রাজধানীর জুরাইনে জুতা ব্যবসায়ী হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ছিনতাই হওয়া মোবাইল
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ঢাকা: রাজধানীর কদমতলীর জুরাইন এলাকায় জুতা ব্যবসায়ী মো. জনি (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সময় ছিনিয়ে নেওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সিআইডি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোহেদী হাসান ববি (২৮) ও মো. নূর আলম বরকত (২৪)। তাঁদের মধ্যে মোহেদী হাসানকে গত ১০ অক্টোবর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জুরাইন রেললাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ২টা ৩০ মিনিটে নূর আলম বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বের হন জুতা ব্যবসায়ী জনি। পরদিন ভোর ৫টার দিকে কদমতলীর জুরাইন মোস্তফা হোসেন সড়কের ঈদগাহ এলাকায় তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা বিলকিস বেগম (৬০) বাদী হয়ে ১ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
প্রাথমিকভাবে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ। গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আমিরুল ইসলাম মীর।
সিআইডি জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, যাতায়াতের বিভিন্ন পথ বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডির দাবি, ঘটনার রাতে দুই ব্যক্তি ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দেখে নিহত জনি বাধা দিলে একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। আহত জনিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১১ অক্টোবর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



































