কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ ৪ নেতার রায় যেকোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম


কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ ৪ নেতার রায় যেকোনো দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এখন যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

আসামিপক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি খণ্ডন করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছিল।

সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। অধীনস্তদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে কুষ্টিয়ার পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, হানিফ আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তা করেছেন এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন। এসব অভিযোগের সমর্থনে টেলিফোনে কথোপকথনের তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

মামলায় প্রসিকিউশন জানায়, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এর আগে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

Ads