ইশরাকের অভিযানের সেই স্পটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম


ইশরাকের অভিযানের সেই স্পটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ২৮


রাজধানীর অপরাধজগতের অন্যতম আতঙ্কের নাম দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকা। সম্প্রতি সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের পর স্থানটি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেই আলোচিত ও বহুল বিতর্কিত মাদক স্পটটিতে এবার সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মাদক কারবার ও প্রকাশ্যে মাদক সেবন পুরোপুরি বন্ধ করতে পুলিশের এই বিশেষ অ্যাকশনে কম্পন শুরু হয়েছে স্থানীয় অপরাধী চক্রের মধ্যে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার চিহ্নিত মাদক স্পটটিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এলাকাটিতে বেশ কয়েক দিন ধরে চলা অনিয়ম ও মাদক বেচাকেনা নির্মূল করতে ডিএমপির একাধিক দল সমন্বিতভাবে এ অভিযান চালায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার এই ঘুন্টিঘর মাদক স্পটেই নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে এবং আইনি প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে অস্ত্র উঁচিয়ে নিজস্ব স্টাইলে অভিযান চালান সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অস্ত্র উঁচিয়ে মন্ত্রীর এমন কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। ঘটনার পর দিনই পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কিত ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পায় ঘুন্টিঘর স্পটে। এর আগেও পুলিশ ও র্যা ব কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে এতসব আলোচনা ও একাধিক অভিযানের পরও স্পটটিতে গোপনে ও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি এবং সেবন চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ ওঠে।

ধারাবাহিক নজরদারির অংশ হিসেবে শুক্রবার পুনরায় ওই স্পটে পুলিশ এক বিশাল অভিযান চালায়। অভিযানে হাতেনাতে ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শামসুল হক, মো. ইকবাল হোসেন জিহাদ, আরাফাত হোসেন শামীম, মো. আব্দুল্লাহ রাহুল, মোহাম্মদ হোসেন, সাইমুর, ইমন, অভি, মো. রাফিন, জুনায়েদ হোসেন, মো. সাইদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. ইমরান আরাফাত, মো. মারুফ হোসেন, সাহিদুর, মো. উজ্জল, মো. রবিন, মো. মাসুদ, মো. দুলু, ফরিদ বেপারী, মো. জনি, কবির, ইউসুফ, মো. আল রাব্বি, মো. শুভ, মো. শাওন, মো. সেন্টু মিয়া এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাটিকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Ads