সব জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম


সব জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরিতে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের জন্য নতুন করে ২ হাজার ৫০০টি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সিলেটসহ আরও কয়েকটি স্থানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশের কিডনি রোগীদের দ্রুত ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়। এর আগে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এ সেবা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ হাজার ৫০০ নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে ৫০ থেকে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী থাকবেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

সভায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

Ads