রাঙামাটিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম


রাঙামাটিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব

লবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাঙামাটির স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটিতে ‘সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে জনসাধারণের জ্ঞান ও ধারণা’ জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ‘রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলা হয়।

ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (FED) রাঙামাটি, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মাথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

নীতিপত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এ খাত সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ অবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব বলে সভায় মত দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও এ খাত ভূমিকা রাখতে পারে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মাথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে সরকার আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উপযোগী ভবন ও স্থাপনা চিহ্নিত করা, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সভায় মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

এফইডি রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সদস্য ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্চিতা চাকমা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিরূপা দেওয়ান এবং রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস।

সভায় ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা ও সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক, কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।

Ads