শীতেও থেমে নেই জীবনযাত্রা
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২০ পিএম
প্রচন্ড শীত, ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো চারপাশ। এর মধ্যেও থেমে নেই গ্রামীণ জনপদের জীবন। বসে থাকার কোনো উপায় নেই এসব জনপদের মানুষগুলোর। ভোর হতে না হতেই তাদের ছুটতে হয় নিজ নিজ কাজে। সারা দেশের গ্রামীণ জনপদের মতো সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জেও একই দৃশ্য চোখে পড়ে।
সরেজমিনে উপজেলার ধামাইনগর (সরকার) পাড়া গ্রামে গিয়েও দেখা যায়, প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে ঘরে-বাইরে কাজ করে চলেছে সব বয়সী নারী ও পুরুষ।
ধামাইনগর বাজার থেকে উত্তরে-দক্ষিণে দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগোলেই গ্রামগুলো। গ্রামগুলোতে ঢুকলেই চোখে পড়বে দুচোখ ছাপানো বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। আর ধামাইনগর-নিমগাছি সড়কের দুপাশ দিয়ে নেমে গেছে অজস্র মেঠোপথ। আর সেসব পথের পাশে গজিয়ে ওঠা ঘাসে ঘাসে জমে আছে শিশিরের দানা।
কুয়াশাচ্ছন্ন চারপাশ। সূর্য কেবলই উঁকি দিচ্ছে। রাস্তার পাশে পুকুড়ের পানি সেই আলোতে চিকচিক করছে। গায়ের কাপড়ের বাধ না মেনে হাড় কাঁপিয়ে যাচ্ছে ঠান্ড-হিম শীতের বাতাস। শীতে বাঁকা হয়ে যেতে চাইছে শরীর।
অন্যদিকে উপজেলা কাবাড়িপাড়া গ্রামে ভোর বেলা কাজে ছুটে চলার হিড়িক। দড়ি হাতে ভেড়ার পাল নিয়ে মাঠে ছুটে চলেছেন রহিমা নামের এক বৃদ্ধা। ছুটছেন রিনা বেগম নামে আরও এক নারী।
ভোর হতে না হতেই এসব মানুষকে ছুটতে হয় গোয়াল ঘরের দিকে, নারীরা লেগে যান ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার কাজে। এরই মধ্যে তড়িঘড়ি সেরে ফেলতে হয় রান্নার কাজটাও। কোনো রকম খাবার মুখে দিয়েই অনেককে গবাদি পশু নিয়ে ছুটতে হয় মাঠে।
ঘুম থেকে উঠে শিশু-কিশোরও মাঠে ছুটে বেড়ায় গরু, ছাগল বা ভেড়ার পাল নিয়ে। কৃষক ছোটে ফসলের মাঠে। কারো হাতে কোদাল-পাচুন, কারো কারো কাঁধে ভার ও টুপরি।
দেখা যায়, হাফিজুর নামের একজন ধানে বীজ তলা তে ধানে বীজ রোপন করছেন। পাশেই দেখা যায় রিংকু নামের একজন তরুন টলি তে ধানের আটি লোড করছে। সাথে আছে জমির চাষি আবু সাইদ ও। টলিতে এক সাথে প্রায় ১ বিঘা জমির আটি লোড করে বাড়ি আনা যায়। খরচ কম পরিশ্রম ও কম হয়।
সংসারের কাজ শেষে নারীদেরও মাঠের ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। ওদিকে গাছে গাছে ডেকে চলেছে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, কবুতরের দল।
গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের মানুষ। তাই দিনের কাজ দিনেই করতে হয়। একদিনের কাজ ফেলে রাখলে ওই দিনটাই সংসারের জন্য ঘাটতি থাকলো। এ অবস্থায় শীতের কথা ভাবলে পেটে ভাত যাবে না। কষ্ট স্বীকার করেই বেঁচে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।
সোহেল রানা নামে আরেক কৃষক বলেন, ৩০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছি। জমি দেখভাল করতে হয় প্রতিদিন। শীতের চিন্তা করলে ঘরে আর ফসল উঠবে না। অর্ধেক ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে শীত না মেনেই প্রতিদিন ক্ষেতে যেতে হয়।
গ্রামের বাসিন্দা ছামিদুল জানান, এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির। কর্ম করেই তাদের জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। কেউ জমি চাষ করে, কেউবা গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি পালন করে। আবার অনেকেই দিনমজুরের কাজ করে। ফলে প্রতিদিনই শীত উপেক্ষা করে তাদের জীবনসংগ্রামে নামতে হয়।
ও/এফ
































