জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের আহ্বান

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে স্বাধীন নজরদারি ও সংস্কার অপরিহার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম


বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে স্বাধীন নজরদারি ও সংস্কার অপরিহার্য

 

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

ভলকার তুর্ক তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারি করতে পারে—এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান আমরা দীর্ঘকাল ধরে জানিয়ে আসছি।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে বেসামরিক তদারকি নিশ্চিত করতে এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং তাদের কার্যক্রমে স্বাধীন নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার তুলে ধরেছেন জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর একটি বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

ওই প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা, সুদূরপ্রসারী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কার্যকর বেসামরিক তদারকির ব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, দেশের সর্বোচ্চ মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়, যাতে সংস্থাটি কোনো প্রকারের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে পারে।

এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রণীত নতুন গুমসংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত আইনগুলো নিয়ে দেশীয় অধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁদের মতে, বর্তমান আইনগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সর্বোচ্চ মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে এসব আইনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

 

Ads