ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহযোগিতার অভিযোগে জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন।
এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপিলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ইনু ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এই অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।
সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
একই অভিযোগে সারাদেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে অষ্টম অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলাতেও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

































