সিরাজগঞ্জে কুমড়া বড়ির দাম নিয়ে হতাশ কারিগররা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:২৩ পিএম


সিরাজগঞ্জে কুমড়া বড়ির দাম নিয়ে হতাশ কারিগররা

সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলায় কুমড়া বড়ি তৈরি বিক্রি করে ভাগ্য বদল হয়েছে অসচ্ছল পরিবারের অনেকের। তবে এ বছর কুমড়া বড়ির দাম নিয়ে হতাশ কারিগররা। শীতের আগমনী বার্তা কড়া নাড়ছে চলনবিল এলাকার এ উপজেলায়। তাই প্রতিবছরের মতো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পড়ে গেছে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম। কারণ আগাম বিক্রি করতে পারলে দাম পাওয়া যায় বেশি।

লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে এ কাজে বাড়ির নারীদের সহযোগী হয়েছেন পুরুষরাও। বাজারে কুমড়া বড়ির বর্তমান কেজিপ্রতি খুচরা মূল্য ৭০-৮০ টাকা। তবে কারিগররা আশা করছেন আর কয়েকদিন পর দাম আরও বাড়বে। তাড়াশ উপজেলার কুমড়া বড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের কুমড়া বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় এর চাহিদা বেশি। তারা আরও জানায়, এটি সারা বছর তৈরি করা গেলেও শীতকালে বেশি তৈরি হয়।

কারণ এটা শীতের সময় খেতে বেশি মজা লাগে। গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীরা  নিজেদের ভাগ্য বদলে বহু বছর ধরে এ কুমড়া বড়ি তৈরি করে আসছেন। প্রথমদিকে কেবল পরিবারের চাহিদা মেটাতেই তৈরি করা হতো কুমড়া বড়ি। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে বড়ি তৈরিও। তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামের প্রায় ৩০-৪০ পরিবার এখনও এ কাজে নিয়োজিত।

কুমড়া বড়ির কারিগর উপজেলার নওগাঁ গ্রামের ভাংশিং পাড়ার আব্দুল হামিদ জানান, কুমড়া বড়ি ব্যবসায়ীরা প্রথমদিকে তেমন সচ্ছল ছিল না। এখন তারা অনেকটাই সচ্ছল কুমড়া বড়ি ব্যবসা করে। তা ছাড়া বড়ি তৈরির জন্য আগে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সন্ধ্যায় ডাল ভিজিয়ে রাখতেন এবং পরের দিন তারা কুমড়া বড়ি তৈরির জন্য ডাল, রঙ, তেল, টিন ও শিলপাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের কষ্ট করতে হয় না।

কারণ মেশিনের মাধ্যমে কুমড়া বড়ি তৈরির ডাল ফিনিশিং করা যায়। নওগাঁ গ্রামের প্রদীপ কর্মকার জানান, কুমড়া বড়ি তৈরি করতে তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। কিন্তু এখন অতটা পরিশ্রম করতে হয় না। কারণ এখন মেশিনের মাধ্যমে ডাল ফিনিশ করা হয়। শুধু হাতের মাধ্যমে দিতে হয় বড়িটি।

ফরিদা বেগম নামে এক বড়ি কারিগর বলেন, আগে কুমড়া বড়ি দিতাম শুধু বাড়িতে খাওয়ার জন্য। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বেশি করে

বড়ি দিয়ে এলাকায় বিক্রি করতে শুরু করি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বড় পরিসরে কুমড়া বড়ি তৈরি করছেন তিনি। সে বড়ি বিক্রি করে তার পরিবার এখন সচ্ছল।

Ads