কন্ট্রাক্টর আজুর তেল-পুরাণ


কন্ট্রাক্টর আজুর তেল-পুরাণ

.                                                            সমকালীন রম্যগল্প
জেলার এক নম্বর ঠিকাদার নলিনী বাবু। বয়স ষাট পেরিয়ে গেছে। তাই তাঁর আশেপাশের মানুষেরা তাঁকে এখন অনেকটা সবাই আজু ডাকে। চাকমা ভাষায় আজু মানে দাদু। তিনি এখন ঠাকুরদা শ্রেণির মানুষ। সমাজেও তিনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সব পরিচয় ছাপিয়ে ‘কন্টাক্টার আজু’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ছেলেমেয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। কেউ থাকেন আমেরিকায়, কেউবা চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায়। তাই এখন কেবল স্বামী-স্ত্রী দুজনেই থাকেন খাগড়াছড়িতে। কিন্তু এখনও তিনি মোটরসাইকেল চালান অনায়াসে। তাঁর সব কাজের ডান হাত হলো তাঁর মোটরসাইকেলটি, যার নাম তিনি রেখেছেন ‘ভুজোল’। নামটা সার্থক, কারণ স্টার্ট দিলে এর সাইলেন্সার পাইপ দিয়ে যে আওয়াজ বের হয়, তাতে পাড়ার ঘুমন্ত বিড়ালও ভয় পেয়ে গাছে চড়ে বসে। সত্যি সত্যিই যেন ভূমিকম্প। চাকমা ভাষায় ভুজোল মানে ভূমিকম্প। কিন্তু আজ তিন দিন হলো ভুজোলের সেই হুঙ্কার স্তব্ধ। কারণ একটাই- তেলের ট্যাঙ্ক শূন্য।

বাংলাদেশে এখন জ্বালানি তেলের এক অদ্ভুত সংকট চলছে। তেলের দাম বৃদ্ধি হয়তো সহ্য করা যায়, কিন্তু তেল খুঁজে না পাওয়াটা যেন মরুভূমিতে এক ফোঁটা পানি খোঁজার সমান। কন্টাক্টার আজু আজ সকালে উঠেই পণ করলেন, আজ তিনি তেল জোগাড় করবেনই। তাঁর চিরচেনা গামছাটা কপালে বেঁধে, পকেটে বড় কয়েকটা পাঁচশ টাকার নোট আর হাতে একটা পাঁচ লিটারের তেলের গ্যালন নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ‘তেল-অভিযানে’।

মাইল তিনেক হেঁটে মহাজন পাড়ার পাম্পে গিয়ে কন্টাক্টার আজুর মনে হলো তিনি বুঝি কোনো রাজনৈতিক মিছিলে এসেছেন। মানুষের দীর্ঘ সারি। হৈ-হুল্লোড়, হাহাকার, হাসি-তামাশা, মৃদু ঝগড়া, মোবাইলে গান শোনার আওয়াজ- কী নেই! অথচ পাম্পের প্রবেশপথে একটা বড় সাইনবোর্ড টাঙানো। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা:
“তেল নেই, তেলের জন্য কান্নাকাটি করা নিষেধ। শোক ভুলে যার যার কাজে মন দিন।”

কন্ট্রাক্টর আজু লাইনের তোয়াক্কা না করে সরাসরি পাম্পের কর্মচারীর কাছে গেলেন। কর্মচারীর নাম মনায়া। তার বাপ-দাদার দেওয়া সুন্দর নাম হয়তো আব্দুল মান্নান হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রথা অনুসারে তার নাম হয়ে গেছে মনায়া। ছেলেটি এক হাত দিয়ে মাছি তাড়াচ্ছে আর অন্য হাত দিয়ে কানে কাঠি ঢোকাচ্ছে। কাঠি মানে ভদ্র লোকের কটন বাড।

আজু তাঁর চাকমা-চাঁটগাঁইয়া মিশ্রিত লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কায় বললেন, “অবা, মনায়া, এক পোয়া তেল দেদে.. অইত ন? ওই নজেল পাইপত যেদ্দূর জমি আঘে, সিগুন ঝাড়ি চা। এক ছটাক পেলেও অব। নাকত গন্ধ লইতে লইতে গাড়ি চালাইয়ুম আজিয়া।”

মনায়া দার্শনিকের মতো উত্তর দিল, “আজু, তেল’র গন্ধ ফাইয়ারে পাম্পর মশাঅক্কলেও অজ্ঞান অইয়ারে ঘুম যার। নজেল’র পাইপ দিয়ারে এহন তেল ন, মাইনসর দীর্ঘশ্বাস বাইর অর...। তুঁই বরং হালা জাফরর ইঁয়ুত যাই চ, ইতার এন্দে বলে তেল আইবু... ।”

আজু হাল ছাড়লেন না। মৃদু হাসি দিয়ে হনহন করে হাঁটা ধরলেন সামনের দিকে। এই বয়সেও দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে খাগড়াছড়ি বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাম্পে গিয়ে পৌঁছালেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখলেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। পাম্পের মালিক তাঁর খুব সুপরিচিত। অনেকটা সমবয়সী তারা। একটা চেয়ারে বসে হিসাবের খাতা দেখছেন মালিক। ওদিকে পাম্পের নজেল দিয়ে একজন বাইকার চেষ্টা করছেন তেল বের করতে, কিন্তু কেবল শোঁ শোঁ শব্দ বের হচ্ছে।

আজু অবাক হয়ে বললেন, “অবা ক্যান আছো তুঁই? ক্যান চলেদ্দে ইয়া? তেল হন্দে উড়ি গেইয়েগুই? আবা হিত্তে নিগিলের?”

মালিক তার হিসাবের খাতায় চোখ ডুবিয়েই রসিকতার ছলে বললেন, “অ মা! আাঁর আজু এ না? ইয়ান অইলদে ‘আধ্যাত্মিক তেল’, বুইজ্য না? চোখত দেখতা ন, বিশ্বাস গরিলেই পাইবা। আসলে ক্যান অইয়ে বুইজ্য না, মাটির তলে ত আর সম্পদ নাই, বেগ ত আঁরা তুলিয়ারে খাই ফালাই। ইতার লাই পৃথিবী বেজার অইয়ে...। এহন প্রকৃতি আঁরারে তেল’র বদল আবা দেজ্জে। এই আবা দিয়ারে যদি বাইক চালাইত্ পারন, তইলেই অনে সফল।”

আজুর মেজাজ তখন তুঙ্গে। ইচ্ছে করছিল কষে একটা চাঙমা গালি দিতে। রাগ চেপে রেখে একটা অট্টহাসি দিয়ে তিনি বললেন, “আবা দিয়ারে চাকা ঘুরিব না? ইবা কি সাইকেল নাকি?”

মালিক নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন, “চেষ্টা গরি চ’ আজু, পৃথিবীর বেগ কিছুই ত মায়া!” আজু বুঝলেন, এই পাম্পে তেলের চেয়ে আধ্যাত্মিকতার স্টক বেশি।

দুপুরের কড়া রোদ। আজুর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভিজে চপচপে হয়ে যাচ্ছে। শ’মিলের পাশের পাম্পটি বন্ধ। লাল কালিতে হাতে লেখা সাইন- ‘তেল নাই’। কষ্ট বুকে চেপে হনহন করে হাঁটতে থাকেন আজু। ফায়ার সার্ভিসের অফিস ডানে রেখে চেঙ্গী ব্রিজ পার হয়ে মোটেল পর্যটন, ডিসির হাতি ফুলকলির সমাধি, শত বুদ্ধ মূর্তি, পার্কসাইড হাসপাতাল, জিরো মাইল পার হয়ে জোর কদমে হাঁটতে থাকেন আজু। জেদ চেপেছে তাঁর মাথায়। পাশ দিয়ে ব্যাটারি চালিত টমটমগুলো হুসহুস করে চলে যাচ্ছে। একটাতেও চেপে ওঠার চেষ্টা করছেন না তিনি। গলদঘর্ম হয়ে অবশেষে আলুটিলার পাদদেশে সদ্য গড়ে ওঠা পাম্পের সামনে দূর থেকে মানুষের ভিড় দেখতে পান আজু। সেটি দেখেই আনন্দে তাঁর চোখে পানি চলে এলো। দেখলেন, সেখানে বিশাল ভিড়, ব্যান্ড পার্টি বাজছে। চাঁদের গাড়ির ছাদে বসে হাল আমলের হিন্দি গানের সুরে সুরে ব্যান্ড বাজাচ্ছে বাদকরা। সাথে হেলেদুলে নাচছে আশপাশের লোকজন। আজু ভাবলেন, নিশ্চয়ই তেলের গাড়ি চলে এসেছে, তাই সবাই আনন্দ করছে!

কাছে গিয়ে দেখলেন দৃশ্য অন্যরকম। পাম্পের মালিক তার বড় ছেলের বিয়ে দিচ্ছেন সেখানেই। পাম্পের চত্বরে প্যান্ডেল করা হয়েছে। আজু লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলেন। ঠিক তখনই ম্যানেজার দেখে ফেললেন তাঁকে। ম্যানেজার এগিয়ে এসে বললেন, “আরে আঁর আজুএনা! তেল লইবারলাই আইসনদে না? ইবা ত গ্যাসর পাম্প। কোনমুক্ক্যাত্ তেল ন পাইবেন। আইয়ন, বইয়ারে আরাম গরন। খাসির বিরিয়ানি গইজ্যি। খাই যন।”

আজু অবাক হয়ে ভাবলেন, গ্যাসের স্টেশনকে তেলের পাম্প ভেবেই তিনি এতদূর হেঁটে এসেছিলেন। অতিরিক্ত টেনশনেই হয়তো এই ভ্রম হয়েছে! আজু ম্যানেজারকে প্রশ্ন করলেন, “এদক জাগা থাক্কে পাম্পত কিত্ত্যে মেলা গরানা, ভেই?”

ম্যানেজার হাসিমুখে বললেন, “আজু, তেল ত নাই, গ্যাসও ন আইয়ের কয়েকদিন ধরিয়ারে। আরো এক সাপ্তা পর তই আইব। গাড়ি ঘোড়া নাই। স্টেশন খালি আছে। আঁরার মালিকর বুদ্ধি আছে। খালি জাগাত খানাদানার আয়োজন গজ্জ্যে দে। কনে পক্ষর মানুষ বেগ্গুন টমটম চড়িয়ারে আইবু। তেল নাই বলি কি শুভকাম বাজি থাকিবু না? বইয়ুন বইয়ুন, নবায়ন গরন অনর শক্তি।”

আজুর পেটে ক্ষুধা থাকলেও মনে ছিল হাহাকার। তিনি একটুখানি বিরিয়ানি মুখে দিয়েই নিজের পথ ধরলেন। ম্যানেজার পানের বাটা বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই গামছা কাঁধে ঝুলিয়ে রওনা দিলেন আজু।

বাড়ির কাছাকাছি এসেই আজু দেখলেন পাশের বাড়ির ছেলেটা এক অদ্ভুত কাণ্ড করছে। ছেলেটা এমনিতেই নানা অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করে। কোন এক অজপাড়া গ্রাম থেকে এসেছে। পাশের বাড়িতে ভাড়া থাকে। বিসিএস ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ছেলেটি ঢাকার কোম্পানির চাকরি ছেড়ে এখানে পড়ে আছে। কিসব কাজ করে বেড়ায়। গ্রামে গ্রামে যায়, পানিবিহীন গ্রামে পানির ব্যবস্থা করে দেয়। কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু মিলে তারা একটা গ্রুপ খুলেছে। তাদের কাজই হলো অনলাইনে ডোনেশন তুলে গ্রামে গ্রামে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পানির পাম্প স্থাপন করে পানির সুবিধা সৃষ্টি করা। ছেলেটির নাম কক্র।

কক্র তার পুরনো হিরো হোন্ডার ইঞ্জিনটা খুলে নিচে ফেলে রেখেছে। আর ইঞ্জিনের জায়গায় কতগুলো বড় বড় বক্স আর জালের মতো তার জুড়ে দিচ্ছে।

আজু তার বাড়ির গেটে ঢুকতে গিয়ে ফিরে এসে কক্র’র পাশে এসে দাঁড়ালেন। পিঠে হাত রেখে বললেন, “তে হি হক্কর মাদা হরাপ অইয়ে নাহি তর? তেল ন পেইনে পাগল অই যেইওচ্চুইদে? আ ইঞ্জিনান কিত্ত্যে হুইলচ? থে সিয়ুত হি দেবেদা লাগত্তে?” আজু কক্র উচ্চারণ করতে পারেন না। তাই নিজের মতো করেই ‘হক্কর’ ডাকেন।

কক্র একগাল হেসে বলল, “আজু, পাম্পত ঘুরি ঘুরি জুতা হয় গরি এলেদে? ইবে অলদে ‘ইলেকট্রিক কনভার্সন কিট’। মুই মর ফেলাযেইয়া বাইকরে ইক্কিনি ই-বাইক বানাঙত্তে। তেল’র দিন শেষ, সূর্যের আলোর বাংলাদেশ।” বলে নানা-নাতি জড়াজড়ি করে উচ্চস্বরে হাসল।

আজু তবুও সংশয় নিয়ে বললেন, “আ সে ব্যাটারিবু হি মর ভুজোলর সান গুরিনি টানি পারিবু নাহি?”

কক্র বলল, “টান দিনি হি গত্তে আজু? আজীবন টাইনুচ। ইয়ান অলদে একবার ফুল চার্জ দিলে চোগ হাদিনে ৬০-৭০ কিলোমিটার চালেবেদে। খরচ হদক অব হবর পাচ? মাত্র ১০-১৫ টেঙার কারেন্ট। আহ সোলারলুই চার্জ গুরি পারিলে দ হ-ন হরজই ন অব।”

আজু বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারলেন না। কিছুটা চিন্তায় পড়লেন। তিনি ভাবলেন, বিদ্যুৎ বিল তো আকাশের চাঁদ ছোঁবে। কক্র যেন তাঁর মনের কথা পড়তে পারল। সে আজুকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গেল। আজু দেখলেন, ছাদের ওপর নীল রঙের কতগুলো কাঁচের পাতের মতো প্যানেল বসানো।

“ইয়ুন অলাক্কে সোলার প্যানেল।” কক্র বুঝিয়ে বলল, “সূইয্য দেবেদা দিন্নুবু আমারে মাঙানা পহর ছিদি যার, সেই পহর দিনি মুই বাইক’র ব্যাটারি চার্জ দিম। ইয়ান অলদে নেট মিটারিং সিস্টেম। দিনত অলে সোলার প্যানেল যে কারেন্ট বানেব, সিয়ান দিনি ঘর চলে, বাইক চলে, আহ এক্কা-উক্কু বারা অলে সিয়ান সরকারি গ্রিডত পাধেই পারা যেব। মাচ্চ্যু ফুরেলে বিদ্যুৎ বিল দ ন এব, উগুদু মুই সরকার’রত্তুন টেঙা পেম্বে!”

আজুর চোখ চড়কগাছ। তিনি ভাবলেন, আমাদের দেশ তো অনেক কিছুতেই পিছিয়ে আছে। ছাদের সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে তো আমরা তাহলে সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। পাহাড়ের দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে উপকূলীয় চরাঞ্চল, সবখানেই সৌরশক্তি দিয়ে ভরপুর করে তুলতে পারি। তবে তিনি কেন এই ২০২৬ সালে এসেও তেলের পাম্পে দাঁড়িয়ে অপমানিত হচ্ছেন?

পরদিন কন্টাক্টার আজু তাঁর সারা জীবনের জমানো কিছু টাকা বের করলেন। তিনি ঠিক করলেন, তাঁর ‘ভুজোল’কে আর তেলের ওপর নির্ভর করতে দেবেন না। কক্রকে দায়িত্ব দিলেন তাঁর বাইকটিকে ইলেকট্রিক যানে রূপান্তর করার জন্য।

কয়েক সপ্তাহ পর। এলাকায় শোরগোল পড়ে গেল। কন্টাক্টার আজু তাঁর ‘ভুজোল’কে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন। কিন্তু আজ আর সেই কানফাটানো বিকট আওয়াজ নেই। বাইকটা অনেকটা বাতাসের মতো নিঃশব্দে রাজহাঁসের মতো ভেসে চলেছে। ধোঁয়া নেই, শব্দ নেই, একদম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

খাগড়াছড়িতে চড়া দামে হলেও সীমিত আকারে তেল আসতে শুরু করেছে। আজু আর পাম্পগুলোকে পাত্তা দিচ্ছেন না। আজু ইচ্ছা করেই সেই মহাজন পাড়ার পাম্পের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। দেখলেন সেই মনায়া এখনও মাছি তাড়াচ্ছে আর তেলের লাইনে মানুষ ঝগড়া করছে।

মনায়া অবাক হয়ে ডেকে বলল, “অ আজু! অনর বাইক তো দারুণ গরি চলের। তেল কি বিদেশত্তুন আইন্যন না?”

কন্ট্রাক্টর আজু বাইকটা থামিয়ে একটা মৃদু হাসি দিলেন। তারপর গামছাটা কাঁধে ঝুলিয়ে বললেন, “না দে, মুই মাদি তলেত্তুন খনিজ তেলঅ উগুরে ভরসা নগরিম আর। মুই ডাইরেক্ট ভগবানর আগাজত্তুন সূইয্য দিনে গাড়ি চালাঙত্তে। তুমি তেল’র ড্রাম পাহারা দো, মুই সূইয্যর পহর দিনে উড়ি উড়ি বেরেম!”

কন্ট্রাক্টর আজু বাইকের সুইচ দিলেন। কোনো স্টার্টের শব্দ ছাড়াই বাইকটা শোঁ করে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। পেছনে পড়ে রইল-
তেলের আকাল, ধোঁয়া আর দীর্ঘশ্বাসের সেই পুরনো জগত।

আজু এখন জানেন, মানুষের ভবিষ্যৎ তেলের ডিব্বায় নয়, সেটি ওই মুক্ত আকাশে ঝকঝক করতে থাকা সূর্যদেবের আলোয়।

লেখক পরিচিতি: 
মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক ২০২১ ভূষিত লেখক ও গবেষক এবং নির্বাহী পরিচালক, জাবারাং কল্যাণ সমিতি।

Ads