শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিকেরও কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী
৩১ মে ২০২৬, ১২:৫৬ এএম
টিভির পর্দায় বিদেশের ঝকঝকে সড়ক দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—আমাদের রাস্তা এমন পরিচ্ছন্ন হয় না কেন? রাজধানীর জুরাইনে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারের নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। খিলগাঁও ও জুরাইন এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ময়লাটা পকেটে নিয়ে নেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যেমন কাজ করেন, তেমনি সে দেশের মানুষও যেখানে–সেখানে ময়লা ফেলেন না।" এ কাজ করতে কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি, মন্ত্রী, মেয়র বা ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই।"
নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে কীভাবে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন, তার সহজ উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।" নিজের পোশাকে দাগ লাগার সঙ্গে শহর নোংরা হওয়ার তুলনা করে তিনি বলেন, পরিষ্কার শার্টে চা বা খাবারের দাগ পড়লে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি বসবাসের জায়গা ময়লা থাকলেও অস্বস্তি হওয়া উচিত। সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তোলা সম্ভব।
কম ময়লা করলেই শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে
খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে দেওয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী শহরকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, এটি আমাদের দেশ, এটি আমাদের শহর। অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে, আমরা যেন যতটা সম্ভব কম ময়লা করি। তাহলেই শহর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।" শহর পরিষ্কার থাকলে নাগরিকদের চলাফেরায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকবে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শুধু পরিচ্ছন্নতার কথাই বলেননি; সমাজের সচ্ছল ও সামর্থ্যবান মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।"
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বিএনপির নেতা–কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।"
জনদুর্ভোগ এড়াতে কর্মসূচি সংক্ষিপ্তকরণ
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে মানুষের চলাচলের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, "যেহেতু আজকের এ অনুষ্ঠান রাস্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে, দেখুন কত গাড়ি চলাচল করছে, মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত করেছি।"
"দেশটি কারও একার নয়"
দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশটি কারও একার নয়। দেশটি যেমন কোনো সরকারের একার নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের একার নয়, কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার নয়। দেশটি বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের; প্রত্যেকেই এই দেশের মালিক। তাই দেশকে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে সচ্ছল মানুষের সংখ্যা বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং শিক্ষাসুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিও নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবে।
এর আগে সকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, বাংলাবাজার ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নেন।


















