রাজাপুরে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


রাজাপুরে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সোনারগাও (আরোয়া) হাসানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মাওলানা আ. রহমান এবং সুপার মাওলানা আ. সালাম সিকদার ওরফে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছে।

রবিবার দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার ৯জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ৪ জন কর্মচারী, শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেছেন। এর আগে চলতি বছরের ২১শে আগষ্ট এলাকাবাসীর পক্ষে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আব্দুল হাকিম সিকদার লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। এঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মোজাম্মেলকে তদন্ত করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালের ২৫ নভেম্বর স্থানীয় সোয়াইব হোসেন এবতেদায়ী ক্বারী হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তিনি ১৯৮৭ সালে ভারপ্রাপ্ত সুপার হন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সোয়াইব হোসেনের চাকরি ছিল না, অথচ তিনি ২০১২ সালে বর্তমান সুপারকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন। মাদ্রাসাটির ২২০ মাস কমিটি ও ২৬ বছর মঞ্জুরি নাই। সেখানে ১০ জন শিক্ষ কর্মচারী জাল- জালিয়াতীর মাধ্যমে কমিটি ও মঞ্জুরি বিহীন অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত দুইজন সুপার ও সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল রহমান দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আব্দুল হাকিম সিকদার অভিযোগ করেছেন, "২০১২ সালে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আ. সালাম সিকদার জালিয়াতির মাধ্যমে সোয়াইব হোসেনকে পুনরায় নিয়োগ দেন এবং কমিটি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দেন।" তিনি আরও বলেন, "যে সময় কমিটি নেই, সে সময়ই মাদ্রাসায় অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।"

অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার আ. সালাম সিকদার বলেন, "২০১২ সালে সুপার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আমি শুধুমাত্র আইন মেনে নিয়োগ দিয়েছি। সব অভিযোগ মিথ্যা।" সাবেক সভাপতি মাওলানা আ. রহমানও একই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এবিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে এবং কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। কিছু তথ্য এখনও আসেনি, সেগুলো দেখে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

স্থানীয়রা এ তদন্তের উপর নজর রাখছেন, আশা প্রকাশ করে বলেন, "দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা ফিরে আসবে।" মাদ্রাসার উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।

 

 

Ads