রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০ এএম
চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল উৎকট দুর্গন্ধ, যা স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। সেই সন্দেহের সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উন্মোচিত হয় এক ভয়ংকর দৃশ্য। নিজ বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষকসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের গলিত মরদেহ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড যা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হতে পারে।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মহানগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায়। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর সহধর্মিণী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তরুণী কন্যা আগামী চক্রবর্তী (২৮) এবং কিশোর পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪)। জানা যায়, এই পরিবারটি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবু হাসান কবির জানান, ভবনটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এই দুর্গন্ধ থেকেই মূলত হত্যার বিষয়টি সামনে আসে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, মরদেহের পচনশীল অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দু-তিন দিন আগেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, পুরো বাসাটির বৈদ্যুতিক সংযোগ সুকৌশলে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। আলমারি, টাকাপয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার স্থানগুলো এলোমেলো ও ভাঙচুর অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে ঘটনাটি ডাকাতি বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, অপরাধীরা তিন থেকে চার দিন আগে গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে একই পরিবারের এই চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। পুলিশ ও সিআইডির একাধিক দল ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।



























