রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে কেন সম্পাদকরা নেই : হাইকোর্ট
০৪ মে ২০১৭, ০৪:০১ পিএম
হাইকোর্ট
জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের কেন রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে (ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স) অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এবং তার সঙ্গে ছিলেন নজরুল আলম রনি।
রিটে বলা হয়, সাংবাদিকদের ভূমিকা মূল্যায়ন করে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, প্রফেসর এবং চেয়ারম্যানের মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় দৈনিকের কোনো সম্পাদকের এই পর্যায়ে রাখা হয়নি। রিটের যুক্তিতে আরও বলা হয়, ভারত, পকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং আমিরেকাতে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীদের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্ট মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ১০ নভেস্বর সাংবিধানিক পদাধিকারীদের সবার উপরে রেখে এবং জেলা জজ ও সচিবদের মর্যাদা সমান করে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংশোধনের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
রায়ে বলা হয়, সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে। একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের ‘যথাযথ সম্মান’ দিতে বলা হয়েছে রায়ে। এছাড়া জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ নম্বর থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে।
রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্র বা অন্য কোনো কার্যক্রমে যেন এর ব্যবহার না হয়।

























