যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: লিমনের মরদেহ উদ্ধার

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ এএম


যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: লিমনের মরদেহ উদ্ধার

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) দুই মেধাবী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে লিমনের মরদেহ উদ্ধার এবং তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। আদালতের নথিপত্র এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত।

তদন্তকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল সকালে লিমনকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের বাসায় এবং বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের একটি ভবনে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। পরদিন ১৭ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা তার ওপর চালানো নৃশংসতার সাক্ষ্য দেয়।

হিলসবরো কাউন্টি আদালতে জমা দেওয়া নথিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহই এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। পুলিশের ধারণা, লিমনকে হত্যার পর বৃষ্টিকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদিও বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণ দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই।

পুলিশ অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে প্রাক-বিচার আটকাদেশের আবেদন করেছে। আবেদনে এই অপরাধের ভয়াবহতা এবং সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড ছিল না; বরং ঠান্ডা মাথায় করা একটি পরিকল্পিত অপরাধ।

দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন পরিণতিতে সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর এখন বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণারত এই দুই শিক্ষার্থীর অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণ দেশের শিক্ষা অঙ্গনেও শোকের ছায়া ফেলেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে হিশামকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতের সামনে পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Ads