নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬: আপনার মূল বেতন কত বাড়ছে ও যেভাবে করবেন পে ফিক্সেশন

নয়ন তারা

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম


নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬: আপনার মূল বেতন কত বাড়ছে ও যেভাবে করবেন পে ফিক্সেশন

 

রকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী কোন গ্রেডের চাকরিজীবীর বেতন কত হবে এবং পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে কার বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তার সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নতুন এ বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর গণ্য হবে। নতুন স্কেলে মূল বেতন সর্বনিম্নে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখেই প্রস্তুত করা এ কাঠামোতে সর্বকনিষ্ঠ ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং ১ নম্বর গ্রেডে তা ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা (মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিব ব্যতীত)।

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার: নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি নিজের নতুন বেতন কত হবে তা হিসাব করা নিয়ে দেখা দিয়েছে কৌতুহল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শুধু গ্রেড দেখে নতুন বেতন নির্ধারণ করা যাবে না; বরং গত ৩০ জুন পর্যন্ত ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী কার মূল বেতন কত ছিল, তার ওপর ভিত্তি করে ‘পে ফিক্সেশন’ নিয়মে নতুন স্কেলের নির্দিষ্ট ধাপে বেতন নির্ধারিত হবে।

বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিসমূহঃ

নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত দুটি প্রধান পদ্ধতিতে বেতন ফিক্সেশনের বিধান রাখা হয়েছে—

প্রথম পদ্ধতি (প্রারম্ভিক ধাপে থাকা কর্মচারীদের জন্য): পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে যাঁরা বেতন পাচ্ছিলেন, তাঁরা নতুন স্কেলেরও একেবারে প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন পাবেন। যেমন—১৬তম গ্রেডে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ছিল ৯,৩০০ টাকা। নতুন স্কেলে এ গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ২১,৯০০ টাকা। ফলে ১ জুলাই থেকে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২১,৯০০ টাকা।

দ্বিতীয় পদ্ধতি (ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তদের জন্য): ৩০ জুনে প্রাপ্ত মূল বেতন যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তবে প্রথমে সেই মূল বেতন থেকে পুরোনো প্রারম্ভিক বেতন বিয়োগ করে ব্যবধান বের করতে হবে। প্রাপ্ত ব্যবধানটি নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে। যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে মিলে যায়, তবে সেটিই হবে নতুন মূল বেতন। আর যদি যোগফলটি কোনো ধাপের সঙ্গে সরাসরি না মিলে, তবে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারিত হবে।

উদাহরণস্বরূপ, ধরা যাক একজন কর্মচারীর ৩০ জুন পর্যন্ত ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩,৭৯০ টাকা। তাঁর পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১২,৫০০ টাকা। বিয়োগফল (১৩,৭৯০ - ১২,৫০০) = ১,২৯০ টাকা। নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ২৫,০০০ টাকার সঙ্গে এ ১,২৯০ টাকা যোগ করলে হয় ২৬,২৯০ টাকা। যেহেতু নতুন স্কেলে ২৬,২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই, তাই তাঁর বেতন পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬,৩০০ টাকায় নির্ধারিত হবে।

ব্যতিক্রম ও অন্যান্য নিয়মাবলী

নির্ধারিত বেতনের পদ: 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব (১ লাখ ৭২ হাজার টাকা), সিনিয়র সচিব (১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা) এবং ১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের (১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা) মূল বেতন নির্দিষ্ট হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না।

ধাপে ধাপে বর্ধিত বেতন প্রদান: 

নতুন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন কয়েক ধাপে প্রদান করা হবে। ১ম ধাপে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। ২য় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড ৭৫ শতাংশ পাবেন। ৩য় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের শতভাগ সুবিধা কার্যকর হবে। গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় বকেয়া বেতনও পাবেন চাকরিজীবীরা।

ছুটি, প্রেষণ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধি: 

প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের বেতন নিজ মূল দপ্তরের প্রাপ্যতা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে যাাঁদের অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে এবং ১ জুলাই থেকে চূড়ান্ত অবসরে গেছেন, তাঁরা নতুন স্কেলের সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর সন্তোষজনকভাবে পূর্ণ করলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পাবেন, তবে তা পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।

Ads