে হচ্ছে ঝুমুরের সাথে আমার দাম্পত্য জীবন এক হাজার এক দিনের অনেক বেশি। আমি আমার নারীশূন্য শোয়ার ঘরে ঝুমুরের পাঠানো পারফিউম স্প্রে করতে থাকি।
আমি বাতাবি লেবুর গন্ধ পাই।
আমি মশারি নামিয়ে দিই।
চেয়ারের ওপর আমার পুরোনো গেঞ্জি টেবিলের ওপর আন্ডারওয়্যার।
এসে দেখুক আমি একটুও বদলাইনি।
একটুও না।"---
ইত্তেফাকের ২১ পাতায় থেকে ২২ পাতায় যেতে বাধ্য হলাম। এমন বাধ্য করার যোগ্যতা,কয়জন রাখে। গল্পকার আন্দালিব রাশদির প্রেমের এক গল্পে চোখ পড়ে আছে। কখন যে মনের গভীরে গিয়ে জায়গা করে নিয়েছে বুঝতেই পারিনি। ইচ্ছে করছিল এক পাঠক নয়, শুধু পাঠক হয়ে যে স্বাদ মিটে না। যদি গল্পের নায়িকা,হতে পারতাম।
মন তখন নিজেকেই বলে দিচ্ছে নায়িকা হতে পারতে মানে, তুমি তো নায়িকাই। সবাই যদি এক গল্পকারের নায়িকা হতে চায় তাহলে অন্যরা কি করবে।
এ এক অদ্ভুত ভালোবাসার সমীকরণের মাঝে নিজের আসন খুঁজতে গিয়ে মনে পড়ে যায় সায়েদ এর কথা। ওর গল্পের নায়িকা কতবার হয়েছি তার হিসাব নেই। প্রতিরাতে যখন আবেগময় কন্ঠে নিলু, নি- লু, নি-- লু বলে ডাকতো, সেই সাড়ে তিনশো কিলো দূর থেকে ওর বুকে লাফিয়ে পড়তাম। ওকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে দুরত্বে মাঝে থাকা মাত্র দুই আড়াই ইঞ্চিকে মুহুর্তে হাফ ইঞ্চিতে পরিনত করতাম। সায়েদ তাতে কিছুই টের পেতো না।
বলতেই থাকতো,,,,,
নিলু,,,,,নিলু,,,,,,নিলু,,,,,,,,
আমার নিলু,,,,,
নিলু তুমি কি শুনতে পাচ্ছো আমার কথা।।।।
নিলু আমার ডাক কি তোমার কাছে পৌছায়,,,, নিলু তুমি শুধু আমার, একেবারে আমার।
সায়েদের কন্ঠ নরম হতে হতে যেনো দুর্বল হয়ে যেতো। আমি ঠিক বুঝতাম এ শরিরের দুর্বলতা নয়, এ দুর্বলতা আমাকে কাছে না পাওয়ার। সায়েদ ভিতরে ভিতরে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। কাউকে বলতে পারেনা। সরকারি বাস ভবনের বিশাল রুম। রুমের অন্যপাশে কাঁথার ভিতর অর্ধের মুখ লুকিয়ে নাবিদ কথা বলে যাচ্ছে লিমুর সাথে। অন্য সবার তুলনায় সায়েদ একেবারেই আলাদা। খুব জোর দুই চারজন বন্ধু থাকতে পারে, তাই বলে বান্ধবী থাকবে সায়েদের এটা অসম্ভব।
বুকের বামপাশটা খুব ব্যাথা করছে, কথাটা কাউকে বলতে পরিনি সে দিন। জানি সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দুরের সায়েদকে বলে ও লাভ নেই। তবুও ওকে ই বলেছি। জানতাম না তখন সায়েদ ওর মামাতো ভাইয়ের বাসায়। মাত্র মিনিট সাত হয়েছে গিয়েছে। ভাবির সাথে জমিয়ে কথা বলছে। ভাবিতো ওর কথা শুনে অবাক। যে সায়েদকে গুতা মারলে কথা বের হতো না, সে কিনা এখন আসর জমাতে পারে।
-- কি সায়েদ, তোমার এত পরিবর্তন কবে থেকে।
-- কি যে বলো ভাবি। সময় কি সব সময় এক যায়। এখন বড় হয়েছি, দুদিন পরে,,,,,
-- এই দুদিন পরে কি? চুপ হয়ে গেলি কেনো? ভেতরে ভেতরে এত্ত কিছু।
তখনি কল যায় আমার নাম্বার থেকে। কন্ঠটা খুব ভারি শুনেই চমকে উঠে সায়েদ। একটু চিন্তিত ভাবেই সবার সামনে থেকে উঠে যায়। বিষয়টা ভাবির কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। সায়েদ বারান্দায় গেলে চুপে চুপে পিছু নেয় ভাবি।
-- নিলু, এই নিলু, তোমার কন্ঠটা এমন শুনাচ্ছে কেনো? এই পাগলি কথা বলো।
-- সায়েদ দুপুর থেকে বুকের বাম পাশটা ব্যাথা করছে।
-- এই জন্যেই সেট অফ করে রেখেছিলে। আমি কয়েকবার কল করেছি। বন্ধ পেয়ে একা বাসায় ভালো লাগছিলো না, তাই ভাবির বাসায় এলাম। তুমি বিকেলে কিছু খেয়েছো।
-- না ব্যাথাটা বেড়ে যাচ্ছে। কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।
-- ঠিক আছে আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলছি।
খুব দ্রুত কল দেয় ডাক্তার কে। ওপাশের কথা শুনতে পায়না ভাবি। সায়েদ বলে,,,
-- জ্বী লেডিস, বয়স সাঁইত্রিশ হবে। হ্যাঁ বাম পাশে বলছে।
ওকে ওকে এমন করে কথা বলেই রেখে দেয়। আবার কল করে নিলুকে,,,,,,,
-- নিলু তুমি টেনশন করো না। একটু রিলাক্স ভাবে শুয়ে থাকো। আর,,,,,,,
কথা শেষ করে ড্রইংরুমে এসে দেখে ভাবি গম্ভীর হয়ে বসে আছে। সায়েদ বুঝতে পারে ভাবি সব শুনেছে। কোন নারীকে নিয়ে সায়েদের এত উত্তেজনা উৎকন্ঠ টেনশন ভাবির কাছে ভালো লাগেনি। উনি চেয়ে ছিলেন নিজের বোনের সাথেই,,,
কিন্তু হিসাব মেলাতে পারেনা। ৩২ বছর বয়সি তাজা পুরুষ ৩৭ বছরের নারীর জন্যে এত্ত এত্ত,,,,,,,
বাসায় এসেই সায়েদ কল করে, একটু একটু করে আমায় ওর অনেক কাছে নিয়ে যায়। খুব আদুরে গলায় ডাকতে থাকে। মনে হচ্ছে একই বালিসে মাথা দিয়ে দুজন কথা বলছি। আদরে আদরে ভরে দেয় পা থেকে মাথা কপাল আর নাভীর উপরিভাগে।
-- নিলু বলোতো আমি এখন তোমায় কোথায় আছি?
-- প্লিজ যেখানে আছো ঠিক সেখানেই থাকো, আর নড়াচড়া করো না। পরে,,,,,
-- পরে, এই পরে কি ? চুপ হয়ে গেলে কেনো। কি হবে নড়লে আচ্ছা বেশ নড়বো না। শুধু একটু,,,,,
-- খবরদার সায়েদ তুমি এখানেই চুপ হয়ে যাও পরে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারবো না।
এভাবেই পার হয়ে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। সাড়ে তিনশো কিলো দূরে হলেও ভালবাসায় কোন কমতি থাকে না আমাদের। সায়েদ কখনোই ভাবে নি এই ভাবে কারো সাথে ওর সম্পর্কে গড়ে উঠবে। তাও আবার এতদুর থেকে।
যতটা ভালোবাসতে শুরু করি দুজন দুজনকে ততটাই বুঝতে চেষ্টা করি।
সায়েদের পরিবার ওর জন্যে মেয়ে দেখছে, পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করতে হবে। এই ভালোবাসাকে তখন গলা টিপে কি ভাবে হত্যা করবে সায়েদ। কাউকে কিছু বলছেও না।
অফিস ছুটিতে সায়েদ গ্রামে যায়। এক সকালে মামাতো ভাইয়ের বউ কল করে ওর মাকে। অনেকক্ষণ কথা বলে। সায়েদ দূর থেকে বিষয়টা দেখে। কথা বলতে বলতে মায়ের মুখ কেমন জানি হয়ে যায়।
সায়েদ বুঝে নিশ্চই ভাবি সেইদিনের কথা গুলো মায়ের কানে তুলেছে। দুপুরে নিজের রুমে শুয়ে শুয়ে সায়েদ কথা বলছে আমার সাথে। কথার মাঝেই কল আসে ওর বসের, সাথে সাথে বলে--
-- নিলু একটু কেটে দাও তো বস কল করেছে।
এরপর আর সারাদিন কল দেয়নি সায়েদ, বিকেলে খুদে বার্তা পাঠায়,,,
" নিলু মন ভালো নেই, কালকের পরেই চলে যাবো, এর মাঝে কথা হবে খুব কম।"
নিজেই বুঝি গ্রামে গেছে সবাইকে সময় দেয়া প্রয়োজন। সন্ধ্যার দিকে নিজেই কল দেয়।
-- কি ব্যাপার জানালে কল কম করবে,আর এখুনি কল।
-- তুমিও শুরু করলে বাঁকা কথা।
-- আরে কি হয়েছে, বলো। আমি তো তোমার কথাই বললাম। বাড়িতে গেছো, সবাইকে সময় দাও, এটা স্বাভাবিক।
-- তা নয়, দুপুরে তোমার কল কেটে বসের সাথে কথা বলি, তখনি খেতে ডাকছিলো, বললাম কথা বলে আসছি। মা খুব আজেবাজে কথা বলল। আবার বিকেলে বাইরে ঘুরতে বেরুবো, মায়ের কাছে বলতে গেলেই মা যা ইচ্ছে তাই বললেন।
-- হঠাৎ এমন করলেন কেনো, তুমি সব কাজ ফেলে রেখে উনাকে সময় দাও।
-- নিলু কেটে দাও তো, মা কল দিয়েছে।
-- আপাতত আমায় কল দিও না, তুমি বাড়ি থেকে এসে কল দিও।
লাইন কেটে দিই। সায়েদ শহরে আসে কিন্তু কল দেয় না। আমি জানি এটা স্বাভাবিক, আর এই ভাবে কয়দিনই কথা হবে। সায়েদ বিয়ে করবে, বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। দুজনের ভালোবাসা আছে, হয়তো থাকবে তবে তা সায়েদের বাস্তবতায় কোন প্রভাব পড়বে না। এইভাবে পুরো মাস পার হয়ে যায়। একটা খুদে বার্তা সায়েদ পাঠায়,তাতে লেখা,,,
" নিলু আমার জীবনটা তছনছ হয়ে যাচ্ছে, আমায় ক্ষমা করো তুমি"।
একটু কথা বলতে চেয়ে বার্তা পাঠাই, সায়েদ কল করে, যা শুনি,,,
সেদিন ভাবি কল করে সায়েদের মাকে অনেক কিছু বলে, মোবাইলে কারো সাথে কথা বলে, তাকে বিয়েও করতে পারে এমন টা বললে তিনি খুব রেগে যান। দুদিনের মাঝে রিলেটিভ এক মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করে। সায়েদ জানতে পারে সেই মেয়ে নাকি ওকে ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসে। পারিবারিক ভাবেই বিয়ের কথা হয়, সামান্য কথা নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে সমস্যা ও দেখা দেয়। দেখা শুনার পর সায়েদের মায়েরাই আবার বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু বাবা মায়ের বিপরীত এ যায় সায়েদ। এত কিছু করার পর কেনো বিয়ে ভেঙ্গে দিবে, সায়েদ নিজেই বলে,,,
বিয়ে করলে এই মেয়েকেই করবো। এখন সায়েদের বিপক্ষে ওর বাবা মা। এইসব শুনার পর ওকে বলি,,,
-- আমি কি তোমার জন্যে কিছু করতে পারি।
-- নিলু আমার মাথা ঠিক নেই, তোমায় সব সত্যিই বলছি,তুমি এখন কাউকে বলো না। আজ সন্ধায় আমরা বিয়ে করবো। এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই আমার। আমি ডালিয়াকে কথা দিয়ে ফেলেছি, ওর জন্যে বেনারসি কিনতে এলাম।
-- ওকে যা ভালো মনে করো, তাই করো।
বিয়ে করে সায়েদ ওর বউ ডালিয়াকে রাখে বউয়ের বোনের বাসায়। সায়েদের মা বাবা আসে শহরে ওর বাসায়। উনারা সায়েদকে বুঝাচ্ছে, কিন্তু সায়েদ কিছুই শুনেনা। সায়েদ হানিমুন করতে যাবার জন্যে টিকিট কাটে। যে ভাবেই হোক ও আজ যাবে ডালিয়াকে নিয়ে। কোন ভাবেই ছেলেকে রাখতে না পেরে তিনি মেইন দরজার সামনে ফ্রোরে শুয়ে পড়েন। বলেন,,,,
-- যেতে হয় তুই আমার বুকের উপর দিয়ে যা।
সায়েদ মাকে সরিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বাইরে এসেই কল করে আমায়, আমি বুঝতে পারি সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, সায়েদ যা করছে ভুল করছে বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো সুখি হতে পারেনা।
ইচ্ছে করেই কখনো নিজের নাম্বার দিয়ে কল করিনি ওকে, তবে বাহিরের নাম্বার দিয়ে করেছি কয়েকবার। কখনো ধরেছে ডালিয়া আবার কখনো ছিলো বন্ধ। এইভাবে ধীরে ধীরে যোগাযোগ বন্ধের হয়ে যাওয়ার মতো। সায়েদ কল করে খুব কম, ওর কথায় বুঝতে পারি ডালিয়া আসলে কখনোই সায়েদকে ভালোবাসেনি, ভালোবাসার নাটক সাজিয়ে সায়েদকে পরিবার থেকে আলাদা করে ফেলে।
সায়েদ নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু ডালিয়ার কাছ থেকে কোন ভাবেই মুক্তির উপায় খুঁজে পায়না। কিছু কথা শেয়ার করে আমার সাথে। যে ভাবেই হোক সায়েদকে মুক্ত করা উচিৎ। সব শুনার পর বললাম,,,
-- তুমি টেনশন করো না, তবে ধৈর্য ধরতে হবে। আমি কিছু কাজ করছি।
শুরু হলো নতুন কিছু। ডালিয়ার নাম্বারটা নিই সায়েদের কাছ থেকে। একের পর এক বার্তা পাঠাতে শুরু করি।
" ডালিয়া সায়েদ সকাল বেলা ভাত থেকে পারেনা, ভাত খেলে সারাদিন ওর শরির খুব ভারি লাগে, সকালে ওকে রুটি করে দিও।"
" ডালিয়া রাতের বেলায় সায়েদ হালিম দিয়ে রুটি খেতে পছন্দ করে, ওকে তাই করে দিও।"
" ছুটির দিন দুপুরে ওকে একটু ঝাল বেশী করে দিয়ে মাংসের কারী করে দিও,তাহলে ওর শরিরটা ঠিক থাকবে,তাতে তোমারই লাভ হবে।"
" দুপুরে ও ঘুমাতে চাইলে ঘুমাতে দিও না, এতে করে ওর পারসোনাল কিছু ক্ষতি হতে পারে।"
" শারীরিক সম্পর্ক করার আগে ওকে বেশী উত্তেজিত করবেনা, কারণ ও পরেই বেশী উত্তেজিত হয়। এর ফলে তোমায় অনেক সময় দিতে পারবে।"
" তোমার পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ঘরে কখনোই রজনীগন্ধা আনবেনা। রজনীগন্ধার ঘ্রানে ও অনেক বেশী উত্তেজিত হয়ে পড়ে।"
" পিরিয়ড অবস্থায় ওর সাথে মিশবেনা, এতে ওর পুরো শরির এলার্জি হয়ে ফুলে যায়।"
" পরিবার পরিকল্পনার ব্যবস্থা তুমি নিজেই নিবে, ওকে কিছু ব্যবহার করতে দিও না, তাতে ওর সমস্যা হয়।"
" মেলামেশার আগেই চুলায় গরম পানি বসিয়ে দিও, ফ্রেস হওয়ার জন্যে ওয়াশরুমে গরম পানি দিও।"
এই ভাবে অনেক গুলো বার্তা পৌছে যায়। ডালিয়া সায়েদকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে। নিজেই ডিভোর্স লেটার রেডি করে পাঠিয়ে দেয়। সব খবর জানায় সায়েদ আমায়। আইনের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস পর ওদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সায়েদকে বলে রেখেছি সেই দিন একটা জায়গায় ডালিয়াকে নিয়ে আসতে, সেই ভাবেই নিয়ে আসে। আমিও উপস্থিত হই। সায়েদ পরিচয় করিয়ে দেয়,,,,,
-- ডালিয়া ওর নাম নিলু, আজ থেকে তোমার সাথে আমার সব শেষ, আর ওর সাথে শুরু।
-- তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে ডালিয়া।
সায়েদকে অন্যদিকে পাঠিয়ে দিয়ে বলি,,,,
-- ডালিয়া সংসার সুখের হয় নারীর কারণে, সংসার ভেঙ্গে যায় সেই নারীর কারণেই।
সায়েদ কখনোই ওর বাবা মায়ের বিরুদ্ধে যাবার মতো ছেলে নয়, ও আমায় খুব ভালোবাসে তবুও ওর বাবা মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে একমাত্র আমার কারণেই। যে দিন তোমরা হানিমুনে গিয়েছিলে সেদিনই আমার উচিৎ ছিলো তোমাদের যাওয়া বন্ধ করা। আমি তোমাকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম। তুমি তোমাকে পাল্টাতে পারোনি, পারোনি ওর পরিবারকে আপন করে নিতে।
তুমি কতটা ভালোবাসো ওকে তা প্রমাণ হয়ে গেছে, আমার কিছু মিথ্যে খুদে বার্তা পেয়ে ওকে ভুল বুঝে ডিভোর্স দিলে, আসলে এটাই চেয়েছিলাম আমি, সাহেদ আর ওর পরিবার। আমি জিতে গেলাম, আমরা জিতে গেলাম। সায়েদের সাথে আমার একটা দুরের সম্পর্ক ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। কখনো আমাদের দেখাও হয়নি, আজই প্রথম এবং শেষ দেখা। আজ থেকে সায়েদ মুক্ত, আমিই ওকে মুক্তির পথ খুঁজে দিয়েছি। ও ফিরে যাবে ওর বাবা মায়ের কাছে। ওর উপরে তোমার আর কোন অধিকার রইলো না, মনে রেখো সব কিছু শেষ করা যায় না, শেষের পরেও অনেক থেকে যায়, যেমনটি আমি থাকবো ওর সাথে।


















