ঐক্য ও রাষ্ট্র সংস্কারে সরকার সংকল্পবদ্ধ
শরিকদের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ছবি-পিএমও)
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে অদৃশ্য থাকলেও স্বৈরাচার পতনের পর ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ‘গুপ্ত বাহিনী’র অপতৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের দেখা মেলেনি, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সেই গুপ্ত বাহিনী বিভ্রান্তি ছড়াতে তৎপর রয়েছে। তবে দেশের জনগণ তাদের অপপ্রচারে কান না দিয়ে বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ওপরই আস্থা রেখেছে। জনগণের এই আস্থা ধরে রাখতে এবং ৩১ দফা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনে শরিক দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি ও এর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে আয়োজিত এক সৌজন্য নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ নৈশভোজে শরিক দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও সরকারের মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে রাজপথের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও কুশল বিনিময় পরিলক্ষিত হয়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিভিন্ন কৌশল বা কোনো সুনির্দিষ্ট দফা বাস্তবায়নে শরিকদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে আদর্শিক কোনো বিভেদ নেই। বিগত আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে গুপ্ত বাহিনীর কোনো অস্তিত্ব ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে যাদের সাধারণ মানুষ খুঁজে পায়নি, নির্বাচনের পর তাদেরই নানা অসংলগ্ন বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলেও এই বাহিনীর অশুভ প্রভাব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান। ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ক্ষত মেরামত করা নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। মানুষের বিপুল প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ৩১ দফা আজ কেবল কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরো দেশের জনগণের সংস্কারের সনদে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নানা ডিজিটাল অপপ্রচার সত্ত্বেও জনগণ যে সঠিক রায় দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছে, সে জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম। বক্তারা সরকারের অংশীদারত্ব, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে আলোচনা ও শরিকদের মূল্যায়ন করার তাগিদ দেন। বড় ভাইদের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের গঠনমূলক ক্ষোভ-অভিযোগের ব্যাপারে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শরিকদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নৈশভোজটি সৌহার্দ্যপূর্ণ হলেও সেখানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। শরিকদের অনেকে সরকার পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও জানান, সরকার যাতে সফলতার সঙ্গে কাজ করতে পারে তারা সেই প্রত্যাশাই করেন। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সচিবালয় সংস্কারসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে শরিকদের সাবেক ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাবের পার্থক্য রয়ে গেছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার সুযোগ রাখে।































