স্থানীয় নির্বাচন ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত
নভেম্বরের শেষভাগে ইউপি ভোটের মাধ্যমে শুরু এই উৎসব
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
স্থানীয় সরকারের সকল স্তরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বড় কর্মযজ্ঞ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে গড়াতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরে। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনী উৎসবের সূচনা হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে। ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার পর পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছে কমিশন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই ইসি তাদের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। তপশিল ঘোষণার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী বছরের শেষ নাগাদ দেশের ৪,৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নির্বাচন উপযোগী ৩,৯৮১টি ইউনিয়নে ছয় থেকে সাতটি ধাপে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসকল ইউনিয়নে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা বা মামলা রয়েছে, সেগুলোতে আপাতত নির্বাচন স্থগিত থাকবে। বাকি ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ ২০২৭ ও ২০২৮ সালে শেষ হওয়ায় সেগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, পরিষদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রথম ধাপের ভোটে ২০২১ সালের ধারাবহিকতায় বরিশাল বিভাগের চারটি জেলাসহ রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের ৩৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনি বিধিমালা, আচরণ বিধিমালা সংস্কার, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রস্তুতি ইতিপূর্বে শেষ হয়েছে।
দেশের মোট ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন ভোটারের তালিকা হালনাগাদ শেষে মুদ্রণের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। এছাড়া, ভোটগ্রহণে সুবিধার্থে দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি সম্ভাব্য কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা যেন ভোটের সময়সূচীর সাথে না মিলে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার প্রধানদের সাথে সমন্বয় বৈঠক করেছে কমিশন। পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় নির্বাচনে সেনাবহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পড়বে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও প্র প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জামাদি পূর্বেই সংগ্রহে রাখা হয়েছে, ফলে কারিগরি কোনো বিলম্ব ছাড়াই কমিশন নির্ধারিত সময়েই স্থানীয় সরকারের এই মহা-উৎসব সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।





















