শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও হবে না: সারজিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম


শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও হবে না: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করে ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে আর ফিরতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌরশহরের প্রেসক্লাবসংলগ্ন হোটেল বে-অব বেঙ্গলে এনসিপির জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও এই দেশে হবে না।’

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর বিএনপির ‘শিশু সরকার’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ছয় মাস পরও যদি সরকারকে শিশু বলা হয়, তাহলে পরিপক্বতা আসবে কখন? এখন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সংকট কাটিয়ে ওঠার সময়।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং একসঙ্গে কাজ করতে চায়, তাহলে এনসিপি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে চাঁদাবাজি, প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয়করণের মতো সমস্যাগুলো অস্বীকার করলে সেগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।

এনসিপির এই নেতা বলেন, যারা শুধু কোনো প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বা দলের সমর্থক ছিলেন কিন্তু কোনো অপরাধ করেননি, তারা বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপিসহ যেকোনো দলে যেতে পারেন। তবে অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে বিএনপিকে কোনো ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারজিস বলেন, তারা আর কথার ফুলঝুরি বা শুধু প্রেজেন্টেশন দেখতে চান না; বাস্তব কাজ দেখতে চান। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন ব্যক্তি তাকে সালাম দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ চাওয়ার পর এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পরামর্শ নেওয়ার পর তা কাজে না লাগালে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না করলে কোনো ফল আসবে না।

তিনি বলেন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় বিএনপিকে শুধু কথা না বলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার চাইলে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে। তবে কাজ না করে কে কী সুবিধা বা ভাগ পাবে—এমন চিন্তা থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচিতে যেতে হবে।

আজমিরী হক বাঁধনকে হেনস্তার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অপরাধী ও স্বৈরাচারের দোসরদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে তাদের অনেককে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আজমিরী হক বাঁধন জুলাইয়ের আন্দোলনের একজন সহযোদ্ধা এবং স্বৈরাচার ও হত্যার বিরুদ্ধে তিনি মাঠে ছিলেন। তাকে হেনস্তার ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

হামলায় চোখ হারানো অলিফের প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, হামলায় রডের আঘাতে অলিফের একটি চোখ নষ্ট হয়েছে এবং সারাজীবন তিনি ওই চোখে দেখতে পারবেন না। অথচ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০-৩০ জনের হামলার বিষয় বাদ দিলেও রড দিয়ে আঘাত করা ব্যক্তিকে অন্তত গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি শুধু দলীয় কর্মী বিবেচনায় অপরাধীদের আশ্রয় দিতে শুরু করে, তাহলে একসময় দলটি অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

এ ছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এনসিপি পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান সারজিস আলম।

Ads