ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত আক্কেলপুরের কৃষকরা
১৫ মার্চ ২০২৫, ০৭:১২ পিএম
ইরি-বোরো ধান রোপণে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত আক্কেলপুরের কৃষক মোঃ বাচ্চু মন্ডল। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় শেষ মুহূর্তে ইরি-বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এবার ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলাজুড়ে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯১ভাগ জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন কৃষকেরা। এদিকে বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ঔষুধের দাম বেশি থাকায় ধান চাষে বিঘা প্রতি পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে কৃষকেরা জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১০হাজার ৩শত ৫০হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলাজুড়ে উফশী ৯ হাজার ৩শত ২০হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ১হাজার ৩০হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হচ্ছে যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪হাজার ৫শত ৬৩ মেট্রিক টন ।
উপজেলার পশ্চিম বিহারপুর কৃষক মোঃ বাচ্চু মন্ডল জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এই মাঠের অধিকাংশ জমিতেই ধান রোপণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। বিঘাপ্রতি ধান রোপণ করা পর্যন্ত খরচ হয় ৪হাজার ১শত টাকা আর ধান কেটে ঘরে তুলা পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারে ডিজেল তেল ও কীটনাশক ঔষুধের দাম বেশি থাকায় ও বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের মাধম্যে পানি সেচ নেওয়ায় কৃষকদের ধান চাষে বিঘা প্রতি পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এসবের দাম কমে গেলে কৃষকরা ধান চাষে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করেন।
উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আলি মাহম্মদপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ইরি বোরো আবাদের করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও এ বছর ইরি- বোরো ধান চাষে খরচ অন্যান্য বছরের চেয়ে খরচ একটু বেশি, বলে আমি চিন্তিত।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন জানান, ইরি-বোরো ধান চাষে সুষমের মাত্রায় সার প্রয়োগের জন্য ও সঙ্গে সঙ্গে লাইন, লোগো এবং পার্চিং করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০হাজার ৩শত ৫০হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১৪ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ইরি-বোরো চাষ বেশি হওয়ার সম্ভবনা। তিনি আরও বলেন, এবার উপজেলায় প্রনোদোনা কর্মসূচীর আওতায় ০১ হাজার ০৩ শত কৃষকের মাঝে হাইব্রিড জাতের ০২ কেজি করে বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।


























