বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:২৭ পিএম
বিগত ১৩/০১/২০১৮ তারিখের অনলাইন মিডিয়া ও ১৫/০১/২০১৮ তারিখে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় “বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি”, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা শাখাকে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ী করন বিষয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয় এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক সমিতির স্পষ্টীকরণ বক্তব্য।
উপস্থিত ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট, ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ, গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক বৃন্দ সবাইকে আমার নমস্কার জানাচ্ছি।
কিছু ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা শাখাকে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ী করন বিষয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয় তা রাঙ্গামাটি সহ সমগ্র বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষক সমিতির কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যার কারণে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার প্রধান শিক্ষকগণের চাকুরী স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত কর্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করার জন্যই আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
একজন সরকরী কর্মচারী সরকারী চাকুরীতে প্রবেশর সূচনা লগ্নে তিনি তার মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করে চাকুরীতে যোগদান করেন এবং অনতি বিলম্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করে থাকেন যা পুলিশ বিভাগ কর্তৃক গোপনীয় ভাবে তদন্ত কার্য সম্পাদন করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আমরা প্রধান শিক্ষকগণও ঠিক সে রকম কার্য সম্পাদন পূর্বক চাকুরীতে যোগদান করি ( অবশ্য ইদানিংকালে অনেক সময় নিয়োগের আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে)। সরকারী চাকুরীজীবি হিসেবে এযাবত যা জেনে এসেছি সন্তোষজনক তিন বছর চাকুরী কাল অতিক্রম হলেই সয়ংক্রিয় ভাবে চাকুরী স্থায়ী হয়ে যায়। সেই নিয়ম মোতাবেক আমদের চাকুরী স্থায়ী হয়েছে ইহাই ছিল আমাদের ধারণা। সম্ভবত (২০১৪/২০১৫) রাঙ্গামাটি জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলী হয়ে আসেন জনাব, আবু জাফর সালেহ মহোদয়। তিনিই প্রথম ধারণা দেন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে।
তবে চাকুরী স্থায়ী করণ করতে তিনি যে তথ্যগুলো দাবী করেন তার কিছু তথ্য আমাদের হাতে থাকলেও পাঁচ বছরের এসিআর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট প্রভৃতি হাতে না থাকায় এবং সেগুলো সংগ্রহ করতে পর্যাপ্ত সময় আমাদের হাতে না থাকায় তখন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা সম্ভব হয়নি।
যদিও চাকুরী স্থায়ীকরণের কাজ চলছে তবুও স্থায়ীকরণ না থাকার কারণে যা সমস্যা হওয়ার কথা সেসব সমস্য না হওয়ায় আমাদের কার্যক্রমও দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছিল।
এরপর ডিপিইও হিসেবে যোগদান করেন জনাব, জিল্লুর রহমান মহোদয় । তিনিও চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য তাগাদা দেন। এবং যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনে সমর্থ হচ্ছেন তারাই আবেদন করে চাকুরী স্থায়ীকরণ করে নিচ্ছিলেন। এভাবে তার সময় কালেও কিছু সংখ্যক শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়।
এরপর যোগদান করেন বর্তমান ডিপিইও জনাব, রওশন আলী মহোদয়। ইতোমধ্যে তিনি নোটিশ জারী করেন বিদেশ গমন, পেনশন, মেডিকেল আবেদনের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন অথবা চাকুরী স্থায়ী করণ আদেশ অবশ্যই প্রদান করতে হবে।
সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ ,
রাঙ্গমাটি সদর উপজেলার শিক্ষকগণ অনেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বদলী হয়ে এখানে এসেছেন। চাকুরীর এত বছর (আমার চাকুরী কাল ৩১ বছরের অধিক) অতিক্রম হওয়ার পর এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো আমরা কল্পনাই করতে পারিনি । আমদের ৯০%-৯৫% শিক্ষকের হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তদুপরি আমদের নিকটতম অফিসার যাদের নিকট থেকে আমরা এসিআর সংগ্রহ করবো তারা এখন বদলী হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলে গিয়েছেন। সে সব অফিসারগণের নিকট থেকে আমাদের এসিআর নিয়ে এসে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। উপরšুÍ আমাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয় । কিন্তু ০৯/০৩/২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত হওয়ার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষেরও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে আমাদের নিয়োগ ও পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছেন অধিদপ্তর অথবা মন্ত্রণালয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে তিনি আমাদের চাকুরী স্থায়ী করণের সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের সাথে আলাপ করে জানা যায় নিয়োগ, পেনশন, এলপিআর, পিআরএল, প্রমোশন যাবতীয় সুযোগ সুবিধা মঞ্জুর করেন আমাদের অধিদপ্তর বা মন্ত্রনালয়। এমতাবস্থায় জেলা পরিষদের চাকুরী স্থায়ীকরণ আদেশ ইনারা যদি গ্রহন না করেন তখন একই কাজ আমাদের দ্বিতীয় বার করতে হবে।
এমতাবস্থায় গত অক্টোবর/২০১৭ প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের অনুমতিক্রমে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং আমাদের ১৯/১০/২০১৭ তারিখ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সভায় নিম্নরুপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যথা ঃ-
(১) কর্মরত ও অংশগ্রহনকারী সকল প্রধান শিক্ষক থেকে ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা গ্রহন পূর্বক একটি ফান্ড গঠন করা হবে।
(২) কোন প্রধান শিক্ষকের নিজের কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে আমাদের কাজে অংশগ্রহনের প্রয়োজন নেই।
(৩) রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় প্রধান ও সহকারী দুইটি শিক্ষক সমিতি বিদ্যমান। কাজেই প্রধান শিক্ষক সমিতি শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকদের কাজ সম্পাদন করবেন, তবে কোন প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্টজন যেমন স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে অথবা অতœীয়, বন্ধু অংশগ্রহন করতে চাইলে আমাদের সকল নিয়ম কানুন মানা সাপেক্ষ তিনি ঐ সুপারিশকৃত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে অংশগ্রহন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ঐ প্রধান শিক্ষকই তার দায়িত্ব গ্রহন করবেন।
(৪) যেহেতু আমাদের পথ জানা নেই। এসিআর, পুলিশ ভেরিফিকেশন, যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে রাঙ্গামাটি বা ঢাকায় যোগাযোগের জন্য কম বা বেশি খরচ হতে পারে। সে কারণে একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন পূর্বক যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ উক্ত কমিটি সম্পাদন করবেন। উত্তোলিত টাকায় কাজ সমাপ্ত না হলে শিক্ষকগন আবার টাকা দিতে বাধ্য থাকিবেন এবং কাজ শেষে অতিরিক্ত টাকা থাকলে হিসাবান্তে কমিটি তা ফেরত প্রদান করিবেন।
(৫) সমুদয় অর্থ সমিতির একাউন্টে গচ্ছিত থাকবে এবং চেকের মাধ্যমে উত্তোলন পূর্বক ভাউচার পাশ করার মধ্যমে আয়-ব্যয় হিসাব সংরক্ষণ করা হবে।



















